খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে কাজী রাশিদুল ইসলাম (২১) নামে এক তরুণকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে নগরের লবণচরা থানার সাচিবুনিয়া স্কুলভিটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রাশিদুল ইসলাম উপজেলার কৃষ্ণনগর এলাকার কাজী আনিসুর রহমানের ছেলে। তিনি নগরের একটি ছাপাখানার কর্মচারী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুরে কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তি রাশিদুলকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। বাড়ি থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে সাচিবুনিয়া এলাকায় নিয়ে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পূর্বশত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। রাশিদুলের বাবা আনিসুর রহমান বলেন, গত ১৯ মার্চ তাদের বাড়িতে ঢুকে একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালিয়েছিল। ওই হামলায় জড়িত ব্যক্তিরাই তার ছেলেকে হত্যা করেছে।
পুলিশ জানায়, প্রায় তিন বছর আগে একটি মামলায় রাশিদুল কারাগারে যান। সেখানে ইমরান নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেই সুবাদে ইমরানের পরিবারের সঙ্গে রাশিদুলের সখ্য তৈরি হয়। একপর্যায়ে ইমরানের স্ত্রীর সঙ্গে রাশিদুলের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় আট মাস আগে ইমরান অন্য একটি মামলায় কারাগারে গেলে রাশিদুল ওই নারীকে বিয়ে করেন।
এ ঘটনার জেরে গত ১৯ মার্চ একদল দুর্বৃত্ত রাশিদুলের বাড়িতে ঢুকে তার বাবা, মা, বড় ভাই ও স্ত্রীকে গুলি করে আহত করে। ওই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ রাশিদুলের স্ত্রী ফাহিমা জানিয়েছিলেন, তার সাবেক স্বামী ইমরান লোকজন নিয়ে এসে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছেন।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডে ইমরানের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। গত ১৯ মার্চের গুলির ঘটনায় ইমরান গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্তি পান। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
লাশ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানান লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশাররফ হোসেন।
আপনার মতামত লিখুন