ময়মনসিংহের নান্দাইলে নির্বাচনী জনসভায় যাওয়ার পথে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ২৪ জন নেতাকর্মী নিহত হওয়ার ২৯ বছর পেরিয়ে গেছে। ১৯৯৬ সালের সেই ভয়াবহ স্মৃতি আজও তাড়িয়ে বেড়ায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে। দীর্ঘ এই সময়েও নিহতদের স্বজন বা পঙ্গুত্ব বরণ করা ব্যক্তিরা কাঙ্ক্ষিত কোনো সরকারি বা দলীয় সহায়তা পাননি। তাদের অনেকেই এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৯৬ সালের ১ জুন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী খুররম খান চৌধুরীর জনসভায় যোগ দিতে সিংরইল ইউনিয়ন থেকে কর্মীরা দুটি বাসে রওনা হন। বাসের ছাদে থাকা লোকজন উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর এলাকার কাছাকাছি পৌঁছালে রাস্তার পাশে থাকা ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ লাইনের সংস্পর্শে আসেন। মুহূর্তের মধ্যে পুরো বাসটি বিদ্যুতায়িত হয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে ও পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪ জন প্রাণ হারান। এ ঘটনায় মারাত্মক আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেন আরও ৩৪ জন। নিহত ও আহতদের অধিকাংশেরই বাড়ি সিংরইল ইউনিয়নের উদং মধুপুর গ্রামে।
নিহতদের স্মৃতি রক্ষায় পরবর্তী সময়ে স্থানীয় শিয়ালধরা বাজারের পাশে ‘স্মৃতি মর্মর’ নামে একটি তোরণ নির্মাণ করা হয়। ২০০০ সালের ২৮ আগস্ট তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে থাকা বেগম খালেদা জিয়া এই স্মৃতি ফলক উন্মোচন করেন। সে সময় তিনি নিহতদের পরিবারকে ১০ হাজার ও আহতদের ৫ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছিলেন এবং দল ক্ষমতায় গেলে পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে এরপর দুই দশকের বেশি সময় পার হলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি।
বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নতুন সরকার গঠনের প্রেক্ষাপটে ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা আরও বেড়েছে। গত সোমবার (১ জুন) শিয়ালধরা বাজারে নিহতদের স্মরণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কথা হয় দুর্ঘটনার শিকার কয়েকজনের সঙ্গে।
দুর্ঘটনায় দুই পা হারানো ইদ্রিস আলী জানান, ঘটনার চার বছর পর মাত্র ১০ হাজার টাকা পেয়েছিলেন তিনি। এরপর আর কোনো সাহায্য জোটেনি। তিনি বলেন, ‘আমরা দলের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে আমাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা জানাতে চাই। আমরা জানতে চাই, দীর্ঘ এই বঞ্চনার অবসান কবে হবে।’
স্বজনহারা পরিবারগুলোর দাবি, দীর্ঘ অবহেলা কাটিয়ে এবার যেন সরকার তাদের স্থায়ী পুনর্বাসন ও যথাযথ আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করে।
আপনার মতামত লিখুন