ঘটনার পর কোনো নৃশংসতা অস্বীকার করা বা ছোট করে দেখানো নৈতিকভাবে যতই অমার্জনীয় হোক না কেন, তা স্বয়ং কোনো মানবতাবিরোধী অপরাধ নয়। মূল অপরাধ সংঘটনের সঙ্গে যুক্ত করার মতো কোনো প্রমাণ ছাড়া সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু, ফারজানা রূপা ও সাবেক মন্ত্রী দীপু মনির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পরোয়ানা জারির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আইন থেকে ‘সরে আসছে’ বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ সাংবাদিক ও গবেষক ডেভিড বার্গম্যান।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে একে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ আখ্যা দিয়েছেন তিনি। ডেভিড বার্গম্যানের ওই স্ট্যাটাসে পুরো বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আইনি ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে।
২০১৩ সালের মে মাসে হেফাজতে ইসলামের শাপলা চত্বর সমাবেশের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু, উপস্থাপক ফারজানা রূপা ও আওয়ামী লীগ নেতা দীপু মনির বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট (হাজিরার পরোয়ানা) জারি করে ট্রাইব্যুনাল। এর আগে অধিকারকর্মী শাহরিয়ার কবিরের বিরুদ্ধে জারি করা পরোয়ানাকেও ‘উদ্বেগজনক’ বলে মন্তব্য করেন এই গবেষক।
স্ট্যাটাসে বার্গম্যান লেখেন, ২০১৩ সালের মে মাসের হত্যাকাণ্ডগুলোকে একটি সম্ভাব্য মানবতাবিরোধী অপরাধ বা ‘বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর নিয়মতান্ত্রিক হামলার অংশ’ হিসেবে বিবেচনা করা ট্রাইব্যুনালের জন্য 'সম্পূর্ণ বৈধ'।
তবে তিনি মনে করেন, প্রসিকিউটরদের এক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রমাণগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। সফল হতে হলে তাদের অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে যে, হত্যাকাণ্ডগুলো সরকারের কোনো পূর্বনির্ধারিত নীতি বা পরিকল্পনার অধীনে সংঘটিত হয়েছিল। এটি প্রমাণ করা কঠিন হতে পারে এবং প্রকৃতপক্ষে সেখানে কী ঘটেছিল, তা হয়তো এর মাধ্যমে প্রতিফলিত নাও হতে পারে।
বার্গম্যানের মতে, গভীরতর উদ্বেগের জায়গাটি হলো গত বৃহস্পতিবার আদালতে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম এবং গণমাধ্যমের কাছে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামের দেওয়া বক্তব্য থেকে তিনি মনে করছেন, আইসিটি এমন দুটি আইনি তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে অগ্রসর হচ্ছে, আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আইনে যার কোনো ভিত্তি নেই। তিনি উল্লেখ করেন, প্রথটি হলো- সাধারণ সাংবাদিকতার চর্চা (ভাষণ সম্প্রচার, সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ বা প্রকৃতপক্ষে এর বিষয়বস্তুর নিন্দা করা) মানবতাবিরোধী অপরাধে সহায়তা করা ও প্ররোচনা দেওয়ার শামিল হতে পারে। আর দ্বিতীয়ত, হত্যাকাণ্ডের পর এর মাত্রা আড়াল করা বা অস্বীকার করার প্রচেষ্টাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে অপরাধমূলক সম্পৃক্ততা হিসেবে গণ্য করা।
দ্বিতীয় বিষয়টির ব্যাখ্যায় দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বার্গম্যান উল্লেখ করেন, প্রসিকিউটর তামিম ট্রাইব্যুনালকে বলেছেন যে, হত্যাকাণ্ডের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী দীপু মনি ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিকভাবে এমনভাবে তুলে ধরেছিলেন যেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী “একদল উচ্ছৃঙ্খল মানুষকে নির্মূল করেছে।”
অন্যদিকে, চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে, বাবু এবং রূপা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত মাত্রা আড়াল করার চেষ্টা করেছিলেন, জনগণের মনোযোগ ভিন্ন দিকে সরিয়েছিলেন এবং রূপার উপস্থাপনায় একটি অনুষ্ঠানে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে এমন ধারণা দেওয়া হয়েছিল যেন শাপলা চত্বরে কোনো হতাহতের ঘটনাই ঘটেনি। অনুষ্ঠানে “বিতর্কিত ব্যক্তিদের” বক্তব্য প্রচার করে জনমতকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়।
এসব অভিযোগের জবাবে বার্গম্যান তার স্ট্যাটাসে বলেন, "এসব বিষয়ের আইনি জটিলতাটি খুবই স্পষ্ট: দীপু মনি, বাবু এবং রূপার ওপর আরোপিত প্রতিটি কাজই হত্যাকাণ্ডের পরে সংঘটিত হয়েছিল, হত্যাকাণ্ডের আগে বা চলাকালীন নয়। আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আইনের সমগ্র ইতিহাসে—আইসিসি (আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত), আইসিটিওয়াই, আইসিটিআর বা সমতুল্য কোনো ট্রাইব্যুনালে- এমন কোনো প্রতিষ্ঠিত মামলা নেই, যেখানে ঘটনার পরে কোনো নৃশংসতাকে অস্বীকার করা বা ছোট করে দেখানোর ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা করা হয়েছে।"
তিনি আরও যুক্ত করেন, "আইন এর অনুমতি দেয় না। তবে নৈতিকভাবে এটি যতই অমার্জনীয় হোক না কেন, মানবতাবিরোধী অপরাধ অস্বীকার করাটা স্বয়ং কোনো মানবতাবিরোধী অপরাধ নয়।"
মূল অপরাধ সংঘটনের সঙ্গে যুক্ত করার মতো কোনো প্রমাণ ছাড়াই এই পরোয়ানা জারি করা হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে "আইসিটি আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আইন প্রয়োগ করছে না, বরং তা থেকে সরে আসছে বলেই মনে হচ্ছে।"
স্ট্যাটাসে প্রথম বিষয়টির (সাধারণ সাংবাদিকতার চর্চা) ব্যাখ্যায় বার্গম্যান প্রসিকিউটর তামিমের দাবি তুলে ধরেন, যেখানে বলা হয়েছিল রূপা ও বাবু "শুরু থেকেই" একাত্তর টেলিভিশনের মাধ্যমে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে "উসকানিমূলক বক্তব্য" হিসেবে সম্প্রচার করেছিলেন।
এর জবাবে বার্গম্যান বলেন, এর মধ্যে বিন্দুমাত্র অপরাধমূলক কিছু নেই। নারী-পুরুষের মেলামেশা নিষিদ্ধ করা এবং ধর্ম অবমাননার দায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিধানসহ হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবির বেশ কয়েকটি সেসময় চরমপন্থী হিসেবে ব্যাপকভাবে বিবেচিত হয়েছিল এবং এখনও তা-ই আছে, যা মূলধারার বাইরের মতাদর্শ।
বার্গম্যানের মতে, ওই দাবিগুলো নিয়ে প্রতিবেদন করা এবং এর সমালোচনামূলক যাচাই-বাছাই করা সাংবাদিক ও সম্প্রচারকারীদের জন্য আইনসম্মত ছিল। এমনকি তা যদি টিভি সাংবাদিকতার নৈতিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে সমালোচনার যোগ্য কোনো পক্ষপাতদুষ্ট বা পূর্বানুমান নির্ভর উপায়ে করা হয়ে থাকে, তবুও তা আইনসম্মত।
সবশেষে তিনি বলেন, "সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সমাবেশের সময় একাত্তর টিভিতে সম্প্রচারিত কোনো কিছু সরকারকে সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের ওপর প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ করতে প্ররোচিত করেছে বা আহ্বান জানিয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ নেই।"

শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬
ঘটনার পর কোনো নৃশংসতা অস্বীকার করা বা ছোট করে দেখানো নৈতিকভাবে যতই অমার্জনীয় হোক না কেন, তা স্বয়ং কোনো মানবতাবিরোধী অপরাধ নয়। মূল অপরাধ সংঘটনের সঙ্গে যুক্ত করার মতো কোনো প্রমাণ ছাড়া সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু, ফারজানা রূপা ও সাবেক মন্ত্রী দীপু মনির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পরোয়ানা জারির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আইন থেকে ‘সরে আসছে’ বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ সাংবাদিক ও গবেষক ডেভিড বার্গম্যান।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে একে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ আখ্যা দিয়েছেন তিনি। ডেভিড বার্গম্যানের ওই স্ট্যাটাসে পুরো বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আইনি ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে।
২০১৩ সালের মে মাসে হেফাজতে ইসলামের শাপলা চত্বর সমাবেশের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু, উপস্থাপক ফারজানা রূপা ও আওয়ামী লীগ নেতা দীপু মনির বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট (হাজিরার পরোয়ানা) জারি করে ট্রাইব্যুনাল। এর আগে অধিকারকর্মী শাহরিয়ার কবিরের বিরুদ্ধে জারি করা পরোয়ানাকেও ‘উদ্বেগজনক’ বলে মন্তব্য করেন এই গবেষক।
স্ট্যাটাসে বার্গম্যান লেখেন, ২০১৩ সালের মে মাসের হত্যাকাণ্ডগুলোকে একটি সম্ভাব্য মানবতাবিরোধী অপরাধ বা ‘বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর নিয়মতান্ত্রিক হামলার অংশ’ হিসেবে বিবেচনা করা ট্রাইব্যুনালের জন্য 'সম্পূর্ণ বৈধ'।
তবে তিনি মনে করেন, প্রসিকিউটরদের এক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রমাণগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। সফল হতে হলে তাদের অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে যে, হত্যাকাণ্ডগুলো সরকারের কোনো পূর্বনির্ধারিত নীতি বা পরিকল্পনার অধীনে সংঘটিত হয়েছিল। এটি প্রমাণ করা কঠিন হতে পারে এবং প্রকৃতপক্ষে সেখানে কী ঘটেছিল, তা হয়তো এর মাধ্যমে প্রতিফলিত নাও হতে পারে।
বার্গম্যানের মতে, গভীরতর উদ্বেগের জায়গাটি হলো গত বৃহস্পতিবার আদালতে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম এবং গণমাধ্যমের কাছে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামের দেওয়া বক্তব্য থেকে তিনি মনে করছেন, আইসিটি এমন দুটি আইনি তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে অগ্রসর হচ্ছে, আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আইনে যার কোনো ভিত্তি নেই। তিনি উল্লেখ করেন, প্রথটি হলো- সাধারণ সাংবাদিকতার চর্চা (ভাষণ সম্প্রচার, সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ বা প্রকৃতপক্ষে এর বিষয়বস্তুর নিন্দা করা) মানবতাবিরোধী অপরাধে সহায়তা করা ও প্ররোচনা দেওয়ার শামিল হতে পারে। আর দ্বিতীয়ত, হত্যাকাণ্ডের পর এর মাত্রা আড়াল করা বা অস্বীকার করার প্রচেষ্টাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে অপরাধমূলক সম্পৃক্ততা হিসেবে গণ্য করা।
দ্বিতীয় বিষয়টির ব্যাখ্যায় দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বার্গম্যান উল্লেখ করেন, প্রসিকিউটর তামিম ট্রাইব্যুনালকে বলেছেন যে, হত্যাকাণ্ডের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী দীপু মনি ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিকভাবে এমনভাবে তুলে ধরেছিলেন যেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী “একদল উচ্ছৃঙ্খল মানুষকে নির্মূল করেছে।”
অন্যদিকে, চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে, বাবু এবং রূপা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত মাত্রা আড়াল করার চেষ্টা করেছিলেন, জনগণের মনোযোগ ভিন্ন দিকে সরিয়েছিলেন এবং রূপার উপস্থাপনায় একটি অনুষ্ঠানে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে এমন ধারণা দেওয়া হয়েছিল যেন শাপলা চত্বরে কোনো হতাহতের ঘটনাই ঘটেনি। অনুষ্ঠানে “বিতর্কিত ব্যক্তিদের” বক্তব্য প্রচার করে জনমতকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়।
এসব অভিযোগের জবাবে বার্গম্যান তার স্ট্যাটাসে বলেন, "এসব বিষয়ের আইনি জটিলতাটি খুবই স্পষ্ট: দীপু মনি, বাবু এবং রূপার ওপর আরোপিত প্রতিটি কাজই হত্যাকাণ্ডের পরে সংঘটিত হয়েছিল, হত্যাকাণ্ডের আগে বা চলাকালীন নয়। আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আইনের সমগ্র ইতিহাসে—আইসিসি (আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত), আইসিটিওয়াই, আইসিটিআর বা সমতুল্য কোনো ট্রাইব্যুনালে- এমন কোনো প্রতিষ্ঠিত মামলা নেই, যেখানে ঘটনার পরে কোনো নৃশংসতাকে অস্বীকার করা বা ছোট করে দেখানোর ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা করা হয়েছে।"
তিনি আরও যুক্ত করেন, "আইন এর অনুমতি দেয় না। তবে নৈতিকভাবে এটি যতই অমার্জনীয় হোক না কেন, মানবতাবিরোধী অপরাধ অস্বীকার করাটা স্বয়ং কোনো মানবতাবিরোধী অপরাধ নয়।"
মূল অপরাধ সংঘটনের সঙ্গে যুক্ত করার মতো কোনো প্রমাণ ছাড়াই এই পরোয়ানা জারি করা হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে "আইসিটি আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আইন প্রয়োগ করছে না, বরং তা থেকে সরে আসছে বলেই মনে হচ্ছে।"
স্ট্যাটাসে প্রথম বিষয়টির (সাধারণ সাংবাদিকতার চর্চা) ব্যাখ্যায় বার্গম্যান প্রসিকিউটর তামিমের দাবি তুলে ধরেন, যেখানে বলা হয়েছিল রূপা ও বাবু "শুরু থেকেই" একাত্তর টেলিভিশনের মাধ্যমে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে "উসকানিমূলক বক্তব্য" হিসেবে সম্প্রচার করেছিলেন।
এর জবাবে বার্গম্যান বলেন, এর মধ্যে বিন্দুমাত্র অপরাধমূলক কিছু নেই। নারী-পুরুষের মেলামেশা নিষিদ্ধ করা এবং ধর্ম অবমাননার দায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিধানসহ হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবির বেশ কয়েকটি সেসময় চরমপন্থী হিসেবে ব্যাপকভাবে বিবেচিত হয়েছিল এবং এখনও তা-ই আছে, যা মূলধারার বাইরের মতাদর্শ।
বার্গম্যানের মতে, ওই দাবিগুলো নিয়ে প্রতিবেদন করা এবং এর সমালোচনামূলক যাচাই-বাছাই করা সাংবাদিক ও সম্প্রচারকারীদের জন্য আইনসম্মত ছিল। এমনকি তা যদি টিভি সাংবাদিকতার নৈতিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে সমালোচনার যোগ্য কোনো পক্ষপাতদুষ্ট বা পূর্বানুমান নির্ভর উপায়ে করা হয়ে থাকে, তবুও তা আইনসম্মত।
সবশেষে তিনি বলেন, "সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সমাবেশের সময় একাত্তর টিভিতে সম্প্রচারিত কোনো কিছু সরকারকে সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের ওপর প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ করতে প্ররোচিত করেছে বা আহ্বান জানিয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ নেই।"

আপনার মতামত লিখুন