সংবাদ

তাহিরপুরে নামমাত্র মূল্যে ৪টি পশুর হাট ইজারা, খাজনা আদায়ে নৈরাজ্য


প্রতিনিধি, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ)
প্রতিনিধি, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ)
প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম

তাহিরপুরে নামমাত্র মূল্যে ৪টি পশুর হাট ইজারা, খাজনা আদায়ে নৈরাজ্য
তাহিরপুরে গরুর হাটে উচ্চ হারে খাজনা আদায়ের অভিযোগ। ছবি : সংবাদ

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় কোরবানির পশুর হাট ইজারা নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। যথাযথ প্রচার ছাড়াই গোপনীয়তা রক্ষা করে নামমাত্র মূল্যে চারটি অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এতে সরকার কয়েক লাখ টাকার রাজস্ব হারিয়েছে। অন্যদিকে, ইজারাদাররা নির্ধারিত হারের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি খাজনা আদায় করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে লাউড়েরগড়, কলাগাঁও, একতাবাজার ও শান্তিপুরে চারটি অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে বড়ছড়া বাজারে আরেকটি অবৈধ হাট বসিয়ে খাজনা আদায় করছে একটি পক্ষ। সবগুলো হাটই ভারত সীমান্তঘেঁষা। অথচ গত ৩ মে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বলেছিলেন, সীমান্ত এলাকায় এবার কোনো পশুর হাট বসবে না।

অভিযোগ উঠেছে, আনুমানিক ৮ লাখ টাকা মূল্যের এই চারটি হাট মাত্র ১ লাখ ১৪ হাজার ১০০ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের দরপত্র বিজ্ঞপ্তি বা ব্যাপক প্রচারণা ছাড়াই কেবল ‘মৌখিক প্রচারের’ মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ও তাদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের এসব হাট দেওয়া হয়। ইজারাদারদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্যের একান্ত চালক ও বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা।

অনিয়মের চিত্র এখানেই শেষ নয়; হাটে খাজনা আদায়ের তালিকা সংবলিত কোনো সাইনবোর্ড নেই। ছিলানী তাহিরপুর গ্রামের আব্দুল আলীম বলেন, ‘গত বছর গরুর হাসিল (খাজনা) ছিল ৪০০ টাকা। এবার কলাগাঁও হাটে নেওয়া হচ্ছে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। রশিদে কেনা দাম লিখলেও হাসিলের পরিমাণ লেখা হচ্ছে না।’ ভুক্তভোগীরা একে সরাসরি ‘চাঁদাবাজি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, হাটগুলো ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) যোগসাজশে একটি সিন্ডিকেটকে সুবিধা দিতেই এই লুকোচুরি করা হয়েছে।

তবে কলাগাঁও হাটের ইজারাদার আজিজুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমরা নিয়ম মেনেই হাট ইজারা নিয়েছি এবং নির্ধারিত হারেই খাজনা আদায় করছি। রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ সঠিক নয়।’

তাহিরপুরের নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিক বলেন, ‘অস্থায়ী পশুর হাটগুলো বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমেই ইজারা দেওয়া হয়েছে।’ বিজ্ঞপ্তির প্রচার না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, অনুমতি পাওয়ার পর একদিনের মৌখিক প্রচারের মাধ্যমে ইজারা দেওয়া হয়েছে। তবে এসব হাট পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার সুযোগ থাকে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২৫ মে ২০২৬


তাহিরপুরে নামমাত্র মূল্যে ৪টি পশুর হাট ইজারা, খাজনা আদায়ে নৈরাজ্য

প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬

featured Image

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় কোরবানির পশুর হাট ইজারা নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। যথাযথ প্রচার ছাড়াই গোপনীয়তা রক্ষা করে নামমাত্র মূল্যে চারটি অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এতে সরকার কয়েক লাখ টাকার রাজস্ব হারিয়েছে। অন্যদিকে, ইজারাদাররা নির্ধারিত হারের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি খাজনা আদায় করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে লাউড়েরগড়, কলাগাঁও, একতাবাজার ও শান্তিপুরে চারটি অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে বড়ছড়া বাজারে আরেকটি অবৈধ হাট বসিয়ে খাজনা আদায় করছে একটি পক্ষ। সবগুলো হাটই ভারত সীমান্তঘেঁষা। অথচ গত ৩ মে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বলেছিলেন, সীমান্ত এলাকায় এবার কোনো পশুর হাট বসবে না।

অভিযোগ উঠেছে, আনুমানিক ৮ লাখ টাকা মূল্যের এই চারটি হাট মাত্র ১ লাখ ১৪ হাজার ১০০ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের দরপত্র বিজ্ঞপ্তি বা ব্যাপক প্রচারণা ছাড়াই কেবল ‘মৌখিক প্রচারের’ মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ও তাদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের এসব হাট দেওয়া হয়। ইজারাদারদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্যের একান্ত চালক ও বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা।

অনিয়মের চিত্র এখানেই শেষ নয়; হাটে খাজনা আদায়ের তালিকা সংবলিত কোনো সাইনবোর্ড নেই। ছিলানী তাহিরপুর গ্রামের আব্দুল আলীম বলেন, ‘গত বছর গরুর হাসিল (খাজনা) ছিল ৪০০ টাকা। এবার কলাগাঁও হাটে নেওয়া হচ্ছে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। রশিদে কেনা দাম লিখলেও হাসিলের পরিমাণ লেখা হচ্ছে না।’ ভুক্তভোগীরা একে সরাসরি ‘চাঁদাবাজি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, হাটগুলো ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) যোগসাজশে একটি সিন্ডিকেটকে সুবিধা দিতেই এই লুকোচুরি করা হয়েছে।

তবে কলাগাঁও হাটের ইজারাদার আজিজুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমরা নিয়ম মেনেই হাট ইজারা নিয়েছি এবং নির্ধারিত হারেই খাজনা আদায় করছি। রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ সঠিক নয়।’

তাহিরপুরের নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিক বলেন, ‘অস্থায়ী পশুর হাটগুলো বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমেই ইজারা দেওয়া হয়েছে।’ বিজ্ঞপ্তির প্রচার না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, অনুমতি পাওয়ার পর একদিনের মৌখিক প্রচারের মাধ্যমে ইজারা দেওয়া হয়েছে। তবে এসব হাট পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার সুযোগ থাকে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত