নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে ধান কাটার ভরা মৌসুমে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। অনেক নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যাওয়ায় কোমরসমান পানিতে নেমে ধান কাটতে হচ্ছে তাদের।
সরেজমিনে উপজেলার জিনারদী, গজারিয়া ও ডাঙ্গা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টির পানিতে বহু জমির ধান অর্ধেক ডুবে আছে। দ্রুত ধান সংগ্রহ করতে কৃষকরা তালের গাছের ভেলা (স্থানীয় ভাষায় ‘কোন্দা’) ও বড় প্লাস্টিকের পাত্র ব্যবহার করছেন। রাবানের পলাশতলী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই কৃষকরা ধান কেটে ডাঙায় তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।
কৃষক সুকুমার দাস ও যোগেন দত্ত জানান, ফলন ভালো হলেও বৃষ্টির কারণে ধান কাটতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেক ধানে ইতিমধ্যে কুশি গজিয়ে গেছে। এছাড়া ধান ও খড় শুকানোর জায়গা না থাকায় তারা দুশ্চিন্তায় আছেন। একদিকে শ্রমিকের চড়া মজুরি (দিনপ্রতি ১৪০০-১৫০০ টাকা), অন্যদিকে গোখাদ্যের সংকটের আশঙ্কা, সব মিলিয়ে কৃষকের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ।
পলাশ উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার উপজেলায় ৪ হাজার ১৬৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। মোট ফলনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৮ হাজার ৩২২ মেট্রিক টন। হেক্টরপ্রতি গড় ফলন হয়েছে ৬ দশমিক ৮০ মেট্রিক টন। এবার ব্রি ৮৯, ১০০, ১০১, ১০২, ১০৮ সহ বিভিন্ন উফশী ও হাইব্রিড জাতের ধান চাষ করেছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, বৃষ্টির আগেই বেশির ভাগ ধান কাটা হয়ে গিয়েছিল। এখন যা অবশিষ্ট আছে, তা দ্রুত কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ধান ভালো রাখার জন্য মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত তদারকি করেছেন এবং কৃষকদের ফেরোমন ফাঁদসহ আধুনিক বালাইনাশক ব্যবহারে উৎসাহিত করা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন