বরিশালের আড়িয়াল খাঁ নদীর ওপর নির্মাণাধীন নেহালগঞ্জ সেতুর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সময়ে নির্মাণ শুরু হওয়া গোমা সেতু ইতিমধ্যে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হলেও এখনো শেষ হয়নি নেহালগঞ্জ সেতুর কাজ।
সড়ক বিভাগ বলছে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সেতুটি চালু হবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন বলে দাবি এলাকাবাসীর।
২০১৮ সালে শুরু হয় নেহালগঞ্জ সেতুর নির্মাণকাজ। ২০১৭ সালে ৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন বছর মেয়াদি প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। পরে ব্যয় বাড়িয়ে ৯২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
গোমা ও নেহালগঞ্জ দুটি সেতুর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ একই। ৮০০ মিটার দীর্ঘ প্রতিটি সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা করে। গোমা সেতুর কাজ সম্পন্ন হলেও নেহালগঞ্জ সেতু এখনো শেষের পথে নয়।
সেতু নির্মাণ শুরুর আগে বিআইডব্লিউটিএ নকশায় অনাপত্তি দিলেও নির্মাণকাজ শুরুর পর আপত্তি ওঠে। ফলে কাজ বন্ধ ছিল কয়েক বছর। দুই দপ্তরের মধ্যে চিঠি ও বৈঠকের পর সমঝোতা হয়। নদীর মধ্যবর্তী স্প্যানটি উঁচু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সেতুটির ১৩টি স্প্যানের মধ্যে ১২টির পিয়ারের কাজ প্রায় শেষ। দুটি এবাটমেন্টের কাজও শেষের পথে। তবে মধ্যবর্তী অংশের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে নকশা সংশোধন করে ইস্পাতের অবকাঠামো নির্মাণ করতে হচ্ছে।
নেহালগঞ্জ সেতুর সংযোগ সড়কের জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জটিলতা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। এ কারণে বরিশাল সদর উপজেলার পতাং অংশের কাজ বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে, চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের সংযোগ সড়ক প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম জানান, জমি অধিগ্রহণের চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ পাওয়া গেছে। শিগগিরই জমির মালিকদের তা বুঝিয়ে দেওয়া হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘চলতি বছর ডিসেম্বরের মধ্যে এটি হস্তান্তর ও চালু করা সম্ভব হবে।’
গোমা ও নেহালগঞ্জ সেতুর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বলছে, কাজ শুরুর সময়ের বাজারদরের সঙ্গে এখনকার বাজারদরের পার্থক্য অনেক বেশি। ফলে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হচ্ছে।
এম মাহফুজ খান নামের এক ঠিকাদার জানান, ‘যে কাজে আগে ৫০-৬০ কোটি টাকা লাগত, এখন সেই কাজে ব্যয় তিনগুণ বেড়েছে। প্রকৌশলগত পরিকল্পনার ভুলের খেসারত ঠিকাদারিকেও দিতে হচ্ছে।’
এই সেতুটি নির্মিত হলে বরিশাল, বাউফল, ভোলা, লক্ষ্মীপাশা ও দুমকি মহাসড়কের সংযোগ স্থাপন হবে। প্রায় লাখো মানুষ উপকৃত হবেন। কিন্তু বারবার মেয়াদ বাড়ায় এবং কাজ শেষ না হওয়ায় মানুষের ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে।
এখন দেখার বিষয়, সড়ক বিভাগের আশ্বাস মতো আগামী ডিসেম্বরেই শেষ হয় নেহালগঞ্জ সেতু, নাকি অনির্দিষ্টকালের জন্য ঝুলে থাকে এই গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ স্থাপনাটি।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬
বরিশালের আড়িয়াল খাঁ নদীর ওপর নির্মাণাধীন নেহালগঞ্জ সেতুর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সময়ে নির্মাণ শুরু হওয়া গোমা সেতু ইতিমধ্যে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হলেও এখনো শেষ হয়নি নেহালগঞ্জ সেতুর কাজ।
সড়ক বিভাগ বলছে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সেতুটি চালু হবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন বলে দাবি এলাকাবাসীর।
২০১৮ সালে শুরু হয় নেহালগঞ্জ সেতুর নির্মাণকাজ। ২০১৭ সালে ৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন বছর মেয়াদি প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। পরে ব্যয় বাড়িয়ে ৯২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
গোমা ও নেহালগঞ্জ দুটি সেতুর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ একই। ৮০০ মিটার দীর্ঘ প্রতিটি সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা করে। গোমা সেতুর কাজ সম্পন্ন হলেও নেহালগঞ্জ সেতু এখনো শেষের পথে নয়।
সেতু নির্মাণ শুরুর আগে বিআইডব্লিউটিএ নকশায় অনাপত্তি দিলেও নির্মাণকাজ শুরুর পর আপত্তি ওঠে। ফলে কাজ বন্ধ ছিল কয়েক বছর। দুই দপ্তরের মধ্যে চিঠি ও বৈঠকের পর সমঝোতা হয়। নদীর মধ্যবর্তী স্প্যানটি উঁচু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সেতুটির ১৩টি স্প্যানের মধ্যে ১২টির পিয়ারের কাজ প্রায় শেষ। দুটি এবাটমেন্টের কাজও শেষের পথে। তবে মধ্যবর্তী অংশের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে নকশা সংশোধন করে ইস্পাতের অবকাঠামো নির্মাণ করতে হচ্ছে।
নেহালগঞ্জ সেতুর সংযোগ সড়কের জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জটিলতা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। এ কারণে বরিশাল সদর উপজেলার পতাং অংশের কাজ বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে, চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের সংযোগ সড়ক প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম জানান, জমি অধিগ্রহণের চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ পাওয়া গেছে। শিগগিরই জমির মালিকদের তা বুঝিয়ে দেওয়া হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘চলতি বছর ডিসেম্বরের মধ্যে এটি হস্তান্তর ও চালু করা সম্ভব হবে।’
গোমা ও নেহালগঞ্জ সেতুর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বলছে, কাজ শুরুর সময়ের বাজারদরের সঙ্গে এখনকার বাজারদরের পার্থক্য অনেক বেশি। ফলে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হচ্ছে।
এম মাহফুজ খান নামের এক ঠিকাদার জানান, ‘যে কাজে আগে ৫০-৬০ কোটি টাকা লাগত, এখন সেই কাজে ব্যয় তিনগুণ বেড়েছে। প্রকৌশলগত পরিকল্পনার ভুলের খেসারত ঠিকাদারিকেও দিতে হচ্ছে।’
এই সেতুটি নির্মিত হলে বরিশাল, বাউফল, ভোলা, লক্ষ্মীপাশা ও দুমকি মহাসড়কের সংযোগ স্থাপন হবে। প্রায় লাখো মানুষ উপকৃত হবেন। কিন্তু বারবার মেয়াদ বাড়ায় এবং কাজ শেষ না হওয়ায় মানুষের ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে।
এখন দেখার বিষয়, সড়ক বিভাগের আশ্বাস মতো আগামী ডিসেম্বরেই শেষ হয় নেহালগঞ্জ সেতু, নাকি অনির্দিষ্টকালের জন্য ঝুলে থাকে এই গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ স্থাপনাটি।

আপনার মতামত লিখুন