সংবাদ

বিচারপতির নাম ভাঙিয়ে ‘ঘুষ’

অভিযোগ অস্বীকার আইনজীবীর, ব্যবসায়ীকে নোটিস


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম

অভিযোগ অস্বীকার আইনজীবীর, ব্যবসায়ীকে নোটিস
ছবি : সংগৃহীত

সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ও আদালতকে ম্যানেজ করে পক্ষে রায় আনার কথা বলে ৫ কোটি টাকার বেশি ‘ঘুষ’ দেওয়ার কথা স্বীকার করায় ব্যবসায়ী কে এম সোহেলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে নোটিস পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে তার কাছ থেকে এই টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন অ্যাডভোকেট মো. আবুল হাশেম।

হাশেমের দাবি, তিনি হাই কোর্টের আইনজীবীর পোশাক পরেননি, ওই ছবি ‘এআই’ (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) দিয়ে বানানো।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সুপ্রিম কোর্টের আটজন আইনজীবীর পক্ষে ব্যারিস্টার মো. সোলায়মান (তুষার) ইমেইলের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজিপি, ডিএমপি কমিশনার ও দুদকের চেয়ারম্যানকে এই আইনি নোটিশ পাঠান।

ব্যারিস্টার মো. সোলায়মান বলেন, "আইনি নোটিস পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে ব্যবসায়ী সোহেলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নিলে সুপ্রিম কোর্টে রিট দায়েরসহ অন্যান্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

নোটিসে বলা হয়, ফুলবাড়িয়ার সিটি প্লাজা মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও আদি বাংলা গার্মেন্টসের মালিক কে এম সোহেল আইনসম্মত পথ ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে নিজের বা তার সমিতির পক্ষে রায় আদায়ের জন্য আবুল হাশেমকে অর্থ দিয়েছিলেন। তিনি নিজের এই কাজের জন্য সরাসরি দায়ী, যা ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধি, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং ২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের অধীনে একটি ফৌজদারি অপরাধ। তাই তার বিরুদ্ধে মামলা করা বিবাদীদের আইনি দায়িত্ব।

অভিযোগ অস্বীকার ও হাশেমের পাল্টা দাবি

এর আগে ব্যবসায়ী কে এম সোহেল অভিযোগ করেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ম্যানেজ করা এবং রায় পক্ষে আনার কথা বলে আবুল হাশেম তার কাছ থেকে ৫ কোটি ২১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ বিষয়ে তিনি পিবিআইসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছেন।

তবে এই অভিযোগ ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ দাবি করে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের সামনে সাংবাদিকদের কাছে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন আবুল হাশেম।

নিজেকে জজ কোর্টের আইনজীবী দাবি করে তিনি বলেন, "আমি হাই কোর্টে সরকারি চাকরি করতাম। ২০২২ সালে স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়ার পর আমি ঢাকা বারের সনদ পেয়েছি। কিন্তু আমি হাই কোর্টে কোনো ব্যান্ড পরি নাই। যেটা করছে সেটা এআই দিয়ে করা হয়েছে।"

বিচারপতির নাম ভাঙিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে হাশেম বলেন, “আমি হাই কোর্টে কোনো মামলায় ফাইলিং লইয়ার ছিলাম না এবং কোনো মামলার তদবিরও করি নাই। মার্কেটে আমার আত্মীয়স্বজনের দোকান ছিল, সেই হিসেবে আমি পরামর্শক ছিলাম। কিন্তু বিচারপতির নাম বেচা, ঘুষ দেওয়ার যে কথা বলছে— তা মিথ্যা। আমি তার কাছ থেকে কোনো টাকাই নিই নাই।”

উল্টো ওই ব্যবসায়ীর কাছে টাকা পাওয়ার দাবি করে তিনি বলেন, “ওই টাউট মার্কেটের লোক থেকে ১ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা নিছে আমাকে দেবে বলে। আমার থেকে নিছে ৪০ লক্ষ টাকা। আমার ৪০ লাখ টাকা মারার পরে সে আমাকে বলে, মার্কেট থেকে আরও ৫ কোটি টাকা আদায় করে দেন। আমি বলেছি, প্রশ্নই আসে না। ইভেন কি তার একটা ভুয়া পাওয়ার অব অ্যাটর্নি ঢোকাতে বলেছিল আমাকে, আমি রাজি হইনি। এটাই তার সাথে আমার জেদ।”

ব্যবসায়ী সোহেলের বিরুদ্ধে ‘রায় চুরির’ গুরুতর অভিযোগ তুলে আবুল হাশেম বলেন, "বিকেল ৫টার পরে জজ সাহেবের চেম্বারের রুম খুলিয়ে মুহুরী হুমায়ুন ও জাহাঙ্গীরের মাধ্যমে জাজমেন্ট চুরি করে নিয়ে গেছে। সিসি ক্যামেরায় আমরা দেখেছি জাজমেন্ট কেমনে চুরি করেছে। এই লোকটা বাটপার। তার বিরুদ্ধে মুগদা ও মিরপুর থানায় মার্ডার কেসসহ একাধিক মামলা আছে, সে জেলও খেটেছে।"

মানহানি মামলার হুঁশিয়ারি

এ সময় আবুল হাশেমের পক্ষে কথা বলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দ। তিনি বলেন, “আবুল হাশেম সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট নন, তিনি জজ কোর্টের ঢাকা বারের নিয়মিত সদস্য। আসল ঘটনা হলো, তিনি অবসরের টাকা থেকে ৪০ লাখ টাকা চেক মারফত দিয়েছিলেন। সেই টাকা না পাওয়ায় তিনি একটি চেকের মামলা করেন, যে মামলার আসামি এই অভিযোগকারী। এর জের ধরেই তিনি মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন।”

বিচারাধীন বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করায় ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়ে ইউনুস আলী আকন্দ বলেন, “মার্কেটের দোকান বরাদ্দ নিয়ে করা রিট এবং আপিলের পর সরকার এখন একটি রিভিউ পিটিশন করেছে, যা সাব-জুডিস। এই অবস্থায় সংবাদ সম্মেলন করে কোর্ট ও বিচারপতিদের ইমেজ নষ্ট করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তার বিরুদ্ধে ৫০০ ও ৫০৬ ধারায় মানহানির মামলা এবং আদালত অবমাননার মামলা করা হবে।”

থানা ও বার কাউন্সিলে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “বার কাউন্সিলে অভিযোগ দিতেই পারে, সেটা স্ক্রুটিনি হবে। আর শাহবাগ থানায় যেটা হয়েছে সেটা কেবলই অভিযোগ, কোনো এফআইআর বা মামলা হয়নি।”

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


অভিযোগ অস্বীকার আইনজীবীর, ব্যবসায়ীকে নোটিস

প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬

featured Image

সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ও আদালতকে ম্যানেজ করে পক্ষে রায় আনার কথা বলে ৫ কোটি টাকার বেশি ‘ঘুষ’ দেওয়ার কথা স্বীকার করায় ব্যবসায়ী কে এম সোহেলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে নোটিস পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে তার কাছ থেকে এই টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন অ্যাডভোকেট মো. আবুল হাশেম।

হাশেমের দাবি, তিনি হাই কোর্টের আইনজীবীর পোশাক পরেননি, ওই ছবি ‘এআই’ (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) দিয়ে বানানো।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সুপ্রিম কোর্টের আটজন আইনজীবীর পক্ষে ব্যারিস্টার মো. সোলায়মান (তুষার) ইমেইলের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজিপি, ডিএমপি কমিশনার ও দুদকের চেয়ারম্যানকে এই আইনি নোটিশ পাঠান।

ব্যারিস্টার মো. সোলায়মান বলেন, "আইনি নোটিস পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে ব্যবসায়ী সোহেলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নিলে সুপ্রিম কোর্টে রিট দায়েরসহ অন্যান্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

নোটিসে বলা হয়, ফুলবাড়িয়ার সিটি প্লাজা মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও আদি বাংলা গার্মেন্টসের মালিক কে এম সোহেল আইনসম্মত পথ ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে নিজের বা তার সমিতির পক্ষে রায় আদায়ের জন্য আবুল হাশেমকে অর্থ দিয়েছিলেন। তিনি নিজের এই কাজের জন্য সরাসরি দায়ী, যা ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধি, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং ২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের অধীনে একটি ফৌজদারি অপরাধ। তাই তার বিরুদ্ধে মামলা করা বিবাদীদের আইনি দায়িত্ব।

অভিযোগ অস্বীকার ও হাশেমের পাল্টা দাবি

এর আগে ব্যবসায়ী কে এম সোহেল অভিযোগ করেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ম্যানেজ করা এবং রায় পক্ষে আনার কথা বলে আবুল হাশেম তার কাছ থেকে ৫ কোটি ২১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ বিষয়ে তিনি পিবিআইসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছেন।

তবে এই অভিযোগ ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ দাবি করে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের সামনে সাংবাদিকদের কাছে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন আবুল হাশেম।

নিজেকে জজ কোর্টের আইনজীবী দাবি করে তিনি বলেন, "আমি হাই কোর্টে সরকারি চাকরি করতাম। ২০২২ সালে স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়ার পর আমি ঢাকা বারের সনদ পেয়েছি। কিন্তু আমি হাই কোর্টে কোনো ব্যান্ড পরি নাই। যেটা করছে সেটা এআই দিয়ে করা হয়েছে।"

বিচারপতির নাম ভাঙিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে হাশেম বলেন, “আমি হাই কোর্টে কোনো মামলায় ফাইলিং লইয়ার ছিলাম না এবং কোনো মামলার তদবিরও করি নাই। মার্কেটে আমার আত্মীয়স্বজনের দোকান ছিল, সেই হিসেবে আমি পরামর্শক ছিলাম। কিন্তু বিচারপতির নাম বেচা, ঘুষ দেওয়ার যে কথা বলছে— তা মিথ্যা। আমি তার কাছ থেকে কোনো টাকাই নিই নাই।”

উল্টো ওই ব্যবসায়ীর কাছে টাকা পাওয়ার দাবি করে তিনি বলেন, “ওই টাউট মার্কেটের লোক থেকে ১ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা নিছে আমাকে দেবে বলে। আমার থেকে নিছে ৪০ লক্ষ টাকা। আমার ৪০ লাখ টাকা মারার পরে সে আমাকে বলে, মার্কেট থেকে আরও ৫ কোটি টাকা আদায় করে দেন। আমি বলেছি, প্রশ্নই আসে না। ইভেন কি তার একটা ভুয়া পাওয়ার অব অ্যাটর্নি ঢোকাতে বলেছিল আমাকে, আমি রাজি হইনি। এটাই তার সাথে আমার জেদ।”

ব্যবসায়ী সোহেলের বিরুদ্ধে ‘রায় চুরির’ গুরুতর অভিযোগ তুলে আবুল হাশেম বলেন, "বিকেল ৫টার পরে জজ সাহেবের চেম্বারের রুম খুলিয়ে মুহুরী হুমায়ুন ও জাহাঙ্গীরের মাধ্যমে জাজমেন্ট চুরি করে নিয়ে গেছে। সিসি ক্যামেরায় আমরা দেখেছি জাজমেন্ট কেমনে চুরি করেছে। এই লোকটা বাটপার। তার বিরুদ্ধে মুগদা ও মিরপুর থানায় মার্ডার কেসসহ একাধিক মামলা আছে, সে জেলও খেটেছে।"

মানহানি মামলার হুঁশিয়ারি

এ সময় আবুল হাশেমের পক্ষে কথা বলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দ। তিনি বলেন, “আবুল হাশেম সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট নন, তিনি জজ কোর্টের ঢাকা বারের নিয়মিত সদস্য। আসল ঘটনা হলো, তিনি অবসরের টাকা থেকে ৪০ লাখ টাকা চেক মারফত দিয়েছিলেন। সেই টাকা না পাওয়ায় তিনি একটি চেকের মামলা করেন, যে মামলার আসামি এই অভিযোগকারী। এর জের ধরেই তিনি মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন।”

বিচারাধীন বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করায় ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়ে ইউনুস আলী আকন্দ বলেন, “মার্কেটের দোকান বরাদ্দ নিয়ে করা রিট এবং আপিলের পর সরকার এখন একটি রিভিউ পিটিশন করেছে, যা সাব-জুডিস। এই অবস্থায় সংবাদ সম্মেলন করে কোর্ট ও বিচারপতিদের ইমেজ নষ্ট করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তার বিরুদ্ধে ৫০০ ও ৫০৬ ধারায় মানহানির মামলা এবং আদালত অবমাননার মামলা করা হবে।”

থানা ও বার কাউন্সিলে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “বার কাউন্সিলে অভিযোগ দিতেই পারে, সেটা স্ক্রুটিনি হবে। আর শাহবাগ থানায় যেটা হয়েছে সেটা কেবলই অভিযোগ, কোনো এফআইআর বা মামলা হয়নি।”


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত