সংবাদ

মাছ ধরার ট্রলারের আড়ালে মিয়ানমারে পণ্য পাচার


প্রতিনিধি, চরফ্যাশন (ভোলা)
প্রতিনিধি, চরফ্যাশন (ভোলা)
প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬, ১০:১৭ এএম

মাছ ধরার ট্রলারের আড়ালে মিয়ানমারে পণ্য পাচার
পাচারকাজে ব্যবহৃত ট্রলার। ছবি : সংবাদ

ভোলার মনপুরায় মাছ ধরার ট্রলারের আড়ালে জ্বালানি তেল ও খাদ্যশস্যসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মিয়ানমারে পাচার করা হচ্ছে। একটি প্রভাবশালী চক্র এই পাচার বাণিজ্যে মেতে উঠেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাচার শেষে ট্রলারগুলো ফেরার সময় নিয়ে আসছে কোটি কোটি টাকার মাদকের চালান।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই পাচারকারী চক্রের ১৯ জন সক্রিয় সদস্যের নাম উঠে এসেছে। চক্রের অন্যতম হোতা হিসেবে অভিযুক্ত হয়েছেন দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের ফুয়াদ নামের এক ব্যক্তি। পেশায় জেলে হলেও এই চক্রের সদস্যরা সমুদ্র উপকূল ব্যবহার করে কৌশলে বছরের পর বছর এই অবৈধ কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চক্রটি নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে জ্বালানি তেল, নির্মাণসামগ্রী ও চাল-ডালের মতো ভোগ্যপণ্য সংগ্রহ করে। পরে সেগুলো মনপুরার সমুদ্র উপকূল হয়ে রাতের আঁধারে নিঝুম দ্বীপের পূর্ব পাশে ‘দমার চর’ এলাকায় নেওয়া হয়। সেখান থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ট্রলারবোঝাই পণ্য মিয়ানমারে খালাস করা হয়। ফেরার পথে প্রতিটি ট্রলার মাদকের বড় চালান নিয়ে আসে, যা স্থানীয় ডিলারদের মাধ্যমে চড়া দামে বিক্রি করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক জেলে জানান, গত মে ও এপ্রিল মাসে মনপুরার তালতলা ও জনতাবাজার মৎস্যঘাট এবং চরফ্যাশনের সামরাজ ঘাট থেকে একাধিক ট্রলার পণ্য নিয়ে মিয়ানমারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান অভিযুক্ত ফুয়াদ বলেন, ‘আমি তেল বিক্রি করি। আমার অধীনে ১০টি ট্রলার আছে। তারা তেল নিয়ে কী করে, তা আমার জানা নেই।’ তবে অভিযুক্ত অন্য ব্যক্তিদের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

হাতিয়া কোস্টগার্ড কন্টিনজেন্ট কমান্ডার জানান, ইতিমধ্যে পাচারকারী চক্রের বেশ কিছু মালামাল ও ট্রলার জব্দ করা হয়েছে। সাগরে কোস্টগার্ডের নিয়মিত টহল অব্যাহত রয়েছে।

মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ উদ্দিন বলেন, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে যারা পাচার কাজে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভোলার পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত। যেহেতু এটি সমুদ্রপথের বিষয়, তাই নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। কোনো জেলের জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬


মাছ ধরার ট্রলারের আড়ালে মিয়ানমারে পণ্য পাচার

প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬

featured Image

ভোলার মনপুরায় মাছ ধরার ট্রলারের আড়ালে জ্বালানি তেল ও খাদ্যশস্যসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মিয়ানমারে পাচার করা হচ্ছে। একটি প্রভাবশালী চক্র এই পাচার বাণিজ্যে মেতে উঠেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাচার শেষে ট্রলারগুলো ফেরার সময় নিয়ে আসছে কোটি কোটি টাকার মাদকের চালান।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই পাচারকারী চক্রের ১৯ জন সক্রিয় সদস্যের নাম উঠে এসেছে। চক্রের অন্যতম হোতা হিসেবে অভিযুক্ত হয়েছেন দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের ফুয়াদ নামের এক ব্যক্তি। পেশায় জেলে হলেও এই চক্রের সদস্যরা সমুদ্র উপকূল ব্যবহার করে কৌশলে বছরের পর বছর এই অবৈধ কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চক্রটি নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে জ্বালানি তেল, নির্মাণসামগ্রী ও চাল-ডালের মতো ভোগ্যপণ্য সংগ্রহ করে। পরে সেগুলো মনপুরার সমুদ্র উপকূল হয়ে রাতের আঁধারে নিঝুম দ্বীপের পূর্ব পাশে ‘দমার চর’ এলাকায় নেওয়া হয়। সেখান থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ট্রলারবোঝাই পণ্য মিয়ানমারে খালাস করা হয়। ফেরার পথে প্রতিটি ট্রলার মাদকের বড় চালান নিয়ে আসে, যা স্থানীয় ডিলারদের মাধ্যমে চড়া দামে বিক্রি করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক জেলে জানান, গত মে ও এপ্রিল মাসে মনপুরার তালতলা ও জনতাবাজার মৎস্যঘাট এবং চরফ্যাশনের সামরাজ ঘাট থেকে একাধিক ট্রলার পণ্য নিয়ে মিয়ানমারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান অভিযুক্ত ফুয়াদ বলেন, ‘আমি তেল বিক্রি করি। আমার অধীনে ১০টি ট্রলার আছে। তারা তেল নিয়ে কী করে, তা আমার জানা নেই।’ তবে অভিযুক্ত অন্য ব্যক্তিদের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

হাতিয়া কোস্টগার্ড কন্টিনজেন্ট কমান্ডার জানান, ইতিমধ্যে পাচারকারী চক্রের বেশ কিছু মালামাল ও ট্রলার জব্দ করা হয়েছে। সাগরে কোস্টগার্ডের নিয়মিত টহল অব্যাহত রয়েছে।

মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ উদ্দিন বলেন, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে যারা পাচার কাজে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভোলার পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত। যেহেতু এটি সমুদ্রপথের বিষয়, তাই নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। কোনো জেলের জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত