সংবাদ

শ্রীমঙ্গলে পর্যটন ও শিল্পে নতুন দিগন্ত


প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল
প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল
প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম

শ্রীমঙ্গলে পর্যটন ও শিল্পে নতুন দিগন্ত
নোয়াগাঁও গ্রামে গড়ে ওঠা একটি আধুনিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান। ছবি : সংবাদ

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল এখন কেবল পর্যটনের জনপদ নয়, বরং শিল্প ও বাণিজ্যের এক উদীয়মান কেন্দ্র। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই উপজেলার চা-শিল্প ও পর্যটন খাতের পরিধি ছাড়িয়ে এখন বিভিন্ন গ্রামেও পৌঁছে গেছে উন্নয়নের ছোঁয়া। বিশেষ করে শ্রীমঙ্গল শহর থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নোয়াগাঁও গ্রামটি এখন পূর্ণাঙ্গ এক অর্থনৈতিক অঞ্চলে রূপ নিচ্ছে।

নোয়াগাঁওয়ের এই পরিবর্তনের মূলে রয়েছে এর দীর্ঘ সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাস। ব্রিটিশ আমল থেকেই এলাকাটি সচেতন জনপদ হিসেবে পরিচিত। দেশভাগের পর এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন তৎকালীন জনপ্রতিনিধি যতীন্দ্রমোহন দত্ত চৌধুরী। পরবর্তীতে তার উত্তরসূরি ধীরেন্দ্র দত্ত চৌধুরী এবং রাসেন্দ্র দত্ত চৌধুরী স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি হিসেবে রাস্তাঘাট ও যোগাযোগের আমূল পরিবর্তন আনেন। এই ধারাবাহিক নেতৃত্বই গ্রামটির আজকের শিল্পায়নের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে।

ভৌগোলিক অবস্থানের সুবিধার কারণে বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান এখন নোয়াগাঁওয়ের দিকে ঝুঁকছে। বর্তমানে এখানে প্রাণ-আরএফএল-এর মাছের হ্যাচারি, হেলদি চয়েজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, বাংলাদেশ বনশিল্প করপোরেশন, ইস্পাহানি টি কোম্পানি ও ন্যাজারিন মিশনের মতো প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ ছাড়া কারিতাস বাংলাদেশের মতো উন্নয়ন সংস্থাও এখানে সক্রিয়। এসব প্রতিষ্ঠানে স্থানীয় শ্রমজীবী মানুষের ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্র বদলে দিচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের মতে, নোয়াগাঁওয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি এর যোগাযোগব্যবস্থা। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের খুব কাছে হওয়ায় এখান থেকে চট্টগ্রাম বন্দর, আশুগঞ্জ নৌবন্দর এবং ঢাকা ও সিলেটের বিমানবন্দরে পণ্য পরিবহন সহজ। সড়ক ও রেলপথের সুবিধা থাকায় চা প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্যাকেজিং শিল্পের জন্য এলাকাটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় হয়ে উঠেছে।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ও বাইক্কা বিলের নিকটবর্তী হওয়ায় নোয়াগাঁওয়ে রিসোর্ট ও পর্যটন ব্যবসার প্রসার ঘটছে। পাশাপাশি স্থানীয় তরুণরা ফ্রিল্যান্সিং ও ই-কমার্সের মতো ডিজিটাল ব্যবসায় যুক্ত হচ্ছেন। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মতে, পরিকল্পিত সরকারি সহায়তা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে নোয়াগাঁও অচিরেই দেশের একটি আদর্শ ‘অর্থনৈতিক গ্রাম’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


শ্রীমঙ্গলে পর্যটন ও শিল্পে নতুন দিগন্ত

প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬

featured Image

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল এখন কেবল পর্যটনের জনপদ নয়, বরং শিল্প ও বাণিজ্যের এক উদীয়মান কেন্দ্র। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই উপজেলার চা-শিল্প ও পর্যটন খাতের পরিধি ছাড়িয়ে এখন বিভিন্ন গ্রামেও পৌঁছে গেছে উন্নয়নের ছোঁয়া। বিশেষ করে শ্রীমঙ্গল শহর থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নোয়াগাঁও গ্রামটি এখন পূর্ণাঙ্গ এক অর্থনৈতিক অঞ্চলে রূপ নিচ্ছে।

নোয়াগাঁওয়ের এই পরিবর্তনের মূলে রয়েছে এর দীর্ঘ সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাস। ব্রিটিশ আমল থেকেই এলাকাটি সচেতন জনপদ হিসেবে পরিচিত। দেশভাগের পর এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন তৎকালীন জনপ্রতিনিধি যতীন্দ্রমোহন দত্ত চৌধুরী। পরবর্তীতে তার উত্তরসূরি ধীরেন্দ্র দত্ত চৌধুরী এবং রাসেন্দ্র দত্ত চৌধুরী স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি হিসেবে রাস্তাঘাট ও যোগাযোগের আমূল পরিবর্তন আনেন। এই ধারাবাহিক নেতৃত্বই গ্রামটির আজকের শিল্পায়নের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে।

ভৌগোলিক অবস্থানের সুবিধার কারণে বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান এখন নোয়াগাঁওয়ের দিকে ঝুঁকছে। বর্তমানে এখানে প্রাণ-আরএফএল-এর মাছের হ্যাচারি, হেলদি চয়েজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, বাংলাদেশ বনশিল্প করপোরেশন, ইস্পাহানি টি কোম্পানি ও ন্যাজারিন মিশনের মতো প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ ছাড়া কারিতাস বাংলাদেশের মতো উন্নয়ন সংস্থাও এখানে সক্রিয়। এসব প্রতিষ্ঠানে স্থানীয় শ্রমজীবী মানুষের ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্র বদলে দিচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের মতে, নোয়াগাঁওয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি এর যোগাযোগব্যবস্থা। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের খুব কাছে হওয়ায় এখান থেকে চট্টগ্রাম বন্দর, আশুগঞ্জ নৌবন্দর এবং ঢাকা ও সিলেটের বিমানবন্দরে পণ্য পরিবহন সহজ। সড়ক ও রেলপথের সুবিধা থাকায় চা প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্যাকেজিং শিল্পের জন্য এলাকাটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় হয়ে উঠেছে।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ও বাইক্কা বিলের নিকটবর্তী হওয়ায় নোয়াগাঁওয়ে রিসোর্ট ও পর্যটন ব্যবসার প্রসার ঘটছে। পাশাপাশি স্থানীয় তরুণরা ফ্রিল্যান্সিং ও ই-কমার্সের মতো ডিজিটাল ব্যবসায় যুক্ত হচ্ছেন। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মতে, পরিকল্পিত সরকারি সহায়তা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে নোয়াগাঁও অচিরেই দেশের একটি আদর্শ ‘অর্থনৈতিক গ্রাম’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত