রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত শাহ আলী মাজারে বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্য দায়ীদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে। শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
বিবৃতিতে
ড. ইফতেখারুজ্জামান এই আক্রমণকে কেবল
একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখতে
নারাজ। তিনি বলেন, “এই
নির্লজ্জ ও কাপুরুষোচিত আক্রমণ
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশের লোকজ
ঐতিহ্যের পরিপন্থী শক্তির উত্থান ও দেশব্যাপী বহু
মত, বহুধর্মী, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ওপর সহিংস ও
ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা। এটিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে বিবেচনা
করার কোনো সুযোগ নেই।
বরং সুপরিকল্পিতভাবে বিদ্বেষ ও হিংসা ছড়িয়ে
আবহমান বাঙালির উদারনৈতিক লোকজ ঐতিহ্য ও
সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যময় চর্চার ক্ষেত্র ও মাধ্যমসমূহ ধ্বংস
করে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে বিকশিত করার সুদূরপ্রসারী ছকের
অংশ, যা মুক্তচিন্তা ও
সহিষ্ণু আচরণের ধারক ও বাহক
তথা দেশবাসীর জন্য অশনিসংকেত।”
মাজারে
হামলার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নিয়ে সংস্থাটি বিশেষ
গুরুত্বারোপ করেছে। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ শুধু প্রত্যাখ্যান যথেষ্ট
নয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জুলাই আন্দোলনের
মূল চেতনার পাশাপাশি এ দেশের চিরায়ত
সাংস্কৃতিক, আধ্যাত্মিক ও সামাজিক বৈচিত্র্যের
সহাবস্থানের যে গৌরবোজ্জ্বল সংস্কৃতি
রয়েছে, এ ব্যাপারে তাদের
ও ধর্মভিত্তিক অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর
অবস্থান পরিষ্কার করার আহ্বান জানাই।”
একইসঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের
নিবৃত্ত করতে কার্যকর কর্মকৌশল
গ্রহণেরও দাবি জানান।
বিচারের
সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা না হওয়ায় এমন
ঘটনা বারবার ঘটছে উল্লেখ করে
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জুলাই আন্দোলনের
মূল চেতনা ও অভীষ্টের ধারক
শক্তি হিসেবে বিপুল জনসমর্থনে নির্বাচিত বর্তমান বিএনপি সরকার। সামাজিক বৈচিত্র্যের সহাবস্থান পরিপন্থী এ ধ্বংসাত্মক অপতৎপরতা
প্রতিরোধের দায়িত্ব সরকারের। এর আগের সহিংস
ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে ন্যায়বিচারের ন্যূনতম দৃষ্টান্ত যদি থাকত, তাহলে
শাহ আলীর মাজারের ঘটনা
এড়ানো যেত বলে বিশ্বাস
করি।” তিনি স্পষ্টভাবে জানান
যে, সংবিধানে প্রত্যেক নাগরিকের নিজস্ব বিশ্বাস ও সংস্কৃতি লালনের
অধিকার রয়েছে এবং এটি নিশ্চিত
করার দায়িত্ব রাজনৈতিক দল ও সরকার
উভয়েরই। যার ব্যত্যয় ঘটলে
দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো হুমকির মুখে পড়বে।

রোববার, ১৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬
রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত শাহ আলী মাজারে বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্য দায়ীদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে। শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
বিবৃতিতে
ড. ইফতেখারুজ্জামান এই আক্রমণকে কেবল
একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখতে
নারাজ। তিনি বলেন, “এই
নির্লজ্জ ও কাপুরুষোচিত আক্রমণ
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশের লোকজ
ঐতিহ্যের পরিপন্থী শক্তির উত্থান ও দেশব্যাপী বহু
মত, বহুধর্মী, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ওপর সহিংস ও
ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা। এটিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে বিবেচনা
করার কোনো সুযোগ নেই।
বরং সুপরিকল্পিতভাবে বিদ্বেষ ও হিংসা ছড়িয়ে
আবহমান বাঙালির উদারনৈতিক লোকজ ঐতিহ্য ও
সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যময় চর্চার ক্ষেত্র ও মাধ্যমসমূহ ধ্বংস
করে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে বিকশিত করার সুদূরপ্রসারী ছকের
অংশ, যা মুক্তচিন্তা ও
সহিষ্ণু আচরণের ধারক ও বাহক
তথা দেশবাসীর জন্য অশনিসংকেত।”
মাজারে
হামলার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নিয়ে সংস্থাটি বিশেষ
গুরুত্বারোপ করেছে। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ শুধু প্রত্যাখ্যান যথেষ্ট
নয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জুলাই আন্দোলনের
মূল চেতনার পাশাপাশি এ দেশের চিরায়ত
সাংস্কৃতিক, আধ্যাত্মিক ও সামাজিক বৈচিত্র্যের
সহাবস্থানের যে গৌরবোজ্জ্বল সংস্কৃতি
রয়েছে, এ ব্যাপারে তাদের
ও ধর্মভিত্তিক অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর
অবস্থান পরিষ্কার করার আহ্বান জানাই।”
একইসঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের
নিবৃত্ত করতে কার্যকর কর্মকৌশল
গ্রহণেরও দাবি জানান।
বিচারের
সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা না হওয়ায় এমন
ঘটনা বারবার ঘটছে উল্লেখ করে
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জুলাই আন্দোলনের
মূল চেতনা ও অভীষ্টের ধারক
শক্তি হিসেবে বিপুল জনসমর্থনে নির্বাচিত বর্তমান বিএনপি সরকার। সামাজিক বৈচিত্র্যের সহাবস্থান পরিপন্থী এ ধ্বংসাত্মক অপতৎপরতা
প্রতিরোধের দায়িত্ব সরকারের। এর আগের সহিংস
ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে ন্যায়বিচারের ন্যূনতম দৃষ্টান্ত যদি থাকত, তাহলে
শাহ আলীর মাজারের ঘটনা
এড়ানো যেত বলে বিশ্বাস
করি।” তিনি স্পষ্টভাবে জানান
যে, সংবিধানে প্রত্যেক নাগরিকের নিজস্ব বিশ্বাস ও সংস্কৃতি লালনের
অধিকার রয়েছে এবং এটি নিশ্চিত
করার দায়িত্ব রাজনৈতিক দল ও সরকার
উভয়েরই। যার ব্যত্যয় ঘটলে
দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো হুমকির মুখে পড়বে।

আপনার মতামত লিখুন