রাজধানীর বায়তুল মোকাররম, গুলিস্তান ও মতিঝিল এলাকায় সম্প্রতি উচ্ছেদ অভিযানের পর এখন আলোচনার কেন্দ্রে ‘হকার কার্ড’। ফুটপাথ দখলমুক্ত রাখতে এবং প্রকৃত হকারদের শৃঙ্খলায় আনতে এই উদ্যোগ নেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে উঠেছে নানা অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ।
বায়তুল মোকাররম ও গুলিস্তান এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতারা হকারদের তথ্য সংগ্রহের কাজ করছেন। নাম, ঠিকানা ও জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) ফটোকপি সংগ্রহ করে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।
জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ১০০টি করে কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে এবং পর্যায়ক্রমে সবাইকে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে।
তবে এই প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ হকারদের মধ্যে 'তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা' বিরাজ করছে।
রফিক নামের এক হকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এই হকার কার্ড আসলে একটা আইওয়াশ। ফুটপাথ থেকে আমাদের তুলে দিয়ে এখন নতুন করে দলের লোকদের বসানো হচ্ছে। জামাত, বিএনপি বা এনসিপি; এসব দলের লোকজনকে যুক্ত করে মূলত মিছিলের লোক গোছানো হচ্ছে। কার্ড দিয়ে তারা আসলে দল ভারী করছে।"
তিনি আরও দাবি করেন, রাজনৈতিক পরিচয় না দেখে যারা বছরের পর বছর ধরে ফুটপাথে ব্যবসা করছেন, তাদেরই কার্ড দেওয়া হোক। শুধু দলীয়করণ নয়, কার্ড বিতরণে জালিয়াতির অভিযোগও তুলেছেন অনেকে।
আব্দুল রহিম নামে এক হকার জানান, অনেকেই নিজের নাম বা ছদ্মনামে একাধিক কার্ড হাতিয়ে নিচ্ছেন।
তিনি বলেন, "একই ব্যক্তি দুই-তিনটা কার্ড করছেন। এভাবে চললে হকার কমার বদলে আরও বাড়বে। এগুলো তদন্ত করে বাতিল করা জরুরি।"
অনেকে ফর্ম জমা দিলেও এখনো কার্ড পাননি। আবু বক্কর নামে এক হকার বলেন, "আমি সব কাগজ জমা দিয়েছি, কিন্তু কার্ড পাইনি। তবে কার্ড দিলেই যে হকার সমস্যার সমাধান হবে, তেমনটা মনে হচ্ছে না।"
অন্যদিকে, আল-আমিনের মতো সাধারণ হকারদের দাবি, কার্ড দেওয়ার আগে যেন যথাযথ যাচাই-বাছাই (Verification) করা হয় যাতে কোনো বহিরাগত সুযোগ না পায়।
উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দাবি, প্রশাসন যেন সরাসরি হস্তক্ষেপ করে এই তালিকা যাচাই করে এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করে। অন্যথায়, তা বিফলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬
রাজধানীর বায়তুল মোকাররম, গুলিস্তান ও মতিঝিল এলাকায় সম্প্রতি উচ্ছেদ অভিযানের পর এখন আলোচনার কেন্দ্রে ‘হকার কার্ড’। ফুটপাথ দখলমুক্ত রাখতে এবং প্রকৃত হকারদের শৃঙ্খলায় আনতে এই উদ্যোগ নেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে উঠেছে নানা অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ।
বায়তুল মোকাররম ও গুলিস্তান এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতারা হকারদের তথ্য সংগ্রহের কাজ করছেন। নাম, ঠিকানা ও জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) ফটোকপি সংগ্রহ করে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।
জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ১০০টি করে কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে এবং পর্যায়ক্রমে সবাইকে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে।
তবে এই প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ হকারদের মধ্যে 'তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা' বিরাজ করছে।
রফিক নামের এক হকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এই হকার কার্ড আসলে একটা আইওয়াশ। ফুটপাথ থেকে আমাদের তুলে দিয়ে এখন নতুন করে দলের লোকদের বসানো হচ্ছে। জামাত, বিএনপি বা এনসিপি; এসব দলের লোকজনকে যুক্ত করে মূলত মিছিলের লোক গোছানো হচ্ছে। কার্ড দিয়ে তারা আসলে দল ভারী করছে।"
তিনি আরও দাবি করেন, রাজনৈতিক পরিচয় না দেখে যারা বছরের পর বছর ধরে ফুটপাথে ব্যবসা করছেন, তাদেরই কার্ড দেওয়া হোক। শুধু দলীয়করণ নয়, কার্ড বিতরণে জালিয়াতির অভিযোগও তুলেছেন অনেকে।
আব্দুল রহিম নামে এক হকার জানান, অনেকেই নিজের নাম বা ছদ্মনামে একাধিক কার্ড হাতিয়ে নিচ্ছেন।
তিনি বলেন, "একই ব্যক্তি দুই-তিনটা কার্ড করছেন। এভাবে চললে হকার কমার বদলে আরও বাড়বে। এগুলো তদন্ত করে বাতিল করা জরুরি।"
অনেকে ফর্ম জমা দিলেও এখনো কার্ড পাননি। আবু বক্কর নামে এক হকার বলেন, "আমি সব কাগজ জমা দিয়েছি, কিন্তু কার্ড পাইনি। তবে কার্ড দিলেই যে হকার সমস্যার সমাধান হবে, তেমনটা মনে হচ্ছে না।"
অন্যদিকে, আল-আমিনের মতো সাধারণ হকারদের দাবি, কার্ড দেওয়ার আগে যেন যথাযথ যাচাই-বাছাই (Verification) করা হয় যাতে কোনো বহিরাগত সুযোগ না পায়।
উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দাবি, প্রশাসন যেন সরাসরি হস্তক্ষেপ করে এই তালিকা যাচাই করে এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করে। অন্যথায়, তা বিফলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন