সংবাদ

আইনি নোটিশ প্রেরণ

গণভোটের প্রচারে রাষ্ট্রীয় ও ব্যাংকের অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম

গণভোটের প্রচারে রাষ্ট্রীয় ও ব্যাংকের অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ

​আসন্ন সংস্কার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ প্রচারণার কাজে অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয় এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে জোরপূর্বক তহবিল সংগ্রহের অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকারের শীর্ষ আটটি দপ্তরে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে, ২০২৬) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আসলাম মিয়ার পক্ষে ব্যারিস্টার সানাউল্লাহ নূরে এই নোটিশ পাঠান। নোটিশে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ব্যাংক থেকে ৩.৭ কোটি টাকা এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে প্রায় ১৪২ কোটি টাকা ব্যয়ের বিষয়ে তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় উচ্চ আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নোটিশদাতা।
​আইনি নোটিশে অভিযোগ করা হয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি) যৌথভাবে তিনটি সংস্থা; সুজন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র ফাউন্ডেশন (এসএডি) ও ডিবেট ফর ডেমোক্রেসিকে গণভোটের প্রচারের জন্য প্রায় ৩.৭ কোটি টাকা দিয়েছে। নোটিশে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ সচিব, আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, তথ্য সচিব, দুদক চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে বিবাদী করা হয়েছে।
​ঘটনার সূত্রপাত নিয়ে নোটিশে বলা হয়েছে, গত ১১ জানুয়ারি ব্যাংকারদের একটি সভায় তৎকালীন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারককে আমন্ত্রণ জানান। সভার শুরুতে গভর্নর বলেন, "আজকের সভায় একটি বিশেষ এজেন্ডা থাকায় আমি সচিব নাজমা মোবারককে আমন্ত্রণ জানিয়েছি।"
ব্যাংকারদের ফোরামে সচিবের উপস্থিতিকে অস্বাভাবিক দাবি করে নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সেখানে অপ্রত্যাশিতভাবে গণভোটের প্রচারণায় সহায়তার বিষয়টি তোলা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা আপত্তি জানালে তা গ্রাহ্য করা হয়নি। সভার বিষয়ে অভিযোগে বলা হয়েছে, "কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক আপত্তি সত্ত্বেও সভার কার্যবিবরণী থেকে সেই প্রতিবাদের অংশগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে।"
​পরদিন এবিবি নেতাদের ডেকে বড় অংকের তহবিল চাওয়া হলে তারা অস্বীকৃতি জানান। তারা জানান, "সীমিত সম্পদ এবং এসএডি ফাউন্ডেশনের নিবন্ধন না থাকায় এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয়।"
তবে শেষ পর্যন্ত তারা সুজনকে ২.৫ কোটি টাকা এবং ডিবেট ফর ডেমোক্রেসিকে ২০-২৫ লাখ টাকা দিতে সম্মত হয়।
অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক আলাদাভাবে এসএডি-র জন্য ১ কোটি টাকা অনুমোদন করে। নোটিশে অভিযোগ করা হয়, মাত্র ১০ দিনের মধ্যে নিবন্ধনহীন এই সংস্থাটি অর্থ গ্রহণ করে। পরবর্তীতে পরিদর্শন দল তাদের কোনো কার্যালয় না পেয়ে রেস্তোরাঁয় সদস্যদের খুঁজে পায়, যাকে "অত্যন্ত অনিয়মিত" ও দুর্নীতি হিসেবে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
​সিএসআর নীতিমালা অনুযায়ী এই অর্থ ব্যয় অবৈধ দাবি করে নোটিশে আরও বলা হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের নির্দেশে ছয়টি মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন প্রায় ১৪২ কোটি টাকা ব্যয় করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর (CSR) নীতিমালা অনুযায়ী, এই তহবিলের ৩০% শিক্ষা, ৩০% স্বাস্থ্য, ২০% পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং বাকি অংশ খেলাধুলা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে ব্যয় করার কথা। রাজনৈতিক বা গণভোটের প্রচারণায় এই অর্থ ব্যবহার সম্পূর্ণ অবৈধ।

এছাড়া, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সরাসরি নির্দেশে ছয়টি মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রচারণায় রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে আনুমানিক ১৪২ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে, যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। বর্তমান ক্ষমতাসীন দলও একে সমর্থন করেছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

নোটিশদাতা আইনজীবী আসলাম মিয়া দাবি করেন, "প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে সরাসরি এই নির্দেশ প্রদান ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতির প্রমাণ।" নোটিশ প্রাপকরা ব্যবস্থা না নিলে ১৫ দিন পর তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১০ মে ২০২৬


গণভোটের প্রচারে রাষ্ট্রীয় ও ব্যাংকের অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬

featured Image

​আসন্ন সংস্কার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ প্রচারণার কাজে অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয় এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে জোরপূর্বক তহবিল সংগ্রহের অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকারের শীর্ষ আটটি দপ্তরে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে, ২০২৬) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আসলাম মিয়ার পক্ষে ব্যারিস্টার সানাউল্লাহ নূরে এই নোটিশ পাঠান। নোটিশে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ব্যাংক থেকে ৩.৭ কোটি টাকা এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে প্রায় ১৪২ কোটি টাকা ব্যয়ের বিষয়ে তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় উচ্চ আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নোটিশদাতা।
​আইনি নোটিশে অভিযোগ করা হয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি) যৌথভাবে তিনটি সংস্থা; সুজন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র ফাউন্ডেশন (এসএডি) ও ডিবেট ফর ডেমোক্রেসিকে গণভোটের প্রচারের জন্য প্রায় ৩.৭ কোটি টাকা দিয়েছে। নোটিশে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ সচিব, আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, তথ্য সচিব, দুদক চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে বিবাদী করা হয়েছে।
​ঘটনার সূত্রপাত নিয়ে নোটিশে বলা হয়েছে, গত ১১ জানুয়ারি ব্যাংকারদের একটি সভায় তৎকালীন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারককে আমন্ত্রণ জানান। সভার শুরুতে গভর্নর বলেন, "আজকের সভায় একটি বিশেষ এজেন্ডা থাকায় আমি সচিব নাজমা মোবারককে আমন্ত্রণ জানিয়েছি।"
ব্যাংকারদের ফোরামে সচিবের উপস্থিতিকে অস্বাভাবিক দাবি করে নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সেখানে অপ্রত্যাশিতভাবে গণভোটের প্রচারণায় সহায়তার বিষয়টি তোলা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা আপত্তি জানালে তা গ্রাহ্য করা হয়নি। সভার বিষয়ে অভিযোগে বলা হয়েছে, "কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক আপত্তি সত্ত্বেও সভার কার্যবিবরণী থেকে সেই প্রতিবাদের অংশগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে।"
​পরদিন এবিবি নেতাদের ডেকে বড় অংকের তহবিল চাওয়া হলে তারা অস্বীকৃতি জানান। তারা জানান, "সীমিত সম্পদ এবং এসএডি ফাউন্ডেশনের নিবন্ধন না থাকায় এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয়।"
তবে শেষ পর্যন্ত তারা সুজনকে ২.৫ কোটি টাকা এবং ডিবেট ফর ডেমোক্রেসিকে ২০-২৫ লাখ টাকা দিতে সম্মত হয়।
অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক আলাদাভাবে এসএডি-র জন্য ১ কোটি টাকা অনুমোদন করে। নোটিশে অভিযোগ করা হয়, মাত্র ১০ দিনের মধ্যে নিবন্ধনহীন এই সংস্থাটি অর্থ গ্রহণ করে। পরবর্তীতে পরিদর্শন দল তাদের কোনো কার্যালয় না পেয়ে রেস্তোরাঁয় সদস্যদের খুঁজে পায়, যাকে "অত্যন্ত অনিয়মিত" ও দুর্নীতি হিসেবে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
​সিএসআর নীতিমালা অনুযায়ী এই অর্থ ব্যয় অবৈধ দাবি করে নোটিশে আরও বলা হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের নির্দেশে ছয়টি মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন প্রায় ১৪২ কোটি টাকা ব্যয় করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর (CSR) নীতিমালা অনুযায়ী, এই তহবিলের ৩০% শিক্ষা, ৩০% স্বাস্থ্য, ২০% পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং বাকি অংশ খেলাধুলা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে ব্যয় করার কথা। রাজনৈতিক বা গণভোটের প্রচারণায় এই অর্থ ব্যবহার সম্পূর্ণ অবৈধ।

এছাড়া, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সরাসরি নির্দেশে ছয়টি মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রচারণায় রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে আনুমানিক ১৪২ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে, যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। বর্তমান ক্ষমতাসীন দলও একে সমর্থন করেছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

নোটিশদাতা আইনজীবী আসলাম মিয়া দাবি করেন, "প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে সরাসরি এই নির্দেশ প্রদান ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতির প্রমাণ।" নোটিশ প্রাপকরা ব্যবস্থা না নিলে ১৫ দিন পর তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত