কালবৈশাখী ঝড়ের পর সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতায় ডুবে গেছে কুমিল্লা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কসহ বিভিন্ন অলিগলি। টানা কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে এই জলাবদ্ধতা পরীক্ষা কেন্দ্রেও হানা দিয়েছে। ফলে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বসতে হয়েছে হাঁটু পানিতে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) নগরীর কুমিল্লা ঈশ্বর পাঠশালা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীদের জুতা হাতে নিয়ে কেন্দ্র ত্যাগ করতে দেখা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা নগরীতে জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের সমস্যা। এবার ভারী বর্ষণে ঈশ্বর পাঠশালা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়ে পরীক্ষার্থীরা। কেন্দ্রের ভেতর পানি জমে থাকায় অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে বেঞ্চের ওপর পা তুলে পরীক্ষা দিচ্ছিল। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, হল পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে থাকা এক শিক্ষিকাকেও চেয়ারের ওপর পা তুলে বসে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।
ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীরা জানায়, এমন অস্বস্তিকর পরিবেশে মনোযোগ ধরে রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল। অন্যদিকে ঝোড়ো হাওয়ায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটলে অনেককে মোমবাতি জ্বালিয়েও পরীক্ষা দিতে দেখা যায়। কুমিল্লা জিলা স্কুল ও কুমিল্লা হাইস্কুলসহ অধিকাংশ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশে পরীক্ষা নিতে হয়েছে। অনেক কেন্দ্রে পানি না ঢুকলেও পরীক্ষা শেষে বের হওয়ার পর জলাবদ্ধতার কবলে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের।
জুতা হাতে কেন্দ্র থেকে বের হচ্ছে পরীক্ষার্থীরা।
নগরীর জলাবদ্ধতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। তারা জানান, বর্ষা মৌসুম এলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে থাকা এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। বছরের পর বছর পার হলেও এই সমস্যা সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) কুমিল্লার সাবেক সভাপতি বদরুল হুদা জেনু বলেন, ‘পরীক্ষা কেন্দ্রে এমন পরিস্থিতি শুধু শিক্ষার্থীদের জন্যই নয়, পুরো শিক্ষাব্যবস্থার জন্যই উদ্বেগজনক। জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত স্থায়ী সমাধান না করলে নগরবাসীকে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদের মুখোমুখি হতে হবে।’

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬
কালবৈশাখী ঝড়ের পর সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতায় ডুবে গেছে কুমিল্লা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কসহ বিভিন্ন অলিগলি। টানা কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে এই জলাবদ্ধতা পরীক্ষা কেন্দ্রেও হানা দিয়েছে। ফলে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বসতে হয়েছে হাঁটু পানিতে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) নগরীর কুমিল্লা ঈশ্বর পাঠশালা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীদের জুতা হাতে নিয়ে কেন্দ্র ত্যাগ করতে দেখা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা নগরীতে জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের সমস্যা। এবার ভারী বর্ষণে ঈশ্বর পাঠশালা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়ে পরীক্ষার্থীরা। কেন্দ্রের ভেতর পানি জমে থাকায় অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে বেঞ্চের ওপর পা তুলে পরীক্ষা দিচ্ছিল। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, হল পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে থাকা এক শিক্ষিকাকেও চেয়ারের ওপর পা তুলে বসে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।
ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীরা জানায়, এমন অস্বস্তিকর পরিবেশে মনোযোগ ধরে রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল। অন্যদিকে ঝোড়ো হাওয়ায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটলে অনেককে মোমবাতি জ্বালিয়েও পরীক্ষা দিতে দেখা যায়। কুমিল্লা জিলা স্কুল ও কুমিল্লা হাইস্কুলসহ অধিকাংশ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশে পরীক্ষা নিতে হয়েছে। অনেক কেন্দ্রে পানি না ঢুকলেও পরীক্ষা শেষে বের হওয়ার পর জলাবদ্ধতার কবলে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের।
জুতা হাতে কেন্দ্র থেকে বের হচ্ছে পরীক্ষার্থীরা।
নগরীর জলাবদ্ধতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। তারা জানান, বর্ষা মৌসুম এলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে থাকা এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। বছরের পর বছর পার হলেও এই সমস্যা সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) কুমিল্লার সাবেক সভাপতি বদরুল হুদা জেনু বলেন, ‘পরীক্ষা কেন্দ্রে এমন পরিস্থিতি শুধু শিক্ষার্থীদের জন্যই নয়, পুরো শিক্ষাব্যবস্থার জন্যই উদ্বেগজনক। জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত স্থায়ী সমাধান না করলে নগরবাসীকে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদের মুখোমুখি হতে হবে।’

আপনার মতামত লিখুন