সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টের হাতে ন্যস্ত করে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল রাষ্ট্রপক্ষের আপিল করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) রাষ্ট্রপতির আদেশে জারি করা আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করা হয়। একইসাথে কোর্ট সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবসহ ১৫ কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে ফেরত নেয় সরাকার। সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে আইন মন্ত্রণালায় তার বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছে। তবে ‘আলোচিত’ এই প্রজ্ঞাপনটি ১৯ মে জারি হলেও এর কার্যকারিতা দেখানো হয়েছে ১০ এপ্রিল থেকে।
চলতি বছরের গত ৭ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের জন্য স্বাধীন ও পৃথক সচিবালয় তিন মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়ে ১৮৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে হাই কোর্ট।। বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায় দেয়।
রায়ে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির বদলে সুপ্রিম কোর্টের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। হাইকোর্টের নির্দেশনায় বলা হয়, সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষের প্রস্তাব অনুযায়ী আদেশের তারিখ হতে তিন মাসের মধ্যে এই স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
রিট আবেদনকারীদের পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির জানান, “এই রায়ের ফলে নিম্ন আদালতের নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টের উপর ন্যস্ত থাকবে; রাষ্ট্রপতির উপর নয়।”
রায়ে অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাসংক্রান্ত সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করে হাইকোর্ট।
১৯৭২ সালের সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে— বিচারকর্ম বিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচার বিভাগে দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি দান, ছুটি মঞ্জুরিসহ) ও শৃংঙ্খলাবিধানের ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত ছিল।
কিন্তু ১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এই দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত করা হয়। পরে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ‘এবং সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক তা প্রযুক্ত হবে’ শব্দগুলো যুক্ত করা হয়।
১১৬ অনুচ্ছেদের এসব সংশোধন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে রায়ে হাইকোর্ট বলেছে, ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ৩৯ ধারা এবং ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনী আইনের ১৯ ধারার মাধ্যমে ১১৬ অনুচ্ছেদের সংশোধন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, তাই তা বাতিল করা হলো।
সংবিধানের অষ্টম ও ষোড়শ সংশোধনী মামলার রায়ের নজির টেনে আদালত বলেছে, ১৯৭২ সালের সংবিধানে ১১৬ অনুচ্ছেদ যেভাবে ছিল, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনরুজ্জীবিত ও সংবিধানে পুনর্বহাল হবে এবং রায়ের দিন থেকেই তা কার্যকর হবে।
একইসঙ্গে ২০১৭ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালাকেও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট।
বিদ্যমান সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ এবং ২০১৭ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং বিচার বিভাগীয় পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা চেয়ে ২০২৪ সালের ২৫ আগাস্ট হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাদ্দাম হোসেনসহ সাত আইনজীবী।
প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ২৭ অক্টোবর আদালত রুল জারি করে। আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব ও সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। সেই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়ে রায় দেয় হাই কোর্ট।
সেই রায়ের পরপরই সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। এবার সেই রায়ের বিরুদ্ধেই আপিল করল রাষ্ট্রপক্ষ।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬
সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টের হাতে ন্যস্ত করে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল রাষ্ট্রপক্ষের আপিল করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) রাষ্ট্রপতির আদেশে জারি করা আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করা হয়। একইসাথে কোর্ট সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবসহ ১৫ কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে ফেরত নেয় সরাকার। সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে আইন মন্ত্রণালায় তার বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছে। তবে ‘আলোচিত’ এই প্রজ্ঞাপনটি ১৯ মে জারি হলেও এর কার্যকারিতা দেখানো হয়েছে ১০ এপ্রিল থেকে।
চলতি বছরের গত ৭ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের জন্য স্বাধীন ও পৃথক সচিবালয় তিন মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়ে ১৮৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে হাই কোর্ট।। বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায় দেয়।
রায়ে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির বদলে সুপ্রিম কোর্টের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। হাইকোর্টের নির্দেশনায় বলা হয়, সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষের প্রস্তাব অনুযায়ী আদেশের তারিখ হতে তিন মাসের মধ্যে এই স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
রিট আবেদনকারীদের পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির জানান, “এই রায়ের ফলে নিম্ন আদালতের নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টের উপর ন্যস্ত থাকবে; রাষ্ট্রপতির উপর নয়।”
রায়ে অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাসংক্রান্ত সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করে হাইকোর্ট।
১৯৭২ সালের সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে— বিচারকর্ম বিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচার বিভাগে দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি দান, ছুটি মঞ্জুরিসহ) ও শৃংঙ্খলাবিধানের ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত ছিল।
কিন্তু ১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এই দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত করা হয়। পরে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ‘এবং সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক তা প্রযুক্ত হবে’ শব্দগুলো যুক্ত করা হয়।
১১৬ অনুচ্ছেদের এসব সংশোধন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে রায়ে হাইকোর্ট বলেছে, ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ৩৯ ধারা এবং ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনী আইনের ১৯ ধারার মাধ্যমে ১১৬ অনুচ্ছেদের সংশোধন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, তাই তা বাতিল করা হলো।
সংবিধানের অষ্টম ও ষোড়শ সংশোধনী মামলার রায়ের নজির টেনে আদালত বলেছে, ১৯৭২ সালের সংবিধানে ১১৬ অনুচ্ছেদ যেভাবে ছিল, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনরুজ্জীবিত ও সংবিধানে পুনর্বহাল হবে এবং রায়ের দিন থেকেই তা কার্যকর হবে।
একইসঙ্গে ২০১৭ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালাকেও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট।
বিদ্যমান সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ এবং ২০১৭ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং বিচার বিভাগীয় পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা চেয়ে ২০২৪ সালের ২৫ আগাস্ট হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাদ্দাম হোসেনসহ সাত আইনজীবী।
প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ২৭ অক্টোবর আদালত রুল জারি করে। আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব ও সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। সেই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়ে রায় দেয় হাই কোর্ট।
সেই রায়ের পরপরই সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। এবার সেই রায়ের বিরুদ্ধেই আপিল করল রাষ্ট্রপক্ষ।

আপনার মতামত লিখুন