সংবাদ

ইউনূস প্রশাসনের কর্মকাণ্ড তদন্তে ‘কমিশন’ গঠনের রিট: আদেশ বৃহস্পতিবার


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬, ০২:৪১ পিএম

ইউনূস প্রশাসনের কর্মকাণ্ড তদন্তে ‘কমিশন’ গঠনের রিট: আদেশ বৃহস্পতিবার

  • দেশ আমেরিকার দাসত্বের দিকে যাচ্ছে কি না তদন্ত চান রিটকারী
  • সরকারের বক্তব্য জানতে সময় নিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা . মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের যাবতীয় কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখতে একটিকমিশন অব ইনকোয়ারিবা তদন্ত কমিশন গঠনের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

রবিবার (১৭ মে) রিটের শুনানি শেষে বিচারপতি আহমেদ সোহেল বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশের জন্য আগামী বৃহস্পতিবার (২১ মে) দিন ধার্য করেছেন। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম কে রহমান রিটকারী আইনজীবী মহসিন রশীদ।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। শুনানি শেষে রিটকারী আইনজীবী মহসিন রশীদ জানান, আদালত তাদের পিটিশনটিকেঅত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিস্তারিতবলে মন্তব্য করেছেন। অন্য দিকে বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানাতে অ্যাটর্নি জেনারেল সময় চেয়েছেন।

শুনানি শেষে আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইনজীবী এম কে রহমান বলেন, “আমরা শুধু একটিকমিশন অব ইনকোয়ারিচেয়েছি। ইউনূস সাহেবের আমলে যা কিছু ঘটেছে, তার একটি সুষ্ঠু তদন্ত আমরা চাই।

তদন্তের বিষয়বস্তু সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “দেশকে আমেরিকার দাসত্বের দিকে নিয়ে যাওয়া, টিকা না কেনায় শিশুদের মৃত্যুর মতো যে অভিযোগগুলো উঠেছে, আমরা মূলত এগুলোর তদন্ত চেয়েছি। তবে আমরা কমিশনের কোনোকার্যপরিধিবা টার্মস অব রেফারেন্স (টিওআর) নির্দিষ্ট করে দিইনি। কমিশন কী কী বিষয়ে তদন্ত করবে, সেই টার্মস অব রেফারেন্স সরকারই নির্ধারণ করবে।

আদালতের পর্যবেক্ষণের বিষয়ে তিনি বলেন, “কোর্ট আমাদের বলেছেন যে, আমাদের পিটিশনটি বেশ বিস্তারিত (এক্সজস্টিভ) এবং আমরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় (ভেরি ইম্পর্টেন্ট থিংস) সামনে এনেছি।

এই আইনজীবী জানান, শুনানিকালে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল উপস্থিত ছিলেন। তিনি বিষয়ে সরকারের নির্দেশনা (ইনস্ট্রাকশন) জেনে এসে আদালতকে জানাবেন বলে সময় চেয়েছেন।

অ্যাটর্নি জেনারেলের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে রিটকারী বলেন, “অ্যাটর্নি জেনারেল সাহেব বলেছেন তিনি সরকারের কাছ থেকে জেনে আসবেন। এটি খুব ভালো উদ্যোগ। আমরাও চাই তিনি নির্দেশনা নিয়ে আসুন। এরপর সরকার যদি মনে করে যে তারা কোনো তদন্ত করবে না, তবে দেশের জনগণ সেটা দেখবে। এখানে আমাদের আর কিছু করার থাকবে না।

শুনানিতে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পতন অভ্যুত্থান প্রসঙ্গেও আলোচনা ওঠে। বিষয়ে আইনজীবী এম কে রহমান তার অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, “আদালতে আমাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, এটি যদি অভ্যুত্থান না হয়, তবে কী? আমি বলেছি, সেনাবাহিনী যদি শেখ হাসিনাকে না সরাতো, তাকে ওখান থেকে নিয়ে না যেত, তাহলে আমি মানতাম যে জনগণ সরিয়েছে। সেনাবাহিনী জনগণের জন্য রাস্তা খুলে দিয়েছিল, ব্যারিকেড সরিয়ে নিয়েছিল বলেই এটি সম্ভব হয়েছে।

তবে শেখ হাসিনা সরকারের পক্ষে তিনি কোনো সাফাই গাইছেন না দাবি করে তিনি বলেন, “আমি শেখ হাসিনা বা তার সরকারের পক্ষে কথা বলছি না। আমি নিজেই তার বিরুদ্ধে ছিলাম। আমি আন্দোলন করেছি, আমার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আমার মূল উদ্দেশ্য হলো সাংবিধানিক সুরক্ষা (কনস্টিটিউশনাল সেফগার্ড) নিশ্চিত করা, যেন ভবিষ্যতে ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬


ইউনূস প্রশাসনের কর্মকাণ্ড তদন্তে ‘কমিশন’ গঠনের রিট: আদেশ বৃহস্পতিবার

প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬

featured Image

  • দেশ আমেরিকার দাসত্বের দিকে যাচ্ছে কি না তদন্ত চান রিটকারী
  • সরকারের বক্তব্য জানতে সময় নিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা . মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের যাবতীয় কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখতে একটিকমিশন অব ইনকোয়ারিবা তদন্ত কমিশন গঠনের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

রবিবার (১৭ মে) রিটের শুনানি শেষে বিচারপতি আহমেদ সোহেল বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশের জন্য আগামী বৃহস্পতিবার (২১ মে) দিন ধার্য করেছেন। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম কে রহমান রিটকারী আইনজীবী মহসিন রশীদ।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। শুনানি শেষে রিটকারী আইনজীবী মহসিন রশীদ জানান, আদালত তাদের পিটিশনটিকেঅত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিস্তারিতবলে মন্তব্য করেছেন। অন্য দিকে বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানাতে অ্যাটর্নি জেনারেল সময় চেয়েছেন।

শুনানি শেষে আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইনজীবী এম কে রহমান বলেন, “আমরা শুধু একটিকমিশন অব ইনকোয়ারিচেয়েছি। ইউনূস সাহেবের আমলে যা কিছু ঘটেছে, তার একটি সুষ্ঠু তদন্ত আমরা চাই।

তদন্তের বিষয়বস্তু সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “দেশকে আমেরিকার দাসত্বের দিকে নিয়ে যাওয়া, টিকা না কেনায় শিশুদের মৃত্যুর মতো যে অভিযোগগুলো উঠেছে, আমরা মূলত এগুলোর তদন্ত চেয়েছি। তবে আমরা কমিশনের কোনোকার্যপরিধিবা টার্মস অব রেফারেন্স (টিওআর) নির্দিষ্ট করে দিইনি। কমিশন কী কী বিষয়ে তদন্ত করবে, সেই টার্মস অব রেফারেন্স সরকারই নির্ধারণ করবে।

আদালতের পর্যবেক্ষণের বিষয়ে তিনি বলেন, “কোর্ট আমাদের বলেছেন যে, আমাদের পিটিশনটি বেশ বিস্তারিত (এক্সজস্টিভ) এবং আমরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় (ভেরি ইম্পর্টেন্ট থিংস) সামনে এনেছি।

এই আইনজীবী জানান, শুনানিকালে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল উপস্থিত ছিলেন। তিনি বিষয়ে সরকারের নির্দেশনা (ইনস্ট্রাকশন) জেনে এসে আদালতকে জানাবেন বলে সময় চেয়েছেন।

অ্যাটর্নি জেনারেলের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে রিটকারী বলেন, “অ্যাটর্নি জেনারেল সাহেব বলেছেন তিনি সরকারের কাছ থেকে জেনে আসবেন। এটি খুব ভালো উদ্যোগ। আমরাও চাই তিনি নির্দেশনা নিয়ে আসুন। এরপর সরকার যদি মনে করে যে তারা কোনো তদন্ত করবে না, তবে দেশের জনগণ সেটা দেখবে। এখানে আমাদের আর কিছু করার থাকবে না।

শুনানিতে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পতন অভ্যুত্থান প্রসঙ্গেও আলোচনা ওঠে। বিষয়ে আইনজীবী এম কে রহমান তার অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, “আদালতে আমাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, এটি যদি অভ্যুত্থান না হয়, তবে কী? আমি বলেছি, সেনাবাহিনী যদি শেখ হাসিনাকে না সরাতো, তাকে ওখান থেকে নিয়ে না যেত, তাহলে আমি মানতাম যে জনগণ সরিয়েছে। সেনাবাহিনী জনগণের জন্য রাস্তা খুলে দিয়েছিল, ব্যারিকেড সরিয়ে নিয়েছিল বলেই এটি সম্ভব হয়েছে।

তবে শেখ হাসিনা সরকারের পক্ষে তিনি কোনো সাফাই গাইছেন না দাবি করে তিনি বলেন, “আমি শেখ হাসিনা বা তার সরকারের পক্ষে কথা বলছি না। আমি নিজেই তার বিরুদ্ধে ছিলাম। আমি আন্দোলন করেছি, আমার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আমার মূল উদ্দেশ্য হলো সাংবিধানিক সুরক্ষা (কনস্টিটিউশনাল সেফগার্ড) নিশ্চিত করা, যেন ভবিষ্যতে ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত