প্রশাসনিক অনিয়ম ও হয়রানি রোধে আইনি বিধান থাকা সত্ত্বেও দেশে ন্যায়পাল নিয়োগ না দেওয়ার সরকারি নিষ্ক্রিয়তাকে কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ন্যায়পালের কার্যালয় কার্যকর করতে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, রুলে সেটিও জানতে চাওয়া হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইসরাত হাসানের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আব্দুর রহমান জিলানীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে (আইন ও বিচার বিভাগ এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ) চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
শুনানি শেষে রিটকারী আইনজীবী ইসরাত হাসান সংবিধান ও আইনের বিধান তুলে ধরে সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম, হয়রানি, দীর্ঘসূত্রতা ও ভোগান্তি সম্পর্কিত যেকোনো অভিযোগ তদন্ত করে সেবার মান উন্নয়ন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা ন্যায়পালের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, সংবিধানের ৭৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে একজন ন্যায়পাল থাকবেন, যিনি সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা আমলাতান্ত্রিক আচরণ, অনিয়ম, হয়রানি, অবিচার, বাড়াবাড়ি ও কর্মসম্পাদনে অহেতুক বিলম্ব ইত্যাদি প্রশমন করে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করবেন।
এ বিষয়ে ১৯৮০ সালে 'ওম্বুডসম্যান অ্যাক্ট' বা ন্যায়পাল আইন প্রণয়ন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘ সময়েও ন্যায়পাল নিয়োগ না দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে এই আইনজীবী বলেন, সাংবিধানিক ম্যান্ডেট এবং সংবিধিবদ্ধ আইন থাকা সত্ত্বেও এত বছরে কোনো সরকারই আসলে ন্যায়পাল নিয়োগ করেনি। প্রশাসনিক দুর্নীতি, জনগণকে হয়রানি এবং বছরের পর বছর কাজ ফেলে রাখার বিরুদ্ধে যে একজন দেখাশোনা করবেন ও ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করবেন, আইনে তাকে সে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এমনকি সমন দেওয়ার মতো আদালতের কিছু ক্ষমতাও তার জন্য প্রযোজ্য।
তিনি জানান, রিট আবেদন করার আগে বিবাদীদের আইনি নোটিশ বা 'ডিমান্ড ফর জাস্টিস লেটার' দেওয়া হলেও তারা কোনো জবাব দেননি। এরপর সরকারের এই নিষ্ক্রিয়তাকে চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদনটি করা হয়। রিট আবেদনে বলা হয়, ওম্বুডসম্যান নিয়োগ ও তার কার্যালয় প্রতিষ্ঠায় নিষ্ক্রিয়তা প্রদর্শন করা সংবিধানের ৭, ১১, ২৭, ৩১ এবং ৩২ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। এ ছাড়া দেশে সুশাসনের জন্য ন্যায়পালের নিয়োগ নিশ্চিত করে অফিসটিকে কার্যকর করার নির্দেশনা চাওয়া হয় রিটে।
ন্যায়পাল পদে নিয়োগ না দেওয়ার পেছনে সদিচ্ছার অভাব রয়েছে মন্তব্য করে আইনজীবী ইসরাত হাসান বলেন, 'এটি তো কোনো নির্বাচনের প্রতিশ্রুতির বিষয় নয়, এটি একটি সাংবিধানিক ম্যান্ডেট। সরকারি অধিদপ্তরে দুর্নীতির কারণে অনেক সময় কাজ ফেলে রাখা হয়; এমন বিলম্ব করা হয় যেন মানুষ যেকোনোভাবেই হোক কাজটি করিয়ে নিতে বাধ্য হয়। এগুলো তদন্তের জন্য ১৯৮০ সালের আইনেই সুস্পষ্ট পদ্ধতি দেওয়া আছে। এরপরও এই পদে নিয়োগ না দেওয়ার অর্থ হচ্ছে- আমি এমন কাউকে নিয়োগ দেব না, যিনি এই দুর্নীতিগুলো দেখবেন।'

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬
প্রশাসনিক অনিয়ম ও হয়রানি রোধে আইনি বিধান থাকা সত্ত্বেও দেশে ন্যায়পাল নিয়োগ না দেওয়ার সরকারি নিষ্ক্রিয়তাকে কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ন্যায়পালের কার্যালয় কার্যকর করতে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, রুলে সেটিও জানতে চাওয়া হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইসরাত হাসানের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আব্দুর রহমান জিলানীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে (আইন ও বিচার বিভাগ এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ) চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
শুনানি শেষে রিটকারী আইনজীবী ইসরাত হাসান সংবিধান ও আইনের বিধান তুলে ধরে সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম, হয়রানি, দীর্ঘসূত্রতা ও ভোগান্তি সম্পর্কিত যেকোনো অভিযোগ তদন্ত করে সেবার মান উন্নয়ন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা ন্যায়পালের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, সংবিধানের ৭৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে একজন ন্যায়পাল থাকবেন, যিনি সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা আমলাতান্ত্রিক আচরণ, অনিয়ম, হয়রানি, অবিচার, বাড়াবাড়ি ও কর্মসম্পাদনে অহেতুক বিলম্ব ইত্যাদি প্রশমন করে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করবেন।
এ বিষয়ে ১৯৮০ সালে 'ওম্বুডসম্যান অ্যাক্ট' বা ন্যায়পাল আইন প্রণয়ন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘ সময়েও ন্যায়পাল নিয়োগ না দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে এই আইনজীবী বলেন, সাংবিধানিক ম্যান্ডেট এবং সংবিধিবদ্ধ আইন থাকা সত্ত্বেও এত বছরে কোনো সরকারই আসলে ন্যায়পাল নিয়োগ করেনি। প্রশাসনিক দুর্নীতি, জনগণকে হয়রানি এবং বছরের পর বছর কাজ ফেলে রাখার বিরুদ্ধে যে একজন দেখাশোনা করবেন ও ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করবেন, আইনে তাকে সে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এমনকি সমন দেওয়ার মতো আদালতের কিছু ক্ষমতাও তার জন্য প্রযোজ্য।
তিনি জানান, রিট আবেদন করার আগে বিবাদীদের আইনি নোটিশ বা 'ডিমান্ড ফর জাস্টিস লেটার' দেওয়া হলেও তারা কোনো জবাব দেননি। এরপর সরকারের এই নিষ্ক্রিয়তাকে চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদনটি করা হয়। রিট আবেদনে বলা হয়, ওম্বুডসম্যান নিয়োগ ও তার কার্যালয় প্রতিষ্ঠায় নিষ্ক্রিয়তা প্রদর্শন করা সংবিধানের ৭, ১১, ২৭, ৩১ এবং ৩২ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। এ ছাড়া দেশে সুশাসনের জন্য ন্যায়পালের নিয়োগ নিশ্চিত করে অফিসটিকে কার্যকর করার নির্দেশনা চাওয়া হয় রিটে।
ন্যায়পাল পদে নিয়োগ না দেওয়ার পেছনে সদিচ্ছার অভাব রয়েছে মন্তব্য করে আইনজীবী ইসরাত হাসান বলেন, 'এটি তো কোনো নির্বাচনের প্রতিশ্রুতির বিষয় নয়, এটি একটি সাংবিধানিক ম্যান্ডেট। সরকারি অধিদপ্তরে দুর্নীতির কারণে অনেক সময় কাজ ফেলে রাখা হয়; এমন বিলম্ব করা হয় যেন মানুষ যেকোনোভাবেই হোক কাজটি করিয়ে নিতে বাধ্য হয়। এগুলো তদন্তের জন্য ১৯৮০ সালের আইনেই সুস্পষ্ট পদ্ধতি দেওয়া আছে। এরপরও এই পদে নিয়োগ না দেওয়ার অর্থ হচ্ছে- আমি এমন কাউকে নিয়োগ দেব না, যিনি এই দুর্নীতিগুলো দেখবেন।'

আপনার মতামত লিখুন