ভোট গণনার প্রথম রাউন্ডেই বিজেপি এগিয়ে থাকার ট্রেন্ডেই শিল্পনগরী আসানসোল থেকে শুরু হয় উত্তেজনা, যা মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পরে রাজ্য ব্যাপী, রূপ নেয় হিংসায়। সোমবার সকালে গণনা কেন্দ্রের অদূরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সামনেই তৃণমূল কংগ্রেসের ক্যাম্প ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে।
সোমবার ভোট গণনার যে সহংসতা শুরু হয় তা মঙ্গলবারও অব্যাহত থাকে। কোথাও তৃণমূলের কার্যালয় ‘ভাঙচুর’, কোথাও তৃণমূলের কার্যালয় ‘দখলে’ নেওয়ার অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে।
৪ মে সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া গণনায় প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যেই বিভিন্ন আসনে বিজেপির এগিয়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়তেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তৃণমূলের অভিযোগ, কোনো প্ররোচনা ছাড়াই তাদের ক্যাম্পে হামলা চালানো হয়, লাঠিচার্জ করা হয় কর্মীদের উপর। একাধিক কর্মী রক্তাক্ত হন, এমনকি দু’জনের পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
আহতদের আসানসোল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আতঙ্কে মহিলা কর্মীরা কোনওরকমে দলীয় কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। এমনকি এক মহিলা পুলিশ কর্মীও হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ।
তৃণমূলের অভিযোগ, হামলা পুলিশের সামনেই ঘটে। যদিও কিছুক্ষণ পর পুলিশ কমিশনার প্রণব কুমারের নেতৃত্বে বাহিনী সক্রিয় হয় এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু ততক্ষণে অশান্তির আগুন ছড়িয়ে পড়ে একাধিক এলাকায়।
হাওড়ার উদয়নারায়নপুরে বিজেপি সমর্থককে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। পরিবারের দাবি, নিহত যাদব বর বিজেপি সমর্থক। ভোটের ফল স্পষ্ট হতেই অন্যদের সঙ্গে আনন্দে মেতেছিলেন তিনি। অভিযোগ, রাত ১১টা নাগাদ বাড়ি অদূরে যাদবকে তুলে নিয়ে যান কয়েক জন। তার পরে তাকে মারধর করা হয়। ধারালো অস্ত্রের কোপ মারা হয় বলে অভিযোগ।
মঙ্গলবার বারুইপুরে তৃণমূলের ফুলতলা দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, সীতাকুণ্ড মোড়ে অবস্থিত ওই কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে সেখানে বিজেপির দলীয় পতাকা লাগিয়ে দেওয়া হয়। শিলিগুড়ির তৃণমূলের কার্যালয়ে ঢুকে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠেছে। কার্যালয়ে ভিতরে থাকা টেবিল, চেয়ার ভেঙে দেওয়া হয়। যদিও সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি।
রাজনৈতিক সংঘর্ষ এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় রণক্ষেত্র হয়েছে কৃষ্ণনগরের বাদকুল্লা মোড় এলাকা। সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি কার্যালয় দখল করে বিজেপির পতাকা টাঙিয়ে দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। কার্যালয়ের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র ভাঙচুর এবং শেষে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জামুড়িয়ার চুরুলিয়ায় তৃণমূল পার্টি অফিসে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। খাস কেন্দা ও পুনিয়াটি ওয়ার্কশপ এলাকাতেও একাধিক পার্টি অফিসে ভাঙচুর হয়।
বারাবনি বিধানসভা এলাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। পানুরিয়ায় তৃণমূলের শিবিরে আগুন লাগানো হয়, ব্লক সভাপতি অসিত সিংয়ের বাড়িতেও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। সালানপুরের রূপনারায়ণপুরে পার্টি অফিসে ব্যাপক তাণ্ডব চালানো হয়, ভাঙচুর করা হয় বাইকও।
আসানসোল দক্ষিণ ও উত্তর বিধানসভা এলাকাতেও অশান্তির আঁচ পৌঁছে যায়। একাধিক তৃণমূল কার্যালয়ে হামলা ও দখলের অভিযোগ ওঠে। আসানসোল পুরসভার চেয়ারম্যান অমরনাথ চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বেশ কিছু কার্যালয় বিজেপি দখল করে নিয়েছে।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই কিছু বিজেপি প্রার্থী নিজেরাই কর্মীদের শান্ত থাকার বার্তা দেন। রানিগঞ্জের প্রার্থী পার্থ ঘোষ স্পষ্ট বলেন, “বিজেপি কোনও অশান্তিকে সমর্থন করে না।” একই সুরে আসানসোল দক্ষিণের প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “মানুষের ক্ষোভ থাকতেই পারে, কিন্তু আমরা চাই না কোনো হিংসা হোক।”
আর রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী মলয় ঘটক কড়া ভাষায় বলেন, “সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। লিড পেতেই যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে বাংলার মানুষ সব দেখছে, বুঝছে।”

মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬
ভোট গণনার প্রথম রাউন্ডেই বিজেপি এগিয়ে থাকার ট্রেন্ডেই শিল্পনগরী আসানসোল থেকে শুরু হয় উত্তেজনা, যা মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পরে রাজ্য ব্যাপী, রূপ নেয় হিংসায়। সোমবার সকালে গণনা কেন্দ্রের অদূরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সামনেই তৃণমূল কংগ্রেসের ক্যাম্প ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে।
সোমবার ভোট গণনার যে সহংসতা শুরু হয় তা মঙ্গলবারও অব্যাহত থাকে। কোথাও তৃণমূলের কার্যালয় ‘ভাঙচুর’, কোথাও তৃণমূলের কার্যালয় ‘দখলে’ নেওয়ার অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে।
৪ মে সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া গণনায় প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যেই বিভিন্ন আসনে বিজেপির এগিয়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়তেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তৃণমূলের অভিযোগ, কোনো প্ররোচনা ছাড়াই তাদের ক্যাম্পে হামলা চালানো হয়, লাঠিচার্জ করা হয় কর্মীদের উপর। একাধিক কর্মী রক্তাক্ত হন, এমনকি দু’জনের পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
আহতদের আসানসোল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আতঙ্কে মহিলা কর্মীরা কোনওরকমে দলীয় কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। এমনকি এক মহিলা পুলিশ কর্মীও হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ।
তৃণমূলের অভিযোগ, হামলা পুলিশের সামনেই ঘটে। যদিও কিছুক্ষণ পর পুলিশ কমিশনার প্রণব কুমারের নেতৃত্বে বাহিনী সক্রিয় হয় এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু ততক্ষণে অশান্তির আগুন ছড়িয়ে পড়ে একাধিক এলাকায়।
হাওড়ার উদয়নারায়নপুরে বিজেপি সমর্থককে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। পরিবারের দাবি, নিহত যাদব বর বিজেপি সমর্থক। ভোটের ফল স্পষ্ট হতেই অন্যদের সঙ্গে আনন্দে মেতেছিলেন তিনি। অভিযোগ, রাত ১১টা নাগাদ বাড়ি অদূরে যাদবকে তুলে নিয়ে যান কয়েক জন। তার পরে তাকে মারধর করা হয়। ধারালো অস্ত্রের কোপ মারা হয় বলে অভিযোগ।
মঙ্গলবার বারুইপুরে তৃণমূলের ফুলতলা দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, সীতাকুণ্ড মোড়ে অবস্থিত ওই কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে সেখানে বিজেপির দলীয় পতাকা লাগিয়ে দেওয়া হয়। শিলিগুড়ির তৃণমূলের কার্যালয়ে ঢুকে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠেছে। কার্যালয়ে ভিতরে থাকা টেবিল, চেয়ার ভেঙে দেওয়া হয়। যদিও সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি।
রাজনৈতিক সংঘর্ষ এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় রণক্ষেত্র হয়েছে কৃষ্ণনগরের বাদকুল্লা মোড় এলাকা। সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি কার্যালয় দখল করে বিজেপির পতাকা টাঙিয়ে দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। কার্যালয়ের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র ভাঙচুর এবং শেষে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জামুড়িয়ার চুরুলিয়ায় তৃণমূল পার্টি অফিসে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। খাস কেন্দা ও পুনিয়াটি ওয়ার্কশপ এলাকাতেও একাধিক পার্টি অফিসে ভাঙচুর হয়।
বারাবনি বিধানসভা এলাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। পানুরিয়ায় তৃণমূলের শিবিরে আগুন লাগানো হয়, ব্লক সভাপতি অসিত সিংয়ের বাড়িতেও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। সালানপুরের রূপনারায়ণপুরে পার্টি অফিসে ব্যাপক তাণ্ডব চালানো হয়, ভাঙচুর করা হয় বাইকও।
আসানসোল দক্ষিণ ও উত্তর বিধানসভা এলাকাতেও অশান্তির আঁচ পৌঁছে যায়। একাধিক তৃণমূল কার্যালয়ে হামলা ও দখলের অভিযোগ ওঠে। আসানসোল পুরসভার চেয়ারম্যান অমরনাথ চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বেশ কিছু কার্যালয় বিজেপি দখল করে নিয়েছে।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই কিছু বিজেপি প্রার্থী নিজেরাই কর্মীদের শান্ত থাকার বার্তা দেন। রানিগঞ্জের প্রার্থী পার্থ ঘোষ স্পষ্ট বলেন, “বিজেপি কোনও অশান্তিকে সমর্থন করে না।” একই সুরে আসানসোল দক্ষিণের প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “মানুষের ক্ষোভ থাকতেই পারে, কিন্তু আমরা চাই না কোনো হিংসা হোক।”
আর রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী মলয় ঘটক কড়া ভাষায় বলেন, “সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। লিড পেতেই যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে বাংলার মানুষ সব দেখছে, বুঝছে।”

আপনার মতামত লিখুন