সংবাদ

'ভুল প্রতিবেদনের' প্রতিবাদে লামা ও আলীকদমে মানববন্ধন


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৫ মে ২০২৬, ০২:৩০ এএম

'ভুল প্রতিবেদনের' প্রতিবাদে লামা ও আলীকদমে মানববন্ধন

বান্দরবানের লামা ও আলীকদমে ম্রো শিশুদের জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ সংক্রান্ত ‘নেত্র নিউজের’ একটি 'ভুল প্রতিবেদনের' প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৪ মে) পৃথক সময়ে স্থানীয় জনগণ ও নওমুসলিমদের ব্যানারে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। সমাবেশে বক্তারা নেত্র নিউজে প্রকাশিত ডাক্তার ইউসুফের বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগকে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।
​সোমবার দুপুর ২টায় লামা উপজেলা পরিষদের সামনে প্রধান সড়কে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, "স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করার অধিকার সবার আছে। জোর করে কাউকে মুসলিম বানানো হচ্ছে না। ডাক্তার ইউসুপ কাউকে জোর করে কিংবা লোভ দেখিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করছেন না। মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সাঃ)-এর নৈতিক আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে অন্য ধর্মের মানুষ ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হচ্ছে।"
তারা আরও উল্লেখ করেন, পাহাড়ে খ্রিস্ট ধর্মে দীক্ষিত করার একটি দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক ও ধর্মীয় প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। স্থানীয় পর্যায়ে খ্রিস্টান কতক এনজিও এবং মিশনারিদের মাধ্যমে এর কার্যক্রম চললেও তা নিয়ে কোনো বিতর্ক হয় না।
​বক্তারা পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, বান্দরবান জেলায় খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার, যেখানে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ৩৩ হাজার এবং হিন্দু ১২ হাজার। বৌদ্ধদের সংখ্যা বেশি হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা উল্টো।
এ সময় তারা প্রশ্ন তোলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে কোনো বিশেষ ষড়যন্ত্র চলছে কি না। বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পাহাড়ে লাখো মানুষের খ্রিস্টান হওয়া নিয়ে কারো আপত্তি নেই, কিন্তু গুটিকয়েক মানুষ স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করলেই কিছু ব্যক্তি ও বুদ্ধিজীবী অপপ্রচার শুরু করেন।
​খ্রিস্টান ধর্ম থেকে ইসলাম গ্রহণ করা ইব্রাহীম ত্রীপুরা সমাবেশে বলেন, "মুসলমানরা যখন 'আল্লাহু আকবর' ধ্বনি তুলে, তখন শয়তানের জ্বালা হয়। সেই জ্বালা সহ্য করতে না পেরে আবারো শয়তানি অপশক্তিগুলো ষড়যন্ত্রের নকশা আঁকছেন। তারা নেত্র নিউজে ডাক্তার ইউসুপকে নিয়ে চরম মিথ্যাচার করেছেন।"
নওমুসলিম বক্তারা দৃঢ়তার সাথে দাবি করেন যে, ইসলাম কোনো নির্দিষ্ট জাতির ধর্ম নয়, বরং এটি সমগ্র মানবজাতির শান্তির পথ। তারা স্পষ্ট করে জানান, তারা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় এবং শান্তির খোঁজে এই পথে এসেছেন, এখানে কোনো জোর-জবরদস্তি ছিল না।
​এর আগে বেলা ১১টায় আলীকদম প্রেসক্লাবের সামনে একই দাবিতে আরেকটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তারা সংবিধান অনুযায়ী ধর্ম পালনের স্বাধীনতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, যদি কেউ বৌদ্ধ বা হিন্দু ধর্ম থেকে খ্রিস্টান হতে পারেন, তবে স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করতে বাধা কোথায়? তারা নেত্র নিউজের এই ধরণের বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
লামার সমাবেশে মাওলানা মুহি উদ্দিন খাঁন, নওমুসলিম আবাসিক কমপ্লেক্সের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান, নওমুসলিম মো. হেলাল ত্রিপুরা ও আবদুল্লাহসহ স্থানীয়রা বক্তব্য প্রদান করেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬


'ভুল প্রতিবেদনের' প্রতিবাদে লামা ও আলীকদমে মানববন্ধন

প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬

featured Image

বান্দরবানের লামা ও আলীকদমে ম্রো শিশুদের জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ সংক্রান্ত ‘নেত্র নিউজের’ একটি 'ভুল প্রতিবেদনের' প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৪ মে) পৃথক সময়ে স্থানীয় জনগণ ও নওমুসলিমদের ব্যানারে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। সমাবেশে বক্তারা নেত্র নিউজে প্রকাশিত ডাক্তার ইউসুফের বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগকে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।
​সোমবার দুপুর ২টায় লামা উপজেলা পরিষদের সামনে প্রধান সড়কে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, "স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করার অধিকার সবার আছে। জোর করে কাউকে মুসলিম বানানো হচ্ছে না। ডাক্তার ইউসুপ কাউকে জোর করে কিংবা লোভ দেখিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করছেন না। মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সাঃ)-এর নৈতিক আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে অন্য ধর্মের মানুষ ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হচ্ছে।"
তারা আরও উল্লেখ করেন, পাহাড়ে খ্রিস্ট ধর্মে দীক্ষিত করার একটি দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক ও ধর্মীয় প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। স্থানীয় পর্যায়ে খ্রিস্টান কতক এনজিও এবং মিশনারিদের মাধ্যমে এর কার্যক্রম চললেও তা নিয়ে কোনো বিতর্ক হয় না।
​বক্তারা পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, বান্দরবান জেলায় খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার, যেখানে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ৩৩ হাজার এবং হিন্দু ১২ হাজার। বৌদ্ধদের সংখ্যা বেশি হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা উল্টো।
এ সময় তারা প্রশ্ন তোলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে কোনো বিশেষ ষড়যন্ত্র চলছে কি না। বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পাহাড়ে লাখো মানুষের খ্রিস্টান হওয়া নিয়ে কারো আপত্তি নেই, কিন্তু গুটিকয়েক মানুষ স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করলেই কিছু ব্যক্তি ও বুদ্ধিজীবী অপপ্রচার শুরু করেন।
​খ্রিস্টান ধর্ম থেকে ইসলাম গ্রহণ করা ইব্রাহীম ত্রীপুরা সমাবেশে বলেন, "মুসলমানরা যখন 'আল্লাহু আকবর' ধ্বনি তুলে, তখন শয়তানের জ্বালা হয়। সেই জ্বালা সহ্য করতে না পেরে আবারো শয়তানি অপশক্তিগুলো ষড়যন্ত্রের নকশা আঁকছেন। তারা নেত্র নিউজে ডাক্তার ইউসুপকে নিয়ে চরম মিথ্যাচার করেছেন।"
নওমুসলিম বক্তারা দৃঢ়তার সাথে দাবি করেন যে, ইসলাম কোনো নির্দিষ্ট জাতির ধর্ম নয়, বরং এটি সমগ্র মানবজাতির শান্তির পথ। তারা স্পষ্ট করে জানান, তারা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় এবং শান্তির খোঁজে এই পথে এসেছেন, এখানে কোনো জোর-জবরদস্তি ছিল না।
​এর আগে বেলা ১১টায় আলীকদম প্রেসক্লাবের সামনে একই দাবিতে আরেকটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তারা সংবিধান অনুযায়ী ধর্ম পালনের স্বাধীনতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, যদি কেউ বৌদ্ধ বা হিন্দু ধর্ম থেকে খ্রিস্টান হতে পারেন, তবে স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করতে বাধা কোথায়? তারা নেত্র নিউজের এই ধরণের বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
লামার সমাবেশে মাওলানা মুহি উদ্দিন খাঁন, নওমুসলিম আবাসিক কমপ্লেক্সের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান, নওমুসলিম মো. হেলাল ত্রিপুরা ও আবদুল্লাহসহ স্থানীয়রা বক্তব্য প্রদান করেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত