সংবাদ

সীমান্তে বিজিবির সাঁড়াশি অভিযান

৪ মাসে ৫৯ লাখের বেশি ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪৩৮


বাকী বিল্লাহ
বাকী বিল্লাহ
প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম

৪ মাসে ৫৯ লাখের বেশি ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪৩৮

  • টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্তে চোরাকারবারীদের সঙ্গে বিজিবির বন্দুকযুদ্ধ

টেকনাফ, উখিয়া নাফনদীসহ কক্সবাজারের দুর্গম সীমান্ত এলাকাগুলো দিয়ে দেশে ঢুকছে মরণনেশা ইয়াবার বিশাল সব চালান। মাদক চোরাচালানী চক্রগুলো দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে, যার ফলে প্রায়ই সীমান্তের বিজিবির সঙ্গে তাদের গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটছে।

টেকনাফ থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে এই মাদক। প্রতি পিস ইয়াবা বর্তমানে বাজারে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চালানো অভিযানের মুখেও থামানো যাচ্ছে না। প্রায়ই রাতের অন্ধকারে বিজিবির ধাওয়ার মুখে মাদকের বস্তা নদীতে ফেলে চোরাকারবারীরা পালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে অধিকাংশ চালানই উদ্ধার হচ্ছে মালিকবিহীন অবস্থায়।

বিজিবির চার মাসের বিশেষ অভিযান

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত টেকনাফ, কক্সবাজার বান্দরবানের সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে মোট ৫৯ লাখ হাজার ৬৯৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। শুধু ইয়াবাই নয়, বিজিবির জালে ধরা পড়েছে .২৯০ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস), ১৪ বোতল এলএসডি, কেজি আফিম এবং ২৫০ গ্রাম কোকেন। মাদক পাচারের এই বিশাল কর্মযজ্ঞের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পর্যন্ত ৪৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে।

উখিয়ায় ১১ কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার

উখিয়া ব্যাটালিয়ন বিজিবি জানিয়েছে, সম্প্রতি উখিয়া এলাকায় বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় লাখ ৮০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার এই মাদকের বাজারমূল্য প্রায় ১১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। গত ১৩ মার্চ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, উখিয়ার পালংখালী সীমান্তের কাটাখাল এলাকায় মাদক কারবারীরা অবস্থান করছে। বিজিবির একটি দল সেখানে পৌঁছালে মিয়ানমার সীমান্ত থেকে আসা তিন ব্যক্তিকে চ্যালেঞ্জ করা হয়। তারা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে সাথে থাকা দুটি প্লাস্টিকের বস্তা ফেলে গভীর জঙ্গলে পালিয়ে যায়। পরে সেই বস্তা তল্লাশি করে খাকী রঙের প্যাকেটে মোড়ানো নীল রঙের বায়ুরোধী ব্যাগে থাকা লাখ ৮০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন, “পালিয়ে যাওয়া মাদক চোরাকারবারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে আমরা ওই এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি দ্বিগুণ করেছি। বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারাই নয়, মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে সবসময় জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল। আমাদের এই সাঁড়াশি অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদকের থাবা বন্দুকযুদ্ধের রোমাঞ্চকর তথ্য

গত ফেব্রুয়ারি মাসেও বিজিবির অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য এসেছে। বান্দরবানের ঘুমধুম বাইশফাঁড়ি সীমান্তে পৃথক অভিযানে লাখ ৩০ হাজার পিস ইয়াবাসহ বছির আহমেদ নামে এক রোহিঙ্গা মাদক কারবারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃত বছির উখিয়ার বালুখালী নম্বর এফডিএমএন ক্যাম্পের বাসিন্দা আবু সিদ্দিকের ছেলে। তার কাছ থেকে ৮০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা পাওয়া যায়। এছাড়া ২০ ফেব্রুয়ারি বাঁশঝাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা মালিকবিহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

সবচেয়ে বড় এবং রোমাঞ্চকর অভিযানটি পরিচালিত হয় গত ১৮ ফেব্রুয়ারি হ্নীলা-হোয়াইক্যাং সীমান্তে। সেখানে বিজিবির রামু সেক্টর, উখিয়া টেকনাফ ব্যাটালিয়নের একটি যৌথ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওত পেতে থাকে। রাত ১টার দিকে -১০ জনের একটি সশস্ত্র দলকে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেখে বিজিবি চ্যালেঞ্জ করলে মাদক কারবারীরা গুলি ছুড়তে শুরু করে। জানমাল রক্ষায় বিজিবিও পাল্টা গুলিবর্ষণ করে। নাফনদী কেওড়া বনে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এই গোলাগুলি চলে।

শেষ পর্যন্ত বিজিবির সাহসিকতার মুখে চোরাকারবারীরা মাদকের চালান ফেলে পালিয়ে যায়। সেখান থেকে লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। একই রাতে উখিয়ার মনিঘোনা এলাকা থেকে আরও লাখ ৭০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। একের পর এক দুঃসাহসিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার হলেও পাচারকারীদের তৎপরতা বন্ধ হচ্ছে না, যা বর্তমান সময়ের বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬


৪ মাসে ৫৯ লাখের বেশি ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪৩৮

প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

  • টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্তে চোরাকারবারীদের সঙ্গে বিজিবির বন্দুকযুদ্ধ

টেকনাফ, উখিয়া নাফনদীসহ কক্সবাজারের দুর্গম সীমান্ত এলাকাগুলো দিয়ে দেশে ঢুকছে মরণনেশা ইয়াবার বিশাল সব চালান। মাদক চোরাচালানী চক্রগুলো দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে, যার ফলে প্রায়ই সীমান্তের বিজিবির সঙ্গে তাদের গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটছে।

টেকনাফ থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে এই মাদক। প্রতি পিস ইয়াবা বর্তমানে বাজারে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চালানো অভিযানের মুখেও থামানো যাচ্ছে না। প্রায়ই রাতের অন্ধকারে বিজিবির ধাওয়ার মুখে মাদকের বস্তা নদীতে ফেলে চোরাকারবারীরা পালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে অধিকাংশ চালানই উদ্ধার হচ্ছে মালিকবিহীন অবস্থায়।

বিজিবির চার মাসের বিশেষ অভিযান

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত টেকনাফ, কক্সবাজার বান্দরবানের সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে মোট ৫৯ লাখ হাজার ৬৯৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। শুধু ইয়াবাই নয়, বিজিবির জালে ধরা পড়েছে .২৯০ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস), ১৪ বোতল এলএসডি, কেজি আফিম এবং ২৫০ গ্রাম কোকেন। মাদক পাচারের এই বিশাল কর্মযজ্ঞের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পর্যন্ত ৪৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে।

উখিয়ায় ১১ কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার

উখিয়া ব্যাটালিয়ন বিজিবি জানিয়েছে, সম্প্রতি উখিয়া এলাকায় বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় লাখ ৮০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার এই মাদকের বাজারমূল্য প্রায় ১১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। গত ১৩ মার্চ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, উখিয়ার পালংখালী সীমান্তের কাটাখাল এলাকায় মাদক কারবারীরা অবস্থান করছে। বিজিবির একটি দল সেখানে পৌঁছালে মিয়ানমার সীমান্ত থেকে আসা তিন ব্যক্তিকে চ্যালেঞ্জ করা হয়। তারা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে সাথে থাকা দুটি প্লাস্টিকের বস্তা ফেলে গভীর জঙ্গলে পালিয়ে যায়। পরে সেই বস্তা তল্লাশি করে খাকী রঙের প্যাকেটে মোড়ানো নীল রঙের বায়ুরোধী ব্যাগে থাকা লাখ ৮০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন, “পালিয়ে যাওয়া মাদক চোরাকারবারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে আমরা ওই এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি দ্বিগুণ করেছি। বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারাই নয়, মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে সবসময় জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল। আমাদের এই সাঁড়াশি অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদকের থাবা বন্দুকযুদ্ধের রোমাঞ্চকর তথ্য

গত ফেব্রুয়ারি মাসেও বিজিবির অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য এসেছে। বান্দরবানের ঘুমধুম বাইশফাঁড়ি সীমান্তে পৃথক অভিযানে লাখ ৩০ হাজার পিস ইয়াবাসহ বছির আহমেদ নামে এক রোহিঙ্গা মাদক কারবারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃত বছির উখিয়ার বালুখালী নম্বর এফডিএমএন ক্যাম্পের বাসিন্দা আবু সিদ্দিকের ছেলে। তার কাছ থেকে ৮০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা পাওয়া যায়। এছাড়া ২০ ফেব্রুয়ারি বাঁশঝাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা মালিকবিহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

সবচেয়ে বড় এবং রোমাঞ্চকর অভিযানটি পরিচালিত হয় গত ১৮ ফেব্রুয়ারি হ্নীলা-হোয়াইক্যাং সীমান্তে। সেখানে বিজিবির রামু সেক্টর, উখিয়া টেকনাফ ব্যাটালিয়নের একটি যৌথ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওত পেতে থাকে। রাত ১টার দিকে -১০ জনের একটি সশস্ত্র দলকে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেখে বিজিবি চ্যালেঞ্জ করলে মাদক কারবারীরা গুলি ছুড়তে শুরু করে। জানমাল রক্ষায় বিজিবিও পাল্টা গুলিবর্ষণ করে। নাফনদী কেওড়া বনে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এই গোলাগুলি চলে।

শেষ পর্যন্ত বিজিবির সাহসিকতার মুখে চোরাকারবারীরা মাদকের চালান ফেলে পালিয়ে যায়। সেখান থেকে লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। একই রাতে উখিয়ার মনিঘোনা এলাকা থেকে আরও লাখ ৭০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। একের পর এক দুঃসাহসিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার হলেও পাচারকারীদের তৎপরতা বন্ধ হচ্ছে না, যা বর্তমান সময়ের বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত