সংবাদ

বাজেট বাস্তবায়নে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে: এমডব্লিউইআর


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম

বাজেট বাস্তবায়নে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে:  এমডব্লিউইআর
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে বর্তমান সরকারের অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট প্রস্তাব করেছেন। নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট হওয়ায় এটি নিয়ে সাধারণ মানুষের ব্যাপক কৌতূহল ও প্রত্যাশা ছিল বলে মন্তব্য করেছে মুভমেন্ট ফর ওয়ার্ল্ড এডুকেশন রাইটসের (এমডব্লিউইআর) যুগ্ম আহ্বায়ক এনায়েত উল্লাহ শরীফ (কৌশিক) ও অ্যাডভোকেট রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী।

শনিবার (১৩ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এমডব্লিউইআর-এর আহ্বায়ক ফারুক আহমাদ আরিফের স্বাক্ষর করা বিজ্ঞপ্তিতে তারা এ কথা বলেন। 

গত ২০ মে এমডব্লিউইআর জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে প্রতিবছরের ন্যায় 'জাতীয় স্বপ্নবাজেট’ প্রস্তাবে বেশকিছু বিষয়ে দাবি জানিয়ে ছিলো। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর প্রস্তাবিত বাজেটে তার বেশ প্রতিফলন হওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এমডব্লিউইআর।

এমডব্লিউইআর জানায়, বাজেটে চাল, গম, আলু, পেঁয়াজসহ খাদ্যপণ্যের উৎস কর কমানো এবং মোবাইল সিমের ট্যাক্স প্রত্যাহার ভোক্তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক। তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে মূল দাবি ছিল বাজার নিয়ন্ত্রণ ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো। করের আওতা বাড়ানোর পরিকল্পনা যেন মধ্যবিত্ত বা স্বল্প আয়ের মানুষের ওপর অতিরিক্ত বোঝা হয়ে না দাঁড়ায়, সেদিকে নজর রাখা জরুরি। 

বাজেট ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে রাজস্ব আদায় প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও স্বয়ংক্রিয় করতে হবে।পাশাপাশি, শিক্ষা খাতের আমূল সংস্কার ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে রেকর্ড ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা (জিডিপির ২ শতাংশ) বরাদ্দ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে এর সুফল পেতে শুধু অর্থ বরাদ্দই যথেষ্ট নয়; শিক্ষাক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, অপচয় রোধ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। 

নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে আইন ও বিচার বিভাগের জন্য মোট বরাদ্দ সামান্য বৃদ্ধি পেলেও উদ্বেগের বিষয় হলো উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ ২৬৫.৮৫ কোটি টাকা থেকে কমে ১৮৮.৭২ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। অথচ দেশের আদালতগুলোতে বিপুল সংখ্যক মামলা জট বিদ্যমান। নতুন আদালত ভবন নির্মাণ, বিদ্যমান আদালত সম্প্রসারণ, বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে প্রয়োজনীয় এজলাস ও অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিতকরণ, ডিজিটাল কোর্ট ব্যবস্থা চালু ও সম্প্রসারণ, বিচারকদের আবাসন ও নিরাপত্তা সুবিধা বৃদ্ধি- এসব ক্ষেত্রেই উন্নয়ন ব্যয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তারা বলেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেটের বিপরীতে বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ মাত্র প্রায় ০.২৩ শতাংশ, যা ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের জন্য তুলনামূলকভাবে সীমিত বলেই প্রতীয়মান হয়। তবে বিচার বিভাগের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রস্তাবিত বরাদ্দ গ্রহণযোগ্য হতে পারে। তারপরও মামলা জট হ্রাস, দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণ এবং একটি আধুনিক, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জনে উন্নয়ন খাতে আরও অধিক বিনিয়োগ অপরিহার্য। সে বিবেচনায়, মোট বরাদ্দ বৃদ্ধি পেলেও বিচার বিভাগের দীর্ঘমেয়াদি চাহিদা ও বাস্তব প্রয়োজনের তুলনায় এই বরাদ্দকে পর্যাপ্ত বলা কঠিন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


বাজেট বাস্তবায়নে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে: এমডব্লিউইআর

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬

featured Image

জাতীয় সংসদে বর্তমান সরকারের অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট প্রস্তাব করেছেন। নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট হওয়ায় এটি নিয়ে সাধারণ মানুষের ব্যাপক কৌতূহল ও প্রত্যাশা ছিল বলে মন্তব্য করেছে মুভমেন্ট ফর ওয়ার্ল্ড এডুকেশন রাইটসের (এমডব্লিউইআর) যুগ্ম আহ্বায়ক এনায়েত উল্লাহ শরীফ (কৌশিক) ও অ্যাডভোকেট রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী।

শনিবার (১৩ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এমডব্লিউইআর-এর আহ্বায়ক ফারুক আহমাদ আরিফের স্বাক্ষর করা বিজ্ঞপ্তিতে তারা এ কথা বলেন। 

গত ২০ মে এমডব্লিউইআর জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে প্রতিবছরের ন্যায় 'জাতীয় স্বপ্নবাজেট’ প্রস্তাবে বেশকিছু বিষয়ে দাবি জানিয়ে ছিলো। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর প্রস্তাবিত বাজেটে তার বেশ প্রতিফলন হওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এমডব্লিউইআর।

এমডব্লিউইআর জানায়, বাজেটে চাল, গম, আলু, পেঁয়াজসহ খাদ্যপণ্যের উৎস কর কমানো এবং মোবাইল সিমের ট্যাক্স প্রত্যাহার ভোক্তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক। তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে মূল দাবি ছিল বাজার নিয়ন্ত্রণ ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো। করের আওতা বাড়ানোর পরিকল্পনা যেন মধ্যবিত্ত বা স্বল্প আয়ের মানুষের ওপর অতিরিক্ত বোঝা হয়ে না দাঁড়ায়, সেদিকে নজর রাখা জরুরি। 

বাজেট ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে রাজস্ব আদায় প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও স্বয়ংক্রিয় করতে হবে।পাশাপাশি, শিক্ষা খাতের আমূল সংস্কার ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে রেকর্ড ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা (জিডিপির ২ শতাংশ) বরাদ্দ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে এর সুফল পেতে শুধু অর্থ বরাদ্দই যথেষ্ট নয়; শিক্ষাক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, অপচয় রোধ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। 

নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে আইন ও বিচার বিভাগের জন্য মোট বরাদ্দ সামান্য বৃদ্ধি পেলেও উদ্বেগের বিষয় হলো উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ ২৬৫.৮৫ কোটি টাকা থেকে কমে ১৮৮.৭২ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। অথচ দেশের আদালতগুলোতে বিপুল সংখ্যক মামলা জট বিদ্যমান। নতুন আদালত ভবন নির্মাণ, বিদ্যমান আদালত সম্প্রসারণ, বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে প্রয়োজনীয় এজলাস ও অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিতকরণ, ডিজিটাল কোর্ট ব্যবস্থা চালু ও সম্প্রসারণ, বিচারকদের আবাসন ও নিরাপত্তা সুবিধা বৃদ্ধি- এসব ক্ষেত্রেই উন্নয়ন ব্যয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তারা বলেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেটের বিপরীতে বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ মাত্র প্রায় ০.২৩ শতাংশ, যা ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের জন্য তুলনামূলকভাবে সীমিত বলেই প্রতীয়মান হয়। তবে বিচার বিভাগের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রস্তাবিত বরাদ্দ গ্রহণযোগ্য হতে পারে। তারপরও মামলা জট হ্রাস, দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণ এবং একটি আধুনিক, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জনে উন্নয়ন খাতে আরও অধিক বিনিয়োগ অপরিহার্য। সে বিবেচনায়, মোট বরাদ্দ বৃদ্ধি পেলেও বিচার বিভাগের দীর্ঘমেয়াদি চাহিদা ও বাস্তব প্রয়োজনের তুলনায় এই বরাদ্দকে পর্যাপ্ত বলা কঠিন।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত