সংবাদ

হজের বিমান ভাড়া ১ লাখ টাকায় নামানো সম্ভব: হাব


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬, ১২:০৪ এএম

হজের বিমান ভাড়া ১ লাখ টাকায় নামানো সম্ভব: হাব

  • একচেটিয়া ব্যবসা বন্ধ হলে কমবে হজের খরচ
  • বিমান ভাড়া ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা করার দাবি

এয়ারলাইন্সগুলোর অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রবণতা বন্ধ করা গেলে হজের মোট খরচ কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার।

তিনি বলেছেন, ‘হজ ডেডিকেটেড ফ্লাইটের নামে বিমান সংস্থাগুলো হজযাত্রীদের কাছ থেকে প্রায় ৫৪ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। এই মনোপলি বা একচেটিয়া ব্যবসার কারণে সাধারণ যাত্রীদের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ছে।গতকাল সকালে রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্পে ২০২৬ সালের হজ কার্যক্রমের সর্বশেষ পরিস্থিতি সার্বিক অবস্থা নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি মন্তব্য করেন।

আগামী বছরের হজযাত্রার টিকেট মূল্য কমিয়ে লাখ টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব মন্তব্য করে হাব সভাপতি বলেন, ‘মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য রুখতে পারলে হজের সার্বিক খরচ অনেক কমে আসবে, যা সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকবে।

এক প্রশ্নের জবাবে গোলাম সরওয়ার বলেন, ‘আমাদের টিকেটের দাম যদি কমে যেতো, হাজিদের কোটা কিন্তু পূরণ হয়ে যেত। টিকেটের দাম যদি আমরা লাখ টাকার মধ্যে আনতে পারতাম, তাহলে আমাদের লাখ ২৯ হাজার হাজি যেতে পারতো। আমাদের টিকেটের মূল্য এবং মোয়াল্লেমের খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমাদের হাজি কমে গেছে। আমরা সরকারের সঙ্গে কথা বলেছি, আশা করি ২০২৭ সালে আমাদের টিকেটের দাম কমবে।

সংবাদ সম্মেলনে চলতি বছরের হজের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন সংগঠনের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার। তিনি বলেন, ‘এবার দ্রুততম সময়ের মধ্যে মোয়াল্লেম চুক্তি, বাড়ি ভাড়া, ট্রান্সপোর্ট চুক্তি এবং তাঁবু নির্বাচনের কাজ করতে হয়েছে। নানামুখী চ্যালেঞ্জ মাথায় নিয়ে চললেও শেষ পর্যন্ত ধর্ম মন্ত্রণালয়, হজ অফিস এবং হাবের যৌথ সহযোগিতায় এবারের হজ ব্যবস্থাপনা সফল সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

হজ ফ্লাইটের খরচ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশ থেকে কোনো ডেডিকেটেড হজ ফ্লাইট পরিচালনা করা হয় না। অথচ ডেডিকেটেড হজ ফ্লাইটের কথা বলে বেশি বিমানভাড়া নেয়া হয়। শিডিউল ফ্লাইটগুলোকে তারা ডেডিকেটেড ডিক্লেয়ার করে তারা হজ ফ্লাইট করেন। সে কারণে বিমানভাড়া আরও কম এবং যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ হওয়া উচিত।

সর্বোচ্চ বিমানভাড়া লাখ থেকে লাখ ২০ হাজার টাকা হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। সৌদি সরকারের বেশ কিছু নতুন নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে হাব নেতারা দেশের বিদ্যমান হজ ওমরাহ আইন দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নেতারা আশ্বস্ত করেন, ভিসা এবং ফ্লাইট সংক্রান্ত জটিলতাগুলো কেটে যাওয়ায় কোটা অনুযায়ী দেশের সব হজযাত্রী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরাপদে সৌদি আরব পৌঁছাতে পারবেন। এবার বিমান চলাচল নিয়ে বড় কোনো শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা নেই বলে তাদের ভাষ্য। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নেতা এবং আশকোনা হজ ক্যাম্পের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৭ মে ২০২৬


হজের বিমান ভাড়া ১ লাখ টাকায় নামানো সম্ভব: হাব

প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬

featured Image

  • একচেটিয়া ব্যবসা বন্ধ হলে কমবে হজের খরচ
  • বিমান ভাড়া ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা করার দাবি

এয়ারলাইন্সগুলোর অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রবণতা বন্ধ করা গেলে হজের মোট খরচ কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার।

তিনি বলেছেন, ‘হজ ডেডিকেটেড ফ্লাইটের নামে বিমান সংস্থাগুলো হজযাত্রীদের কাছ থেকে প্রায় ৫৪ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। এই মনোপলি বা একচেটিয়া ব্যবসার কারণে সাধারণ যাত্রীদের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ছে।গতকাল সকালে রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্পে ২০২৬ সালের হজ কার্যক্রমের সর্বশেষ পরিস্থিতি সার্বিক অবস্থা নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি মন্তব্য করেন।

আগামী বছরের হজযাত্রার টিকেট মূল্য কমিয়ে লাখ টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব মন্তব্য করে হাব সভাপতি বলেন, ‘মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য রুখতে পারলে হজের সার্বিক খরচ অনেক কমে আসবে, যা সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকবে।

এক প্রশ্নের জবাবে গোলাম সরওয়ার বলেন, ‘আমাদের টিকেটের দাম যদি কমে যেতো, হাজিদের কোটা কিন্তু পূরণ হয়ে যেত। টিকেটের দাম যদি আমরা লাখ টাকার মধ্যে আনতে পারতাম, তাহলে আমাদের লাখ ২৯ হাজার হাজি যেতে পারতো। আমাদের টিকেটের মূল্য এবং মোয়াল্লেমের খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমাদের হাজি কমে গেছে। আমরা সরকারের সঙ্গে কথা বলেছি, আশা করি ২০২৭ সালে আমাদের টিকেটের দাম কমবে।

সংবাদ সম্মেলনে চলতি বছরের হজের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন সংগঠনের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার। তিনি বলেন, ‘এবার দ্রুততম সময়ের মধ্যে মোয়াল্লেম চুক্তি, বাড়ি ভাড়া, ট্রান্সপোর্ট চুক্তি এবং তাঁবু নির্বাচনের কাজ করতে হয়েছে। নানামুখী চ্যালেঞ্জ মাথায় নিয়ে চললেও শেষ পর্যন্ত ধর্ম মন্ত্রণালয়, হজ অফিস এবং হাবের যৌথ সহযোগিতায় এবারের হজ ব্যবস্থাপনা সফল সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

হজ ফ্লাইটের খরচ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশ থেকে কোনো ডেডিকেটেড হজ ফ্লাইট পরিচালনা করা হয় না। অথচ ডেডিকেটেড হজ ফ্লাইটের কথা বলে বেশি বিমানভাড়া নেয়া হয়। শিডিউল ফ্লাইটগুলোকে তারা ডেডিকেটেড ডিক্লেয়ার করে তারা হজ ফ্লাইট করেন। সে কারণে বিমানভাড়া আরও কম এবং যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ হওয়া উচিত।

সর্বোচ্চ বিমানভাড়া লাখ থেকে লাখ ২০ হাজার টাকা হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। সৌদি সরকারের বেশ কিছু নতুন নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে হাব নেতারা দেশের বিদ্যমান হজ ওমরাহ আইন দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নেতারা আশ্বস্ত করেন, ভিসা এবং ফ্লাইট সংক্রান্ত জটিলতাগুলো কেটে যাওয়ায় কোটা অনুযায়ী দেশের সব হজযাত্রী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরাপদে সৌদি আরব পৌঁছাতে পারবেন। এবার বিমান চলাচল নিয়ে বড় কোনো শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা নেই বলে তাদের ভাষ্য। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নেতা এবং আশকোনা হজ ক্যাম্পের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত