রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার মতো ‘নির্মম’ ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে আশা প্রকাশ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার (২১ মে) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিতে তিনি পুলিশের আইজিপি এবং আইন উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলেছেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এবং পুলিশের আইজির সঙ্গেও কথা বলেছি। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দ্রুত বিচার প্রাপ্তি যেকোনো নাগরিকের মৌলিক অধিকার। এরকম একটা নির্মম ঘটনার বিচার যত দ্রুত সম্ভব হবে, তত বাংলাদেশের মানুষের বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ফিরে আসবে।”
আইন মন্ত্রীও এ বিষয়ে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, “তারা (পুলিশ) দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেবেন। এ ধরনের ঘটনায় বিলম্ব ঘটে সাধারণত ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার ক্ষেত্রে। আসামিরা ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে এবং তারা স্বীকারোক্তিও দিয়েছে।”
সাক্ষী পাওয়া সহজ হবে জানিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “ঘটনাস্থল তো একেবারে একটা ফ্ল্যাটের মধ্যে, আর সাক্ষীরাও ওই এলাকারই। সুতরাং একটা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় যাওয়ার জন্য প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করা। আইজিপি সাহেব জানিয়েছেন, প্রয়োজনে তদন্ত কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গেও কথা বলবেন। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দ্রুত বিচার হলে আগামী দিনে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
এ ধরনের চাঞ্চল্যকর মামলার আসামিদের পক্ষে অনেক সময় আইনজীবীরা দাঁড়াতে চান না- এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আইন পেশা প্রত্যেকের স্বতন্ত্র পেশা। একজন ব্যক্তি অপরাধী হলেও তার একজন আইনজীবী পাওয়ার অধিকার আছে। কোনো অপরাধী আইনি প্রতিকার বা আইনজীবীর সুবিধা পাবেন না, এটা হলে আমরা ‘ল-লেসনেসের’ (আইনহীনতা) দিকে চলে যাব।”
রাষ্ট্রের প্রধান এই আইন কর্মকর্তা আরও বলেন, “এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো আইনজীবী না পেলেও বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আসামিকে আইনজীবী দেওয়া হবে।”
এদিকে, মাগুরার আছিয়া হত্যা ও ফেনীর নুসরাত হত্যা মামলার মতো ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, “ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টে ফাঁসির মামলার রেফারেন্সগুলো সাধারণত সন অনুযায়ী (ধারাবাহিকভাবে) শুনানি হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী চাইলেও কোনো মামলা আগে-পিছে করতে পারেন না।”
তবে অনেক সময় চাঞ্চল্যকর মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি বেঞ্চ গঠন করে দেন জানিয়ে তিনি বলেন, “যেমন আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার আপিল ও ডেথ রেফারেন্স দ্রুততম সময়ের মধ্যে হাই কোর্টে নিষ্পত্তি হয়েছে। তেমনটি আমরা এ ব্যাপারেও উদ্যোগ গ্রহণ করব বলে মনে করি।”
পল্লবীর ঘটনার বিষয়ে তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, “সাত বছরের শিশুর ক্ষেত্রে এই মামলার ঘটনাপ্রবাহ, আসামির স্বীকারোক্তি, মেডিকেল ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দ্রুত চলে এলে বিচার বিলম্বিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।”
বিশেষ বেঞ্চ গঠনে প্রধান বিচারপতিকে চিঠি: এদিকে শিশু ধর্ষণ ও শিশু হত্যার মামলাগুলো থেকে উদ্ভূত ডেথ রেফারেন্স ও আপিল দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠনের দাবিতে প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন আইনজীবী।
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে এই আবেদনটি জমা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন তারা।
চিঠিতে বলা হয়েছে, নিম্ন আদালতে চাঞ্চল্যকর শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার হলেও হাই কোর্ট বিভাগে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল এবং আপিল বিভাগে শুনানি করতে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে।
মাগুরার শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলা এবং ফেনীর নুসরাত হত্যা মামলার মতো বহু মামলা এভাবেই অপেক্ষমাণ অবস্থায় আছে। বিচার বিলম্বিত হওয়ার কারণে সর্বশেষ মিরপুরে শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার রামিসার বাবা আক্ষেপ করে বলেছেন, “আপনারা বিচার করতে পারবেন না”।
আইনজীবীরা চিঠিতে উল্লেখ করেন, বিচারব্যবস্থার এই দীর্ঘসূত্রতা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এই সীমাবদ্ধ পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় নিয়ে শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের মামলাগুলো আলাদা করে বিশেষ বেঞ্চ গঠনের মাধ্যমে দ্রুত শুনানির ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয় চিঠিতে।
অ্যাডভোকেট মো. ফয়জুল্লাহ (ফয়েজ), ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান, বেলাল হোসাইন, শাহিনা তাজরিন, শামীম আরা, রোকসানা শিরিনসহ ৯ জন আইনজীবী এই আবেদনে স্বাক্ষর করেছেন।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬
রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার মতো ‘নির্মম’ ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে আশা প্রকাশ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার (২১ মে) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিতে তিনি পুলিশের আইজিপি এবং আইন উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলেছেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এবং পুলিশের আইজির সঙ্গেও কথা বলেছি। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দ্রুত বিচার প্রাপ্তি যেকোনো নাগরিকের মৌলিক অধিকার। এরকম একটা নির্মম ঘটনার বিচার যত দ্রুত সম্ভব হবে, তত বাংলাদেশের মানুষের বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ফিরে আসবে।”
আইন মন্ত্রীও এ বিষয়ে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, “তারা (পুলিশ) দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেবেন। এ ধরনের ঘটনায় বিলম্ব ঘটে সাধারণত ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার ক্ষেত্রে। আসামিরা ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে এবং তারা স্বীকারোক্তিও দিয়েছে।”
সাক্ষী পাওয়া সহজ হবে জানিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “ঘটনাস্থল তো একেবারে একটা ফ্ল্যাটের মধ্যে, আর সাক্ষীরাও ওই এলাকারই। সুতরাং একটা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় যাওয়ার জন্য প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করা। আইজিপি সাহেব জানিয়েছেন, প্রয়োজনে তদন্ত কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গেও কথা বলবেন। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দ্রুত বিচার হলে আগামী দিনে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
এ ধরনের চাঞ্চল্যকর মামলার আসামিদের পক্ষে অনেক সময় আইনজীবীরা দাঁড়াতে চান না- এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আইন পেশা প্রত্যেকের স্বতন্ত্র পেশা। একজন ব্যক্তি অপরাধী হলেও তার একজন আইনজীবী পাওয়ার অধিকার আছে। কোনো অপরাধী আইনি প্রতিকার বা আইনজীবীর সুবিধা পাবেন না, এটা হলে আমরা ‘ল-লেসনেসের’ (আইনহীনতা) দিকে চলে যাব।”
রাষ্ট্রের প্রধান এই আইন কর্মকর্তা আরও বলেন, “এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো আইনজীবী না পেলেও বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আসামিকে আইনজীবী দেওয়া হবে।”
এদিকে, মাগুরার আছিয়া হত্যা ও ফেনীর নুসরাত হত্যা মামলার মতো ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, “ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টে ফাঁসির মামলার রেফারেন্সগুলো সাধারণত সন অনুযায়ী (ধারাবাহিকভাবে) শুনানি হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী চাইলেও কোনো মামলা আগে-পিছে করতে পারেন না।”
তবে অনেক সময় চাঞ্চল্যকর মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি বেঞ্চ গঠন করে দেন জানিয়ে তিনি বলেন, “যেমন আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার আপিল ও ডেথ রেফারেন্স দ্রুততম সময়ের মধ্যে হাই কোর্টে নিষ্পত্তি হয়েছে। তেমনটি আমরা এ ব্যাপারেও উদ্যোগ গ্রহণ করব বলে মনে করি।”
পল্লবীর ঘটনার বিষয়ে তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, “সাত বছরের শিশুর ক্ষেত্রে এই মামলার ঘটনাপ্রবাহ, আসামির স্বীকারোক্তি, মেডিকেল ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দ্রুত চলে এলে বিচার বিলম্বিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।”
বিশেষ বেঞ্চ গঠনে প্রধান বিচারপতিকে চিঠি: এদিকে শিশু ধর্ষণ ও শিশু হত্যার মামলাগুলো থেকে উদ্ভূত ডেথ রেফারেন্স ও আপিল দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠনের দাবিতে প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন আইনজীবী।
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে এই আবেদনটি জমা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন তারা।
চিঠিতে বলা হয়েছে, নিম্ন আদালতে চাঞ্চল্যকর শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার হলেও হাই কোর্ট বিভাগে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল এবং আপিল বিভাগে শুনানি করতে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে।
মাগুরার শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলা এবং ফেনীর নুসরাত হত্যা মামলার মতো বহু মামলা এভাবেই অপেক্ষমাণ অবস্থায় আছে। বিচার বিলম্বিত হওয়ার কারণে সর্বশেষ মিরপুরে শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার রামিসার বাবা আক্ষেপ করে বলেছেন, “আপনারা বিচার করতে পারবেন না”।
আইনজীবীরা চিঠিতে উল্লেখ করেন, বিচারব্যবস্থার এই দীর্ঘসূত্রতা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এই সীমাবদ্ধ পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় নিয়ে শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের মামলাগুলো আলাদা করে বিশেষ বেঞ্চ গঠনের মাধ্যমে দ্রুত শুনানির ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয় চিঠিতে।
অ্যাডভোকেট মো. ফয়জুল্লাহ (ফয়েজ), ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান, বেলাল হোসাইন, শাহিনা তাজরিন, শামীম আরা, রোকসানা শিরিনসহ ৯ জন আইনজীবী এই আবেদনে স্বাক্ষর করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন