সংবাদ

লিচুর রাজধানী বিজয়নগরে কোটি টাকার বাণিজ্য


লিটন হোসাইন জিহাদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
লিটন হোসাইন জিহাদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ০৭:০২ পিএম

লিচুর রাজধানী বিজয়নগরে কোটি টাকার বাণিজ্য
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের একটি বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলছে টকটকে লাল রসালো লিচু। ছবি : সংবাদ

গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহের মধ্যেও দেশের অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী লিচুর বাজার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর এখন সরগরম। গুণগত মান, অতুলনীয় স্বাদ ও সুগন্ধের জন্য এখানকার লিচুর খ্যাতি দেশজুড়ে। ভালো ফলন ও উপযুক্ত দাম পাওয়ায় এখন খুশিতে দিন কাটছে স্থানীয় চাষিদের।

চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক পরিচর্যার কারণে বিজয়নগরে লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করছেন স্থানীয় চাষি ও কৃষি কর্মকর্তারা। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে আগাম জাতের লিচু উঠতে শুরু করেছে।

উপজেলার পাহাড়পুর, বিষ্ণুপুর, সিঙ্গারবিল, চম্পকনগর ও পত্তন ইউনিয়নের বাগানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি গাছ লাল টকটকে লিচুতে ভরে উঠেছে। স্থানীয় পাতি লিচুর পাশাপাশি চায়না-৩, বোম্বাই ও এলাচি জাতের লিচুর আশাতীত ফলন হয়েছে।

চম্পকনগর এলাকার এক চাষি জানান, পোকার আক্রমণ কম থাকায় এবার লিচুর আকার ও রং বেশ ভালো হয়েছে। গত কয়েক বছরের লোকসান এবার কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ইতোমধ্যে চম্পকনগর, আউলিয়া বাজার ও মেরাশানীসহ বিভিন্ন পাইকারি বাজারে পুরোদমে লিচু কেনাবেচা শুরু হয়েছে। প্রতিদিন ভোর থেকেই চাষিরা তাজা লিচু নিয়ে বাজারে হাজির হচ্ছেন। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পাইকারদের হাঁকডাকে মুখর এলাকা। বর্তমানে জাত ও আকারভেদে প্রতি হাজার লিচু ২ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, প্রতিবছর এই অঞ্চলের লিচু ঘিরে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়। এতে স্থানীয় অর্থনীতি যেমন শক্তিশালী হচ্ছে, তেমনি লিচু পাড়া, বাছাই ও পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত হাজারো মানুষের মৌসুমি কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।

তবে স্থানীয় চাষিদের দীর্ঘদিনের দাবি, বিজয়নগরে একটি আধুনিক হিমাগার ও সরকারি উদ্যোগে লিচু প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা। এতে সংরক্ষণ সংকটের সমাধান হবে এবং চাষিরা আরও ন্যায্যমূল্য পাবেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলন নিশ্চিত করতে চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার বিজয়নগর থেকে রেকর্ড পরিমাণ লিচু সরবরাহ সম্ভব হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২৫ মে ২০২৬


লিচুর রাজধানী বিজয়নগরে কোটি টাকার বাণিজ্য

প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬

featured Image

গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহের মধ্যেও দেশের অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী লিচুর বাজার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর এখন সরগরম। গুণগত মান, অতুলনীয় স্বাদ ও সুগন্ধের জন্য এখানকার লিচুর খ্যাতি দেশজুড়ে। ভালো ফলন ও উপযুক্ত দাম পাওয়ায় এখন খুশিতে দিন কাটছে স্থানীয় চাষিদের।

চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক পরিচর্যার কারণে বিজয়নগরে লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করছেন স্থানীয় চাষি ও কৃষি কর্মকর্তারা। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে আগাম জাতের লিচু উঠতে শুরু করেছে।

উপজেলার পাহাড়পুর, বিষ্ণুপুর, সিঙ্গারবিল, চম্পকনগর ও পত্তন ইউনিয়নের বাগানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি গাছ লাল টকটকে লিচুতে ভরে উঠেছে। স্থানীয় পাতি লিচুর পাশাপাশি চায়না-৩, বোম্বাই ও এলাচি জাতের লিচুর আশাতীত ফলন হয়েছে।

চম্পকনগর এলাকার এক চাষি জানান, পোকার আক্রমণ কম থাকায় এবার লিচুর আকার ও রং বেশ ভালো হয়েছে। গত কয়েক বছরের লোকসান এবার কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ইতোমধ্যে চম্পকনগর, আউলিয়া বাজার ও মেরাশানীসহ বিভিন্ন পাইকারি বাজারে পুরোদমে লিচু কেনাবেচা শুরু হয়েছে। প্রতিদিন ভোর থেকেই চাষিরা তাজা লিচু নিয়ে বাজারে হাজির হচ্ছেন। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পাইকারদের হাঁকডাকে মুখর এলাকা। বর্তমানে জাত ও আকারভেদে প্রতি হাজার লিচু ২ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, প্রতিবছর এই অঞ্চলের লিচু ঘিরে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়। এতে স্থানীয় অর্থনীতি যেমন শক্তিশালী হচ্ছে, তেমনি লিচু পাড়া, বাছাই ও পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত হাজারো মানুষের মৌসুমি কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।

তবে স্থানীয় চাষিদের দীর্ঘদিনের দাবি, বিজয়নগরে একটি আধুনিক হিমাগার ও সরকারি উদ্যোগে লিচু প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা। এতে সংরক্ষণ সংকটের সমাধান হবে এবং চাষিরা আরও ন্যায্যমূল্য পাবেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলন নিশ্চিত করতে চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার বিজয়নগর থেকে রেকর্ড পরিমাণ লিচু সরবরাহ সম্ভব হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত