সংবাদ

ঘটনাস্থলে এমপি রতন

অপরিকল্পিত শিল্পায়নে ‘কৃষিজমি-খাল দখল’


প্রতিনিধি, গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ)
প্রতিনিধি, গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ)
প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ১১:৫৫ পিএম

অপরিকল্পিত শিল্পায়নে ‘কৃষিজমি-খাল দখল’

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও মেঘনা-গোমতী নদীবেষ্টিত ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা অনেক আগে থেকেই উদ্যোক্তাদের কাছে আকর্ষণীয়। দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিত শিল্পায়নের কারণে দিন দিন কমে যাচ্ছে এই এলাকার কৃষি জমির পরিমাণ।

এক সময় কৃষিনির্ভর এলাকা হিসেবে পরিচিত এই উপজেলায় বর্তমানে দ্রুত হারে গড়ে উঠছে বিভিন্ন শিল্পকারখানা, ইটভাটা ও আবাসন প্রকল্প। ফলে তিন ফসলি উর্বর জমি হারিয়ে যাচ্ছে এবং কৃষি উপৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

ব্যক্তি মালিকানাধীন কৃষিজমি জোরপূর্বক দখল করে বালু ভরাট এবং সরকারি খাল দখলের অভিযোগও আছে।

সম্প্রতি এ ধরণের একটি অভিযোগ পেয়ে সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেছেন মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মো. কামরুজ্জামান রতন। ঘটনা মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার চর বাউশিয়া মৌজায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চর বাউশিয়া মৌজার বড় কান্দি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তি মালিকানাধীন তিন ফসলি জমিতে জোরপূর্বক বালু ভরাট করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পাশের সরকারি খাল দখল করে ভরাটের মাধ্যমে জমি দখলের চেষ্টা চলছে।

অভিযোগ আমলে নিয়ে খতিয়ে দেখতে গতকাল সোমবার বিকেলে দিকে চর বাউশিয়া যান এমপি রতন। গাড়ি থেকে নেমে প্রায় দুই কিলোমিটার হেঁটে বালু ভরাট এলাকায় যান তিনি। গজারিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. সামিউল আরেফিন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন। উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে  এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মুন্সিগঞ্জ জেলা জাসাস সভাপতি হাসান জাহাঙ্গীর, গজারিয়া উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসলামুজ্জোহা চৌধুরী তপন, গজারিয়া উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক খন্দকার জালাল রিমু, স্থানীয় ইউপি সদস্য এবাদুল্লাহ (মেম্বার), ভবেরচর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব রুহুল আমিন সরকার,উপজেলা ছাএদলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান, যুবদল নেতা শাহদাত হোসেন পান্নুসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

অপরিকল্পিত শিল্পায়ন

স্থানীয়দের অভিযোগ, তিন ফসলি জমিতে শিল্প কারখানা স্থাপন সরকারিভাবে নিষিদ্ধ থাকলেও বিভিন্ন কৌশলে জমি ভরাট করে কারখানা নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে স্থানীয় প্রশাসনের তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

এছাড়া, কৃষি জমি থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হয়ে পড়ছে এবং পরবর্তিতে এসব জমিতে ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে বলেও জানান তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার মহাসড়ক সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকা এবং নদীর তীর ঘেঁষে অপরিকল্পিতভাবে ছোট-বড় প্রায় শতাধিক  শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে তিন ফসলি জমিতে মাটি ভরাট করে কারখানা নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন কৃষি জমির পরিমাণ কমছে, অন্যদিকে শিল্পকারখানার বর্জ্য নদীর পানিতে মিশে পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে গজারিয়া উপজেলায় নীট আবাদি জমির পরিমাণ ছিল প্রায় ৬ হাজার ৮৭২ হেক্টর। বর্তমানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ হাজার ৩৮৯ হেক্টরে। গত আট বছরে ৪৩৮ হেক্টর বা প্রায় ১ হাজার ৩০০ বিঘা আবাদি জমি কমেছে।

স্থানীয় কৃষক মো. আব্দুল করিম বলেন, “আগে আমাদের এলাকায় অধিকাংশ জমিতে বছরে তিনটি ফসল হতো। এখন অনেক জমি কারখানার দখলে চলে গেছে। আবার অনেক জমির মাটি ইটভাটায় বিক্রি করায় জমির উৎপাদন ক্ষমতাও কমে গেছে।”

গজারিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল আরাফাত বিন সিদ্দিক  এ বিষয়ে বলেন, “কৃষি জমি রক্ষায় সরকার বিভিন্ন নীতিমালা গ্রহণ করেছে। তিন ফসলি জমিতে শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের বিষয়ে বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে কোথাও এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬


অপরিকল্পিত শিল্পায়নে ‘কৃষিজমি-খাল দখল’

প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬

featured Image

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও মেঘনা-গোমতী নদীবেষ্টিত ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা অনেক আগে থেকেই উদ্যোক্তাদের কাছে আকর্ষণীয়। দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিত শিল্পায়নের কারণে দিন দিন কমে যাচ্ছে এই এলাকার কৃষি জমির পরিমাণ।

এক সময় কৃষিনির্ভর এলাকা হিসেবে পরিচিত এই উপজেলায় বর্তমানে দ্রুত হারে গড়ে উঠছে বিভিন্ন শিল্পকারখানা, ইটভাটা ও আবাসন প্রকল্প। ফলে তিন ফসলি উর্বর জমি হারিয়ে যাচ্ছে এবং কৃষি উপৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

ব্যক্তি মালিকানাধীন কৃষিজমি জোরপূর্বক দখল করে বালু ভরাট এবং সরকারি খাল দখলের অভিযোগও আছে।

সম্প্রতি এ ধরণের একটি অভিযোগ পেয়ে সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেছেন মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মো. কামরুজ্জামান রতন। ঘটনা মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার চর বাউশিয়া মৌজায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চর বাউশিয়া মৌজার বড় কান্দি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তি মালিকানাধীন তিন ফসলি জমিতে জোরপূর্বক বালু ভরাট করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পাশের সরকারি খাল দখল করে ভরাটের মাধ্যমে জমি দখলের চেষ্টা চলছে।

অভিযোগ আমলে নিয়ে খতিয়ে দেখতে গতকাল সোমবার বিকেলে দিকে চর বাউশিয়া যান এমপি রতন। গাড়ি থেকে নেমে প্রায় দুই কিলোমিটার হেঁটে বালু ভরাট এলাকায় যান তিনি। গজারিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. সামিউল আরেফিন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন। উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে  এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মুন্সিগঞ্জ জেলা জাসাস সভাপতি হাসান জাহাঙ্গীর, গজারিয়া উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসলামুজ্জোহা চৌধুরী তপন, গজারিয়া উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক খন্দকার জালাল রিমু, স্থানীয় ইউপি সদস্য এবাদুল্লাহ (মেম্বার), ভবেরচর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব রুহুল আমিন সরকার,উপজেলা ছাএদলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান, যুবদল নেতা শাহদাত হোসেন পান্নুসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

অপরিকল্পিত শিল্পায়ন

স্থানীয়দের অভিযোগ, তিন ফসলি জমিতে শিল্প কারখানা স্থাপন সরকারিভাবে নিষিদ্ধ থাকলেও বিভিন্ন কৌশলে জমি ভরাট করে কারখানা নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে স্থানীয় প্রশাসনের তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

এছাড়া, কৃষি জমি থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হয়ে পড়ছে এবং পরবর্তিতে এসব জমিতে ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে বলেও জানান তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার মহাসড়ক সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকা এবং নদীর তীর ঘেঁষে অপরিকল্পিতভাবে ছোট-বড় প্রায় শতাধিক  শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে তিন ফসলি জমিতে মাটি ভরাট করে কারখানা নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন কৃষি জমির পরিমাণ কমছে, অন্যদিকে শিল্পকারখানার বর্জ্য নদীর পানিতে মিশে পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে গজারিয়া উপজেলায় নীট আবাদি জমির পরিমাণ ছিল প্রায় ৬ হাজার ৮৭২ হেক্টর। বর্তমানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ হাজার ৩৮৯ হেক্টরে। গত আট বছরে ৪৩৮ হেক্টর বা প্রায় ১ হাজার ৩০০ বিঘা আবাদি জমি কমেছে।

স্থানীয় কৃষক মো. আব্দুল করিম বলেন, “আগে আমাদের এলাকায় অধিকাংশ জমিতে বছরে তিনটি ফসল হতো। এখন অনেক জমি কারখানার দখলে চলে গেছে। আবার অনেক জমির মাটি ইটভাটায় বিক্রি করায় জমির উৎপাদন ক্ষমতাও কমে গেছে।”

গজারিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল আরাফাত বিন সিদ্দিক  এ বিষয়ে বলেন, “কৃষি জমি রক্ষায় সরকার বিভিন্ন নীতিমালা গ্রহণ করেছে। তিন ফসলি জমিতে শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের বিষয়ে বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে কোথাও এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত