খুলনার ডুমুরিয়ায় জব্দের পর হরিণের মাংস ভাগ করে নেওয়া এবং অভিযুক্তকে ঘুষ নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে ২ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রোববার (১৭ মে) দুপুরে তাদের খুলনা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।
প্রত্যাহার হওয়া দুই সদস্য হলেন- কনস্টেবল মো. মাইনুল ইসলাম ও মো. মুছাব্বির হোসেন। তারা ডুমুরিয়া থানার শোভনা পুলিশ ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন।
ডুমুরিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আছের আলি জানান, গত ১২ মে দুপুরে ডুমুরিয়ার মাদারতলা এলাকায় ১৫ কেজি হরিণের মাংসসহ সুফল মন্ডল নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেন ওই ২ পুলিশ সদস্য। পরে তারা মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে সুফলের কাছ থেকে টাকা নেন এবং জব্দ করা মাংস নিজেরা ভাগাভাগি করে নেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হরিণের মাংসের উৎস সন্ধানেও তদন্ত চলছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনের ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে বাংলাদেশ অংশ গঠিত। আইইউসিএন-এর ২০২৩ সালের জরিপ বলছে, বর্তমানে সুন্দরবনে হরিণের সংখ্যা ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৪টি, যা ২০০৪ সালে ছিল ৮৩ হাজার। সংখ্যা বাড়লেও বন কর্মকর্তা ও রক্ষীদের একাংশের যোগসাজশে সারা বছরই হরিণ শিকার চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব শিকারি চক্রের নেপথ্যে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা ‘গডফাদাররা’ রয়েছেন বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।
সুন্দরবন-সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, উৎসবে হরিণের মাংসের চাহিদা বেড়ে যায়। ধনাঢ্য ব্যক্তিদের শখ মেটাতে চোরা শিকারিরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। লোকালয়ে প্রতি কেজি হরিণের মাংস ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হলেও জেলা শহরে এর দাম ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। এমনকি জ্যান্ত হরিণও ১৫-২০ হাজার টাকায় কেনাবেচা হয়।
সুন্দরবন ও বাংলাদেশ উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক শুভ্র শচীন বলেন, বাঘের প্রধান খাদ্য হরিণ শিকার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। মাঝেমধ্যে দু-একজন বাহক ধরা পড়লেও মূল হোতারা আড়ালেই থেকে যায়। দুর্বল আইনের কারণে অপরাধীরা পার পেয়ে আবার একই কাজে লিপ্ত হচ্ছে।
তবে বন বিভাগ দাবি করেছে, তারা তৎপর রয়েছে। সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, নিয়মিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ ফাঁদ ধ্বংস করায় হরিণ শিকার আগের চেয়ে কমেছে। খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, সীমিত জনবল ও ভৌগোলিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বন ও বন্য প্রাণী রক্ষায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬
খুলনার ডুমুরিয়ায় জব্দের পর হরিণের মাংস ভাগ করে নেওয়া এবং অভিযুক্তকে ঘুষ নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে ২ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রোববার (১৭ মে) দুপুরে তাদের খুলনা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।
প্রত্যাহার হওয়া দুই সদস্য হলেন- কনস্টেবল মো. মাইনুল ইসলাম ও মো. মুছাব্বির হোসেন। তারা ডুমুরিয়া থানার শোভনা পুলিশ ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন।
ডুমুরিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আছের আলি জানান, গত ১২ মে দুপুরে ডুমুরিয়ার মাদারতলা এলাকায় ১৫ কেজি হরিণের মাংসসহ সুফল মন্ডল নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেন ওই ২ পুলিশ সদস্য। পরে তারা মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে সুফলের কাছ থেকে টাকা নেন এবং জব্দ করা মাংস নিজেরা ভাগাভাগি করে নেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হরিণের মাংসের উৎস সন্ধানেও তদন্ত চলছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনের ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে বাংলাদেশ অংশ গঠিত। আইইউসিএন-এর ২০২৩ সালের জরিপ বলছে, বর্তমানে সুন্দরবনে হরিণের সংখ্যা ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৪টি, যা ২০০৪ সালে ছিল ৮৩ হাজার। সংখ্যা বাড়লেও বন কর্মকর্তা ও রক্ষীদের একাংশের যোগসাজশে সারা বছরই হরিণ শিকার চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব শিকারি চক্রের নেপথ্যে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা ‘গডফাদাররা’ রয়েছেন বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।
সুন্দরবন-সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, উৎসবে হরিণের মাংসের চাহিদা বেড়ে যায়। ধনাঢ্য ব্যক্তিদের শখ মেটাতে চোরা শিকারিরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। লোকালয়ে প্রতি কেজি হরিণের মাংস ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হলেও জেলা শহরে এর দাম ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। এমনকি জ্যান্ত হরিণও ১৫-২০ হাজার টাকায় কেনাবেচা হয়।
সুন্দরবন ও বাংলাদেশ উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক শুভ্র শচীন বলেন, বাঘের প্রধান খাদ্য হরিণ শিকার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। মাঝেমধ্যে দু-একজন বাহক ধরা পড়লেও মূল হোতারা আড়ালেই থেকে যায়। দুর্বল আইনের কারণে অপরাধীরা পার পেয়ে আবার একই কাজে লিপ্ত হচ্ছে।
তবে বন বিভাগ দাবি করেছে, তারা তৎপর রয়েছে। সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, নিয়মিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ ফাঁদ ধ্বংস করায় হরিণ শিকার আগের চেয়ে কমেছে। খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, সীমিত জনবল ও ভৌগোলিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বন ও বন্য প্রাণী রক্ষায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আপনার মতামত লিখুন