সংবাদ

তিস্তা প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা ও সমর্থন প্রত্যাশা বাংলাদেশের


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৭ মে ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম

তিস্তা প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা ও সমর্থন প্রত্যাশা বাংলাদেশের

বাংলাদেশের বহুল আলোচিত ‘তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প’ বাস্তবায়নে চীনের সক্রিয় সম্পৃক্ততা ও কারিগরি সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার (৬ মে) বেইজিংয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই জোরালো আহ্বান জানানো হয়। একইসঙ্গে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক আস্থা বৃদ্ধি এবং উন্নয়ন কৌশল সমন্বয়ে ১০ দফার এক যৌথ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর আমন্ত্রণে বর্তমানে তিন দিনের সরকারি সফরে বেইজিংয়ে রয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। দিয়াওইউতাই স্টেট গেস্ট হাউসে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানা দিক উঠে আসে। যৌথ বিজ্ঞপ্তির ৫ নম্বর দফায় তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিষয়টি বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ তার নিজস্ব উন্নয়ন যাত্রায় পাশে থাকায় চীনকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিস্তা প্রকল্পে বেইজিংয়ের সরাসরি সমর্থন ও অংশগ্রহণ কামনা করে।

বৈঠক শেষে প্রকাশিত ১০ দফার যৌথ ঘোষণায় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে:

  • উন্নয়ন ও বাণিজ্য: ডিজিটাল অর্থনীতি, পানিসম্পদ, স্বাস্থ্য, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা জোরদার এবং ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)’ এর আওতায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিতে উভয় দেশ একমত হয়েছে।
  • এক-চীন নীতি: বাংলাদেশ ‘এক-চীন নীতি’র প্রতি দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং তাইওয়ানকে চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বিপরীতে, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নিজস্ব উন্নয়ন পথের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে চীন।
  • রোহিঙ্গা সংকট: মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে সংলাপের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে সমর্থন দিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বেইজিং।
  • মধ্যপ্রাচ্য ইস্যু: মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি রক্ষায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ফিলিস্তিন ইস্যুতে চীনা প্রেসিডেন্টের উদ্যোগের প্রশংসা করেছে বাংলাদেশ।

সফরকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান চাইনিজ পিপলস পলিটিক্যাল কনসালটেটিভ কনফারেন্সের (সিপিপিসিসি) চেয়ারপারসন ওয়াং হুনিংয়ের সঙ্গেও আলাদা বৈঠক করেন। সেখানে কানেক্টিভিটি ও বিনিয়োগ বাড়াতে কৌশলগত অংশীদারত্বের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলাম। সফর শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-কে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬


তিস্তা প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা ও সমর্থন প্রত্যাশা বাংলাদেশের

প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের বহুল আলোচিত ‘তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প’ বাস্তবায়নে চীনের সক্রিয় সম্পৃক্ততা ও কারিগরি সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার (৬ মে) বেইজিংয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই জোরালো আহ্বান জানানো হয়। একইসঙ্গে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক আস্থা বৃদ্ধি এবং উন্নয়ন কৌশল সমন্বয়ে ১০ দফার এক যৌথ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর আমন্ত্রণে বর্তমানে তিন দিনের সরকারি সফরে বেইজিংয়ে রয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। দিয়াওইউতাই স্টেট গেস্ট হাউসে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানা দিক উঠে আসে। যৌথ বিজ্ঞপ্তির ৫ নম্বর দফায় তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিষয়টি বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ তার নিজস্ব উন্নয়ন যাত্রায় পাশে থাকায় চীনকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিস্তা প্রকল্পে বেইজিংয়ের সরাসরি সমর্থন ও অংশগ্রহণ কামনা করে।

বৈঠক শেষে প্রকাশিত ১০ দফার যৌথ ঘোষণায় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে:

  • উন্নয়ন ও বাণিজ্য: ডিজিটাল অর্থনীতি, পানিসম্পদ, স্বাস্থ্য, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা জোরদার এবং ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)’ এর আওতায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিতে উভয় দেশ একমত হয়েছে।
  • এক-চীন নীতি: বাংলাদেশ ‘এক-চীন নীতি’র প্রতি দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং তাইওয়ানকে চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বিপরীতে, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নিজস্ব উন্নয়ন পথের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে চীন।
  • রোহিঙ্গা সংকট: মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে সংলাপের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে সমর্থন দিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বেইজিং।
  • মধ্যপ্রাচ্য ইস্যু: মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি রক্ষায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ফিলিস্তিন ইস্যুতে চীনা প্রেসিডেন্টের উদ্যোগের প্রশংসা করেছে বাংলাদেশ।

সফরকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান চাইনিজ পিপলস পলিটিক্যাল কনসালটেটিভ কনফারেন্সের (সিপিপিসিসি) চেয়ারপারসন ওয়াং হুনিংয়ের সঙ্গেও আলাদা বৈঠক করেন। সেখানে কানেক্টিভিটি ও বিনিয়োগ বাড়াতে কৌশলগত অংশীদারত্বের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলাম। সফর শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-কে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত