সংবাদ

আশাশুনিতে ১০ হাজার বিঘা ধান নিমজ্জিত

ধানক্ষেতে লোনাপানি, কার স্বার্থে এই সর্বনাশ


প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম

ধানক্ষেতে লোনাপানি, কার স্বার্থে এই সর্বনাশ
ছবি : সংগৃহীত

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের কালকি স্লুইসগেট দিয়ে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে লোনাপানি প্রবেশ করানোর ফলে প্রায় ১০ হাজার বিঘা বোরো ধানের জমি প্লাবিত হয়েছে। এতে ওই এলাকার হাজার হাজার কৃষক চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

এই সংকট নিরসনে এবং লোনাপানি প্রবেশ বন্ধের দাবিতে সোমবার (১১ মে) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসী।

ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষে ‘বাংলাদেশে লিঙ্গ-সংবেদনশীল দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস’ (GRDRRIB) প্রকল্পের আওতাভুক্ত আনুলিয়া ইউনিয়নের নারী নেতৃত্বাধীন ‘সংগ্রামী বেড়িবাঁধ সুরক্ষা দল’-এর সভাপতি আফরোজা খানম এই স্মারকলিপি তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ সালমা খাতুন, সদস্য রোজিনা খাতুন ও আনজুয়ারা খাতুন।

স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, কয়েক দিন আগে একদল দুর্বৃত্ত নিজেদের স্বার্থে স্লুইসগেটের কপাট খুলে দিয়ে কপোতাক্ষ নদের লোনাপানি বিলে প্রবেশ করায়। এতে গজুয়াকাটি, রাউতাড়া, গোয়ালডাঙ্গা, পিরোজপুর, খালিয়া ও ফটিকখালীসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের বোরো ধান কাটার আগেই তলিয়ে গেছে। নোনা পানির প্রভাবে এসব জমিতে আউশ চাষও এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

ভুক্তভোগী কৃষকদের বরাত দিয়ে বেড়িবাঁধ সুরক্ষা দলের সদস্যরা জানান, লোনাপানির প্রভাবে শুধু ধান নয়, পরিবেশেরও মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। গাছপালা মরে যাচ্ছে এবং মাঠের ঘাস নষ্ট হওয়ায় গবাদিপশুর খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া পুকুর ও জলাশয়ে লোনাপানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না ও গোসলের উপযোগী মিষ্টি পানির তীব্র সংকট শুরু হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, একটি প্রভাবশালী মহল বিলে মাছ ধরা ও মৎস্য ঘেরে পানি তোলার উদ্দেশ্যে স্লুইসগেটের কপাট খুলে দিয়েছে। ব্যক্তিস্বার্থে এই জনপদকে দীর্ঘস্থায়ী পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁদের।

স্মারকলিপিতে দুটি প্রধান দাবি তুলে ধরা হয় : 

১. অবিলম্বে কালকি স্লুইসগেট দিয়ে লোনাপানি প্রবেশ স্থায়ীভাবে বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।

২. স্লুইসগেট তদারকির জন্য স্থানীয় কৃষক ও সচেতন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা।

আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু স্মারকলিপিটি গ্রহণ করে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, এমবাসি অব সুইডেন ঢাকা ও ইউএন উইমেন-এর সহযোগিতায় এএফএডি, এএসডিডিডব্লিউ ও বিন্দু নারী উন্নয়ন সংগঠন সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১১ মে ২০২৬


ধানক্ষেতে লোনাপানি, কার স্বার্থে এই সর্বনাশ

প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬

featured Image

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের কালকি স্লুইসগেট দিয়ে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে লোনাপানি প্রবেশ করানোর ফলে প্রায় ১০ হাজার বিঘা বোরো ধানের জমি প্লাবিত হয়েছে। এতে ওই এলাকার হাজার হাজার কৃষক চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

এই সংকট নিরসনে এবং লোনাপানি প্রবেশ বন্ধের দাবিতে সোমবার (১১ মে) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসী।

ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষে ‘বাংলাদেশে লিঙ্গ-সংবেদনশীল দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস’ (GRDRRIB) প্রকল্পের আওতাভুক্ত আনুলিয়া ইউনিয়নের নারী নেতৃত্বাধীন ‘সংগ্রামী বেড়িবাঁধ সুরক্ষা দল’-এর সভাপতি আফরোজা খানম এই স্মারকলিপি তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ সালমা খাতুন, সদস্য রোজিনা খাতুন ও আনজুয়ারা খাতুন।

স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, কয়েক দিন আগে একদল দুর্বৃত্ত নিজেদের স্বার্থে স্লুইসগেটের কপাট খুলে দিয়ে কপোতাক্ষ নদের লোনাপানি বিলে প্রবেশ করায়। এতে গজুয়াকাটি, রাউতাড়া, গোয়ালডাঙ্গা, পিরোজপুর, খালিয়া ও ফটিকখালীসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের বোরো ধান কাটার আগেই তলিয়ে গেছে। নোনা পানির প্রভাবে এসব জমিতে আউশ চাষও এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

ভুক্তভোগী কৃষকদের বরাত দিয়ে বেড়িবাঁধ সুরক্ষা দলের সদস্যরা জানান, লোনাপানির প্রভাবে শুধু ধান নয়, পরিবেশেরও মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। গাছপালা মরে যাচ্ছে এবং মাঠের ঘাস নষ্ট হওয়ায় গবাদিপশুর খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া পুকুর ও জলাশয়ে লোনাপানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না ও গোসলের উপযোগী মিষ্টি পানির তীব্র সংকট শুরু হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, একটি প্রভাবশালী মহল বিলে মাছ ধরা ও মৎস্য ঘেরে পানি তোলার উদ্দেশ্যে স্লুইসগেটের কপাট খুলে দিয়েছে। ব্যক্তিস্বার্থে এই জনপদকে দীর্ঘস্থায়ী পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁদের।

স্মারকলিপিতে দুটি প্রধান দাবি তুলে ধরা হয় : 

১. অবিলম্বে কালকি স্লুইসগেট দিয়ে লোনাপানি প্রবেশ স্থায়ীভাবে বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।

২. স্লুইসগেট তদারকির জন্য স্থানীয় কৃষক ও সচেতন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা।

আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু স্মারকলিপিটি গ্রহণ করে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, এমবাসি অব সুইডেন ঢাকা ও ইউএন উইমেন-এর সহযোগিতায় এএফএডি, এএসডিডিডব্লিউ ও বিন্দু নারী উন্নয়ন সংগঠন সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত