মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) নিয়ে প্রথম জাহাজ বাংলাদেশে পৌঁছেছে। চট্টগ্রাম বন্দরের কুতুবদিয়া পয়েন্টে বুধবার (৫ মে) দুপুরে নোঙর ফেলে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের জাহাজটি। সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে আসা এই জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আছে।
এই ক্রুড অয়েলই ইস্টার্ন রিফাইনারি (ইআরএল) সচল রাখার প্রধান কাঁচামাল। এটি পরিশোধন করে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেনসহ ১৩ ধরণের জ্বালানি উৎপাদন করে ইআরএল।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, দুইটি লাইটার ট্যাঙ্কারে করে বড় জাহাজটি থেকে তেল খালাস করা হবে। সেই তেল বন্দরের ডলফিন জেটিতে এনে পাইপলাইনের মাধ্যমে নেওয়া হবে ইআরএলে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পাল্টায় ইসরায়েলে এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে স্থাপিত মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায় ইরান। মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধ যুদ্ধ শুরুর পর ক্রুড অয়েলের কোনো জাহাজ আসেনি বাংলাদেশে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা যায়, সবশেষ প্রায় আড়াই মাস আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ক্রুড অয়েলের জাহাজ নোঙর করেছিল চট্টগ্রামে।
কাঁচামাল পর্যাপ্ত না থাকায় দেড় মাস ধরে সরকারি পরিশোধনাগার ইআরএলে ব্যবহার করা হচ্ছিল পাইপলাইনে জমে থাকা ‘ডেডস্টক’। এ সময় উৎপাদন কমিয়ে আনা হয় দুই তৃতীয়াংশে। এক সময় এর কয়েকটি ইউনিট বন্ধ করে দেওয়া হয়। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উপজাত হিসেবে পাওয়া কনডেনসেট কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে সীমিত পরিমাণে উৎপাদন চালু রাখা হয়।
এখন পাইপলাইন দিয়ে এই ক্রুড অয়েল ইআরএলে পৌঁছালেই আবার পূর্ণোদ্যমে উৎপাদন শুরু হবে।
বিপিসি সূত্রে জানা যায়, ইআরএলে পরিশোধনের জন্য আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে ‘এমটি ফসিল’ নামের আরেকটি ট্যাংকার আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ মে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরে জাহাজটিতে লোড করা হবে ক্রুড অয়েল। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ হলে চলতি মাসে দেশে আসতে পারে এই জাহাজ।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে হামলার আশঙ্কা থাকায় গত ৫ এপ্রিল থেকে সেখানে আটকা পড়ে আছে ‘নর্ডিক পোলাক্স’ নামের একটি ট্যাংকার জাহাজ। সৌদি আরবের রাস তানুরা থেকে এক লাখ টন ক্রুড লোড করেছিল এই জাহাজ। জাহাজটি কবে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি বিপিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) নিয়ে প্রথম জাহাজ বাংলাদেশে পৌঁছেছে। চট্টগ্রাম বন্দরের কুতুবদিয়া পয়েন্টে বুধবার (৫ মে) দুপুরে নোঙর ফেলে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের জাহাজটি। সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে আসা এই জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আছে।
এই ক্রুড অয়েলই ইস্টার্ন রিফাইনারি (ইআরএল) সচল রাখার প্রধান কাঁচামাল। এটি পরিশোধন করে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেনসহ ১৩ ধরণের জ্বালানি উৎপাদন করে ইআরএল।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, দুইটি লাইটার ট্যাঙ্কারে করে বড় জাহাজটি থেকে তেল খালাস করা হবে। সেই তেল বন্দরের ডলফিন জেটিতে এনে পাইপলাইনের মাধ্যমে নেওয়া হবে ইআরএলে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পাল্টায় ইসরায়েলে এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে স্থাপিত মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায় ইরান। মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধ যুদ্ধ শুরুর পর ক্রুড অয়েলের কোনো জাহাজ আসেনি বাংলাদেশে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা যায়, সবশেষ প্রায় আড়াই মাস আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ক্রুড অয়েলের জাহাজ নোঙর করেছিল চট্টগ্রামে।
কাঁচামাল পর্যাপ্ত না থাকায় দেড় মাস ধরে সরকারি পরিশোধনাগার ইআরএলে ব্যবহার করা হচ্ছিল পাইপলাইনে জমে থাকা ‘ডেডস্টক’। এ সময় উৎপাদন কমিয়ে আনা হয় দুই তৃতীয়াংশে। এক সময় এর কয়েকটি ইউনিট বন্ধ করে দেওয়া হয়। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উপজাত হিসেবে পাওয়া কনডেনসেট কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে সীমিত পরিমাণে উৎপাদন চালু রাখা হয়।
এখন পাইপলাইন দিয়ে এই ক্রুড অয়েল ইআরএলে পৌঁছালেই আবার পূর্ণোদ্যমে উৎপাদন শুরু হবে।
বিপিসি সূত্রে জানা যায়, ইআরএলে পরিশোধনের জন্য আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে ‘এমটি ফসিল’ নামের আরেকটি ট্যাংকার আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ মে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরে জাহাজটিতে লোড করা হবে ক্রুড অয়েল। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ হলে চলতি মাসে দেশে আসতে পারে এই জাহাজ।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে হামলার আশঙ্কা থাকায় গত ৫ এপ্রিল থেকে সেখানে আটকা পড়ে আছে ‘নর্ডিক পোলাক্স’ নামের একটি ট্যাংকার জাহাজ। সৌদি আরবের রাস তানুরা থেকে এক লাখ টন ক্রুড লোড করেছিল এই জাহাজ। জাহাজটি কবে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি বিপিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আপনার মতামত লিখুন