ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের পদত্যাগের গুঞ্জন ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের দাবি দেশটির সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন পেজেশকিয়ান। তবে তেহরান এই দাবি পুরোপুরি অস্বীকার করে একে একটি 'মিডিয়া গেইম' বা সংবাদমাধ্যমের চাল বলে আখ্যায়িত করেছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’ তাদের
এক প্রতিবেদনে দাবি করে, গত রোববার (৩১ মে) ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতাবা খামেনির
কাছে অবিলম্বে পদত্যাগের অনুমতি চেয়ে চিঠি দিয়েছেন মাসুদ পেজেশকিয়ান।
প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বলা হয়, চিঠিতে পেজেশকিয়ান
অভিযোগ করেছেন দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে কার্যত
প্রেসিডেন্ট এবং সরকারকে বাইরে রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার
নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর
কট্টরপন্থি গোষ্ঠীগুলো। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং নিজের
আইনগত দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে সম্ভব নয় বলেই তিনি পদত্যাগ করতে চান।
এর আগেও পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করেছিল, আইআরজিসি ধীরে
ধীরে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমিত করে দিয়েছে এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর নিয়ন্ত্রণ
নিজেদের হাতে নিয়েছে। ফলে পেজেশকিয়ানের প্রশাসনে এক ধরনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অচলাবস্থা
তৈরি হয়েছে।
প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের এই খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে
উড়িয়ে দিয়েছে তেহরান। এ প্রসঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের যোগাযোগবিষয়ক উপপ্রধান
মেহদি তাবাতাবায়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি পোস্ট দিয়েছেন।
তিনি বলেন, "কিছু বিদেশি গণমাধ্যম ধারাবাহিক ‘মিডিয়া
গেইম’-এর অংশ হিসেবে এই মিথ্যা খবর ছড়াচ্ছে। ইরানের জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করার চেষ্টাকারীদের
এই অপচেষ্টা কখনো সফল হবে না, তাদের নিজেদের ইচ্ছা নিয়েই কবরে যেতে হবে।"
তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, দেশের অভ্যন্তরে বিভক্তির কোনো
সুযোগ নেই এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান কখনোই ইরানের জনগণের সেবা করার পথ থেকে
পিছিয়ে আসবেন না।
মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিভিন্ন পশ্চিমা
গণমাধ্যম দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছিল যে, ইরানের সরকার ও সামরিক-নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর
মধ্যে বড় ধরনের ফাটল ধরেছে। তবে ইরান সরকারের দাবি, এই ধরণের খবর মূলত দেশটির ঐক্য
ও সংহতির পথকে বাধাগ্রস্ত করার একটি সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি পদত্যাগপত্রের বিষয়টি সত্যি হয়, তবে
তা ইরানের ক্ষমতার সর্বোচ্চ স্তরে গভীর ও নজিরবিহীন বিভেদের ইঙ্গিত দেয়। আর যদি এটি
গুজব হয়, তবে তা তেহরানের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলোর
একটি বড় কৌশল।

সোমবার, ০১ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুন ২০২৬
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের পদত্যাগের গুঞ্জন ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের দাবি দেশটির সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন পেজেশকিয়ান। তবে তেহরান এই দাবি পুরোপুরি অস্বীকার করে একে একটি 'মিডিয়া গেইম' বা সংবাদমাধ্যমের চাল বলে আখ্যায়িত করেছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’ তাদের
এক প্রতিবেদনে দাবি করে, গত রোববার (৩১ মে) ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতাবা খামেনির
কাছে অবিলম্বে পদত্যাগের অনুমতি চেয়ে চিঠি দিয়েছেন মাসুদ পেজেশকিয়ান।
প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বলা হয়, চিঠিতে পেজেশকিয়ান
অভিযোগ করেছেন দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে কার্যত
প্রেসিডেন্ট এবং সরকারকে বাইরে রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার
নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর
কট্টরপন্থি গোষ্ঠীগুলো। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং নিজের
আইনগত দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে সম্ভব নয় বলেই তিনি পদত্যাগ করতে চান।
এর আগেও পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করেছিল, আইআরজিসি ধীরে
ধীরে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমিত করে দিয়েছে এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর নিয়ন্ত্রণ
নিজেদের হাতে নিয়েছে। ফলে পেজেশকিয়ানের প্রশাসনে এক ধরনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অচলাবস্থা
তৈরি হয়েছে।
প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের এই খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে
উড়িয়ে দিয়েছে তেহরান। এ প্রসঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের যোগাযোগবিষয়ক উপপ্রধান
মেহদি তাবাতাবায়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি পোস্ট দিয়েছেন।
তিনি বলেন, "কিছু বিদেশি গণমাধ্যম ধারাবাহিক ‘মিডিয়া
গেইম’-এর অংশ হিসেবে এই মিথ্যা খবর ছড়াচ্ছে। ইরানের জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করার চেষ্টাকারীদের
এই অপচেষ্টা কখনো সফল হবে না, তাদের নিজেদের ইচ্ছা নিয়েই কবরে যেতে হবে।"
তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, দেশের অভ্যন্তরে বিভক্তির কোনো
সুযোগ নেই এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান কখনোই ইরানের জনগণের সেবা করার পথ থেকে
পিছিয়ে আসবেন না।
মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিভিন্ন পশ্চিমা
গণমাধ্যম দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছিল যে, ইরানের সরকার ও সামরিক-নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর
মধ্যে বড় ধরনের ফাটল ধরেছে। তবে ইরান সরকারের দাবি, এই ধরণের খবর মূলত দেশটির ঐক্য
ও সংহতির পথকে বাধাগ্রস্ত করার একটি সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি পদত্যাগপত্রের বিষয়টি সত্যি হয়, তবে
তা ইরানের ক্ষমতার সর্বোচ্চ স্তরে গভীর ও নজিরবিহীন বিভেদের ইঙ্গিত দেয়। আর যদি এটি
গুজব হয়, তবে তা তেহরানের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলোর
একটি বড় কৌশল।

আপনার মতামত লিখুন