সংবাদ

জনসেবাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৭ মে ২০২৬, ০৯:২২ এএম

জনসেবাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

প্রশাসনকে কেবল আইন প্রয়োগের নিছক যন্ত্র হিসেবে নয়, বরং মানুষের সেবার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, "জনগণই রাষ্ট্রের মালিক।" সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষ যেন সেই মালিকানার মর্যাদা অনুভব করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা জনপ্রশাসনের প্রতিটি কর্মকর্তার নৈতিক দায়িত্ব।

বুধবার ( মে) রাতে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ জাতির কল্যাণে বিএনপি যে ইশতেহার প্রণয়ন করেছিল, তাতে জনগণ পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে। ফলে এটি এখন আর কেবল কোনো দলীয় ইশতেহার নয়, এটি এখন সরকার জনগণের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে। এখন মাঠ প্রশাসনের দায়িত্ব হলো এই ইশতেহারের প্রতিটি লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা।

মাঠ প্রশাসনকে সরকারের প্রশাসনিক অ্যাম্বাসেডর হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রতিটি জনকল্যাণমূলক কাজ বাস্তবায়নের মূল কারিগর জনপ্রশাসন। প্রশাসনের সাফল্যই শেষ পর্যন্ত সরকারের সামগ্রিক সাফল্য হিসেবে প্রতিফলিত হয়।

সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন:

"একজন দিনমজুর যখন জন্মনিবন্ধন বা কোনো সাধারণ সেবার জন্য সরকারি অফিসে যান, তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার আচরণ দেখেই পুরো সরকারকে মূল্যায়ন করেন। কর্মকর্তার আন্তরিক ব্যবহার সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা বাড়ায়, আর হয়রানি সেই বিশ্বাস নষ্ট করে দেয়।"

তারেক রহমান কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, আইনের ধারা বজায় রাখা জরুরি হলেও মানবিকতা তার চেয়ে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে বয়স্ক বা অসুস্থ মানুষ যখন সেবার জন্য আসেন, তখন কেবল আইনি মারপ্যাঁচে না ফেলে তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া প্রয়োজন। সেবাগ্রহীতার মনে যেন এই বিশ্বাস জন্মে যে, রাষ্ট্র তার সমস্যা সমাধানে আন্তরিক।

দেশের বিপুল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের অসংখ্য সমস্যা থাকলেও সম্ভাবনাও কম নয়। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা তরুণ জনশক্তিকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশ দ্রুত বদলে যাবে। একইসঙ্গে তিনি পারিবারিক, সামাজিক রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ধর্মীয় সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার ওপর জোর দেন।

কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো জনগণের বিশ্বাস। এই বিশ্বাস অর্জনে স্বচ্ছতা জবাবদিহির বিকল্প নেই। তিনি কর্মকর্তাদের নির্ভয়ে এবং নিরপেক্ষভাবে জনস্বার্থে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, যেকোনো আইনগত মানবিক উদ্যোগে সরকার সবসময় আপনাদের পাশে থাকবে।


 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬


জনসেবাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬

featured Image

প্রশাসনকে কেবল আইন প্রয়োগের নিছক যন্ত্র হিসেবে নয়, বরং মানুষের সেবার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, "জনগণই রাষ্ট্রের মালিক।" সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষ যেন সেই মালিকানার মর্যাদা অনুভব করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা জনপ্রশাসনের প্রতিটি কর্মকর্তার নৈতিক দায়িত্ব।

বুধবার ( মে) রাতে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ জাতির কল্যাণে বিএনপি যে ইশতেহার প্রণয়ন করেছিল, তাতে জনগণ পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে। ফলে এটি এখন আর কেবল কোনো দলীয় ইশতেহার নয়, এটি এখন সরকার জনগণের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে। এখন মাঠ প্রশাসনের দায়িত্ব হলো এই ইশতেহারের প্রতিটি লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা।

মাঠ প্রশাসনকে সরকারের প্রশাসনিক অ্যাম্বাসেডর হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রতিটি জনকল্যাণমূলক কাজ বাস্তবায়নের মূল কারিগর জনপ্রশাসন। প্রশাসনের সাফল্যই শেষ পর্যন্ত সরকারের সামগ্রিক সাফল্য হিসেবে প্রতিফলিত হয়।

সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন:

"একজন দিনমজুর যখন জন্মনিবন্ধন বা কোনো সাধারণ সেবার জন্য সরকারি অফিসে যান, তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার আচরণ দেখেই পুরো সরকারকে মূল্যায়ন করেন। কর্মকর্তার আন্তরিক ব্যবহার সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা বাড়ায়, আর হয়রানি সেই বিশ্বাস নষ্ট করে দেয়।"

তারেক রহমান কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, আইনের ধারা বজায় রাখা জরুরি হলেও মানবিকতা তার চেয়ে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে বয়স্ক বা অসুস্থ মানুষ যখন সেবার জন্য আসেন, তখন কেবল আইনি মারপ্যাঁচে না ফেলে তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া প্রয়োজন। সেবাগ্রহীতার মনে যেন এই বিশ্বাস জন্মে যে, রাষ্ট্র তার সমস্যা সমাধানে আন্তরিক।

দেশের বিপুল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের অসংখ্য সমস্যা থাকলেও সম্ভাবনাও কম নয়। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা তরুণ জনশক্তিকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশ দ্রুত বদলে যাবে। একইসঙ্গে তিনি পারিবারিক, সামাজিক রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ধর্মীয় সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার ওপর জোর দেন।

কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো জনগণের বিশ্বাস। এই বিশ্বাস অর্জনে স্বচ্ছতা জবাবদিহির বিকল্প নেই। তিনি কর্মকর্তাদের নির্ভয়ে এবং নিরপেক্ষভাবে জনস্বার্থে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, যেকোনো আইনগত মানবিক উদ্যোগে সরকার সবসময় আপনাদের পাশে থাকবে।


 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত