সংবাদ

‘বড় ভাইদের’ চাঁদা না দিলে চলে না পশুবাহী ট্রাক


সুব্রতদাস, রাজশাহী
সুব্রতদাস, রাজশাহী
প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম

‘বড় ভাইদের’ চাঁদা না দিলে চলে না পশুবাহী ট্রাক
ছবি : সংগৃহীত

ঈদ মানেই আনন্দ আর ত্যাগের উৎসব। এই উৎসবকে ঘিরে যখন খামারি থেকে হাটুরেদের মধ্যে প্রাণের উচ্ছ্বাস, তখন মহাসড়কে পশুবাহী ট্রাকচালকদের সঙ্গী হচ্ছে পথে পথে চাঁদাবাজির আতঙ্ক।

উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ পশুর হাট রাজশাহীর সিটি হাট থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রাক ঢাকা-চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে গেলেও প্রতিটি মোড়ে মোড়ে তাঁদের গুনতে হচ্ছে অবৈধ চাঁদা।

কোথাও পুলিশের তল্লাশি, আবার কোথাও রাজনৈতিক ‘বড় ভাইদের’ নামে তোলা হচ্ছে টাকা। এতে কোরবানির পশুর সঙ্গে যেন পরিবহন হচ্ছে চালকদের দীর্ঘশ্বাসও।

বর্তমানে সিটি হাটে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ হাজার গরু, মহিষ ও ছাগল কেনাবেচা হচ্ছে। হাট কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, প্রতিদিন রাতভর ৪৫০ থেকে ৫০০টি পশুবাহী ট্রাক দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে। কিন্তু এই যাত্রা নির্বিঘ্ন নয়।

চালকদের অভিযোগ, ঢাকা পৌঁছাতে ট্রাকপ্রতি অন্তত ৫ হাজার এবং চট্টগ্রামে পৌঁছাতে আরও ২ থেকে ৫ হাজার টাকা বাড়তি খরচ হচ্ছে। টাকা দিতে না চাইলে জোটে হয়রানি ও শারীরিক লাঞ্ছনা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ট্রাকচালক জানান, সিটি হাট থেকে বের হওয়ার পরপরই নগরীর উপকণ্ঠ বেলপুকুর এলাকায় পুলিশ ও রাজনৈতিক পরিচয়ধারীদের টাকা দিতে হয়। এরপর পুঠিয়া, নাটোরের বনপাড়া, সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতুর পশ্চিম ও পূর্ব প্রান্ত, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা এবং গাজীপুর চৌরাস্তায় দফায় দফায় চলে এই চাঁদাবাজি।

রাজধানীর গাবতলী, শনির আখড়া বা মদনপুর এলাকায় পৌঁছালে এই মাত্রা আরও বেড়ে যায়। অনেক সময় তুচ্ছ অজুহাতে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আর্থিক সমঝোতা করতে বাধ্য করা হয় তাদের।

ট্রাক মালিকদের মতে, বর্তমানে রাজশাহী থেকে ঢাকা পর্যন্ত একটি পশুবাহী ট্রাকের ভাড়া প্রায় ৪০ হাজার টাকা। কিন্তু জ্বালানি খরচ ও শ্রমিকের মজুরির পর পথে পথে হাজার হাজার টাকা চাঁদা দিতে গিয়ে আয়ের বড় অংশই শেষ হয়ে যাচ্ছে। এতে ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

রাজশাহী ট্রাক মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক সাদরুল ইসলাম বলেন, ‘চালকেরা মহাসড়কে চাঁদাবাজির যে করুণ চিত্র তুলে ধরছেন, সেটিই বাস্তবতা। পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও চাঁদাবাজি এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।’

জানতে চাইলে হাইওয়ে পুলিশের উত্তর বিভাগের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল্লাহ হিল বাকী বলেন, পশুবাহী যানবাহনের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে মহাসড়কে বিশেষ নজরদারি রয়েছে। কোথাও চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২৫ মে ২০২৬


‘বড় ভাইদের’ চাঁদা না দিলে চলে না পশুবাহী ট্রাক

প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬

featured Image

ঈদ মানেই আনন্দ আর ত্যাগের উৎসব। এই উৎসবকে ঘিরে যখন খামারি থেকে হাটুরেদের মধ্যে প্রাণের উচ্ছ্বাস, তখন মহাসড়কে পশুবাহী ট্রাকচালকদের সঙ্গী হচ্ছে পথে পথে চাঁদাবাজির আতঙ্ক।

উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ পশুর হাট রাজশাহীর সিটি হাট থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রাক ঢাকা-চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে গেলেও প্রতিটি মোড়ে মোড়ে তাঁদের গুনতে হচ্ছে অবৈধ চাঁদা।

কোথাও পুলিশের তল্লাশি, আবার কোথাও রাজনৈতিক ‘বড় ভাইদের’ নামে তোলা হচ্ছে টাকা। এতে কোরবানির পশুর সঙ্গে যেন পরিবহন হচ্ছে চালকদের দীর্ঘশ্বাসও।

বর্তমানে সিটি হাটে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ হাজার গরু, মহিষ ও ছাগল কেনাবেচা হচ্ছে। হাট কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, প্রতিদিন রাতভর ৪৫০ থেকে ৫০০টি পশুবাহী ট্রাক দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে। কিন্তু এই যাত্রা নির্বিঘ্ন নয়।

চালকদের অভিযোগ, ঢাকা পৌঁছাতে ট্রাকপ্রতি অন্তত ৫ হাজার এবং চট্টগ্রামে পৌঁছাতে আরও ২ থেকে ৫ হাজার টাকা বাড়তি খরচ হচ্ছে। টাকা দিতে না চাইলে জোটে হয়রানি ও শারীরিক লাঞ্ছনা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ট্রাকচালক জানান, সিটি হাট থেকে বের হওয়ার পরপরই নগরীর উপকণ্ঠ বেলপুকুর এলাকায় পুলিশ ও রাজনৈতিক পরিচয়ধারীদের টাকা দিতে হয়। এরপর পুঠিয়া, নাটোরের বনপাড়া, সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতুর পশ্চিম ও পূর্ব প্রান্ত, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা এবং গাজীপুর চৌরাস্তায় দফায় দফায় চলে এই চাঁদাবাজি।

রাজধানীর গাবতলী, শনির আখড়া বা মদনপুর এলাকায় পৌঁছালে এই মাত্রা আরও বেড়ে যায়। অনেক সময় তুচ্ছ অজুহাতে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আর্থিক সমঝোতা করতে বাধ্য করা হয় তাদের।

ট্রাক মালিকদের মতে, বর্তমানে রাজশাহী থেকে ঢাকা পর্যন্ত একটি পশুবাহী ট্রাকের ভাড়া প্রায় ৪০ হাজার টাকা। কিন্তু জ্বালানি খরচ ও শ্রমিকের মজুরির পর পথে পথে হাজার হাজার টাকা চাঁদা দিতে গিয়ে আয়ের বড় অংশই শেষ হয়ে যাচ্ছে। এতে ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

রাজশাহী ট্রাক মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক সাদরুল ইসলাম বলেন, ‘চালকেরা মহাসড়কে চাঁদাবাজির যে করুণ চিত্র তুলে ধরছেন, সেটিই বাস্তবতা। পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও চাঁদাবাজি এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।’

জানতে চাইলে হাইওয়ে পুলিশের উত্তর বিভাগের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল্লাহ হিল বাকী বলেন, পশুবাহী যানবাহনের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে মহাসড়কে বিশেষ নজরদারি রয়েছে। কোথাও চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত