বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা উভয় পর্যায়ে দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ বিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সাধারণ গ্রাহকদের ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন ভিন্ন হারে দাম সমন্বয় করা হবে। পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে দেড় টাকা পর্যন্ত এবং খুচরা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ১ টাকা ৩৮ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে। নতুন দাম আগামী জুলাই মাস থেকে কার্যকর হতে পারে।
তবে প্রান্তিকে যারা নিম্ন আয়ের মানুষ, যারা স্বল্প বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী (লাইফ লাইন গ্রাহক) তাদের বিদ্যুতের দাম এবার না বাড়ানোর চিন্তা করছে সরকার।
বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ও বিক্রয় মূল্যে ব্যবধানের কারণে প্রতি বছরই সরকার এ খাতে বড় অংকের ভর্তুকি দিচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত এলএনজি, কয়লা ও তেলের বড় অংশ আমদানি করতে হয়।
বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে এসব জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। ফলে বাড়তি ভর্তুকির চাপ সামাল দিতে দাম বিদ্যুতের বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করে সরকার। ওই কমিটির পরামর্শেই মূলত বিদ্যুৎ বিভাগ এই প্রস্তাব দিয়েছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) সোমবার এ সংক্রান্ত প্রস্তাব পাঠিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
সাধারণ বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করে সরকারি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো। তারা কমিশনের কাছে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব জমা দেয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পাইকারি বিদ্যুৎ বিক্রয়ে নিয়োজিত রাষ্ট্রায়াত্ত্ব প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব বিইআরসিতে জমা দিয়েছে।
সবশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের খুচরা মূল্য গড়ে ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। তখন প্রতি ইউনিটের গড় খুচরা মূল্য ছিল ৮ টাকা ৯৫ পয়সা। ওই সময় পাইকারি বিদ্যুতের দাম ৫ দশমিক ০৭ শতাংশ বাড়িয়ে ৭ টাকা ৪ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এখন ১৭ থেকে ২১ শতাংশ দাম বাড়লে প্রতি ইউনিটে দাম বাড়বে ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে দেড় টাকা।
সূত্র বলছে, খুচরা বিদ্যুৎ বিতরণে নিয়োজিত সরকারি কোম্পানিগুলো চলতি সপ্তাতের মধ্যেই কমিশনে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব জমা দেবে। জানা গেছে, কোম্পানিগুলো বিদ্যুৎ বিভাগের প্রস্তাব অনুসারেই তাদের প্রস্তবনা প্রস্তুৎ করছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, মাসে ৪০০ ইউনিটের বেশি ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিটে প্রায় ১ টাকা ৩৮ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে। আবার ৭৬ থেকে ৪০০ ইউনিট ব্যবহারকারীদের জন্য এই বৃদ্ধি প্রায় ৭০ পয়সা হতে পারে। তবে ৭০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারী বা লাইফলাইন গ্রাহকদের আপাতত এই বাড়তি চাপের বাইরে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত যে পরিসংখ্যান তাতে দেখা যায়, দেশে মোট বিদ্যুৎ গ্রাহক সংখ্যা ৪ কোটি ৯৬ লাখ ৮১ হাজার ৫৫৬।
বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ি, বর্তমানে গড়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচের তুলনায় গ্রাহকদের কাছে (কম দামে) বিক্রিতে গড়ে সাড়ে ৫ টাকার মতো ঘটতি বা লস থাকে। এ হিসেবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিপিডিবির সম্ভাব্য ঘাটতি হতে পারে প্রায় ৫৬ হাজার ৪৭৫ কোটি ২০ লাখ টাকা। তবে বিশ্ব বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে আরও প্রায় ১৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ঘাটতি হতে পারে। বিদ্যুৎ বিভাগের সূত্র অনুযায়ি, সরকার ইতোমধ্যে এ খাতে ৩৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দ দিয়েছে।
বিপিডিবি সূত্র বলছে, জুন মাস থেকেই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বিইআরসির সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা সংবাদকে বলেন, আইন অনুযায়ি, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে সব প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব জমা হলে তথ্য যাচাই, গণশুনানি- এ সব প্রক্রিয়া সমাপ্ত হওয়ার পড় কমিশনের দাম বাড়ানোর ঘোষণা, জুনে হবে না হয়তো জুলাইয়ে হবে।”

মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬
বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা উভয় পর্যায়ে দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ বিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সাধারণ গ্রাহকদের ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন ভিন্ন হারে দাম সমন্বয় করা হবে। পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে দেড় টাকা পর্যন্ত এবং খুচরা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ১ টাকা ৩৮ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে। নতুন দাম আগামী জুলাই মাস থেকে কার্যকর হতে পারে।
তবে প্রান্তিকে যারা নিম্ন আয়ের মানুষ, যারা স্বল্প বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী (লাইফ লাইন গ্রাহক) তাদের বিদ্যুতের দাম এবার না বাড়ানোর চিন্তা করছে সরকার।
বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ও বিক্রয় মূল্যে ব্যবধানের কারণে প্রতি বছরই সরকার এ খাতে বড় অংকের ভর্তুকি দিচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত এলএনজি, কয়লা ও তেলের বড় অংশ আমদানি করতে হয়।
বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে এসব জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। ফলে বাড়তি ভর্তুকির চাপ সামাল দিতে দাম বিদ্যুতের বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করে সরকার। ওই কমিটির পরামর্শেই মূলত বিদ্যুৎ বিভাগ এই প্রস্তাব দিয়েছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) সোমবার এ সংক্রান্ত প্রস্তাব পাঠিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
সাধারণ বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করে সরকারি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো। তারা কমিশনের কাছে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব জমা দেয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পাইকারি বিদ্যুৎ বিক্রয়ে নিয়োজিত রাষ্ট্রায়াত্ত্ব প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব বিইআরসিতে জমা দিয়েছে।
সবশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের খুচরা মূল্য গড়ে ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। তখন প্রতি ইউনিটের গড় খুচরা মূল্য ছিল ৮ টাকা ৯৫ পয়সা। ওই সময় পাইকারি বিদ্যুতের দাম ৫ দশমিক ০৭ শতাংশ বাড়িয়ে ৭ টাকা ৪ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এখন ১৭ থেকে ২১ শতাংশ দাম বাড়লে প্রতি ইউনিটে দাম বাড়বে ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে দেড় টাকা।
সূত্র বলছে, খুচরা বিদ্যুৎ বিতরণে নিয়োজিত সরকারি কোম্পানিগুলো চলতি সপ্তাতের মধ্যেই কমিশনে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব জমা দেবে। জানা গেছে, কোম্পানিগুলো বিদ্যুৎ বিভাগের প্রস্তাব অনুসারেই তাদের প্রস্তবনা প্রস্তুৎ করছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, মাসে ৪০০ ইউনিটের বেশি ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিটে প্রায় ১ টাকা ৩৮ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে। আবার ৭৬ থেকে ৪০০ ইউনিট ব্যবহারকারীদের জন্য এই বৃদ্ধি প্রায় ৭০ পয়সা হতে পারে। তবে ৭০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারী বা লাইফলাইন গ্রাহকদের আপাতত এই বাড়তি চাপের বাইরে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত যে পরিসংখ্যান তাতে দেখা যায়, দেশে মোট বিদ্যুৎ গ্রাহক সংখ্যা ৪ কোটি ৯৬ লাখ ৮১ হাজার ৫৫৬।
বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ি, বর্তমানে গড়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচের তুলনায় গ্রাহকদের কাছে (কম দামে) বিক্রিতে গড়ে সাড়ে ৫ টাকার মতো ঘটতি বা লস থাকে। এ হিসেবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিপিডিবির সম্ভাব্য ঘাটতি হতে পারে প্রায় ৫৬ হাজার ৪৭৫ কোটি ২০ লাখ টাকা। তবে বিশ্ব বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে আরও প্রায় ১৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ঘাটতি হতে পারে। বিদ্যুৎ বিভাগের সূত্র অনুযায়ি, সরকার ইতোমধ্যে এ খাতে ৩৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দ দিয়েছে।
বিপিডিবি সূত্র বলছে, জুন মাস থেকেই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বিইআরসির সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা সংবাদকে বলেন, আইন অনুযায়ি, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে সব প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব জমা হলে তথ্য যাচাই, গণশুনানি- এ সব প্রক্রিয়া সমাপ্ত হওয়ার পড় কমিশনের দাম বাড়ানোর ঘোষণা, জুনে হবে না হয়তো জুলাইয়ে হবে।”

আপনার মতামত লিখুন