সংবাদ

কাঁচা কলা দেওয়ার ঘটনায় শিক্ষক বরখাস্ত, ক্ষুব্ধ সহকর্মীরা


প্রতিনিধি, ফরিদপুর
প্রতিনিধি, ফরিদপুর
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম

কাঁচা কলা দেওয়ার ঘটনায় শিক্ষক বরখাস্ত, ক্ষুব্ধ সহকর্মীরা
শিক্ষার্থীদের টিফিনে দেওয়া সেই খাওয়ার অনুপযোগী কাঁচা কলা। ছবি : সংবাদ

ফরিদপুর সদর উপজেলার ৯৩ নম্বর শহীদ সালাহ উদ্দীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচির টিফিনে শিক্ষার্থীদের বনরুটির সঙ্গে কাঁচা কলা দেওয়ার ঘটনায় এক সহকারী শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের এই সিদ্ধান্তে স্থানীয় শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির দায় একজন নির্দোষ শিক্ষকের ওপর চাপানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়,  রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের টিফিন হিসেবে বনরুটি ও কলা দেওয়া হয়। কিন্তু সরবরাহ করা কলাগুলো ছিল পুরোপুরি কাঁচা ও খাওয়ার অনুপযোগী। শিক্ষার্থীরা ওই কলা খেতে না পেরে বাড়িতে নিয়ে গেলে বিষয়টি অভিভাবকদের নজরে আসে।

পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষা প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মহিউদ্দীন গত মঙ্গলবার সহকারী শিক্ষক গোলাপী বেগমকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের আদেশ দেন।

বরখাস্ত হওয়া শিক্ষক গোলাপী বেগম জানান, ওই দিন প্রধান শিক্ষক ছুটিতে থাকায় তিনি ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে ছিলেন। তিনি বলেন, ‘সাগরকলা অনেক সময় বাইরে সবুজ থাকলেও ভেতরে পাকা থাকে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যেভাবে দিয়ে গেছে, আমি সেভাবেই বিতরণ করেছি। আমাদের কোনো সুনির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ বা নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। আমি পরিস্থিতির শিকার।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশলেনা খাতুন সহকর্মীর পক্ষ নিয়ে বলেন, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নিয়মিত নিম্নমানের খাবার দেয়। পাঁচ দিনেও তাদের দেওয়া কলা পাকেনি। দোষ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের হলেও শাস্তি পেলেন একজন নিরপরাধ শিক্ষক।

খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা’র পরিচালক মো. জাকির হোসেনের দাবি, খাবারগুলো দুই দিন আগেই স্কুলে পাঠানো হয়েছিল যাতে সময়মতো পেকে যায়। নির্ধারিত সময়ের আগে বিতরণ করায় এই সমস্যা হয়েছে।

তবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মহিউদ্দীন বলেন, খাওয়ার অনুপযোগী খাবার গ্রহণ ও বিতরণ করা শিক্ষকের বড় ভুল ছিল। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে অধিদপ্তরে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।

এদিকে এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছে ফরিদপুর শিক্ষক সমিতি। সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইমরান হোসেন বলেন, “প্রকৃত দোষী ঠিকাদারকে বাদ দিয়ে শিক্ষককে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে। অবিলম্বে এই বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার না করলে আমরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।”

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


কাঁচা কলা দেওয়ার ঘটনায় শিক্ষক বরখাস্ত, ক্ষুব্ধ সহকর্মীরা

প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ফরিদপুর সদর উপজেলার ৯৩ নম্বর শহীদ সালাহ উদ্দীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচির টিফিনে শিক্ষার্থীদের বনরুটির সঙ্গে কাঁচা কলা দেওয়ার ঘটনায় এক সহকারী শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের এই সিদ্ধান্তে স্থানীয় শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির দায় একজন নির্দোষ শিক্ষকের ওপর চাপানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়,  রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের টিফিন হিসেবে বনরুটি ও কলা দেওয়া হয়। কিন্তু সরবরাহ করা কলাগুলো ছিল পুরোপুরি কাঁচা ও খাওয়ার অনুপযোগী। শিক্ষার্থীরা ওই কলা খেতে না পেরে বাড়িতে নিয়ে গেলে বিষয়টি অভিভাবকদের নজরে আসে।

পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষা প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মহিউদ্দীন গত মঙ্গলবার সহকারী শিক্ষক গোলাপী বেগমকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের আদেশ দেন।

বরখাস্ত হওয়া শিক্ষক গোলাপী বেগম জানান, ওই দিন প্রধান শিক্ষক ছুটিতে থাকায় তিনি ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে ছিলেন। তিনি বলেন, ‘সাগরকলা অনেক সময় বাইরে সবুজ থাকলেও ভেতরে পাকা থাকে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যেভাবে দিয়ে গেছে, আমি সেভাবেই বিতরণ করেছি। আমাদের কোনো সুনির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ বা নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। আমি পরিস্থিতির শিকার।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশলেনা খাতুন সহকর্মীর পক্ষ নিয়ে বলেন, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নিয়মিত নিম্নমানের খাবার দেয়। পাঁচ দিনেও তাদের দেওয়া কলা পাকেনি। দোষ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের হলেও শাস্তি পেলেন একজন নিরপরাধ শিক্ষক।

খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা’র পরিচালক মো. জাকির হোসেনের দাবি, খাবারগুলো দুই দিন আগেই স্কুলে পাঠানো হয়েছিল যাতে সময়মতো পেকে যায়। নির্ধারিত সময়ের আগে বিতরণ করায় এই সমস্যা হয়েছে।

তবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মহিউদ্দীন বলেন, খাওয়ার অনুপযোগী খাবার গ্রহণ ও বিতরণ করা শিক্ষকের বড় ভুল ছিল। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে অধিদপ্তরে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।

এদিকে এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছে ফরিদপুর শিক্ষক সমিতি। সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইমরান হোসেন বলেন, “প্রকৃত দোষী ঠিকাদারকে বাদ দিয়ে শিক্ষককে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে। অবিলম্বে এই বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার না করলে আমরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।”


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত