খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) যানবাহন থেকে জ্বালানি তেল চুরির তদন্ত কার্যক্রম ২ মাসেও আলোর মুখ দেখেনি। এ ঘটনায় ৪ দফায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। বরং বারবার কমিটি পুনর্গঠন, সদস্য পরিবর্তন এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে নগর ভবনে নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
সর্বশেষ গত ২৪ মে কেসিসির সচিব রেজা রশীদ ৩ সদস্যের একটি নতুন তদন্ত কমিটি অনুমোদন করেছেন। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে কেসিসির ভেটেরিনারি অফিসার ড. পেরু গোপাল বিশ্বাসকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন উপসহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মোহাম্মদ সেলিমুল আজাদ ও এস্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দীন।
এর আগে গত ৪ মে তৃতীয় দফায় গঠিত কমিটিতে নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মোহাম্মদ আনিচুজ্জামানকে আহ্বায়ক করা হলেও সেই কমিটি পরে বাতিল করা হয়। দ্বিতীয় দফার কমিটির এক সদস্য ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করায় সেটিও কার্যকর হয়নি।
কেসিসি সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ মার্চ দুপুরে খালিশপুর বি-অঞ্চলের সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে (এসটিএস) একটি ব্যাক হুইল লোডারের জ্বালানি ট্যাংক থেকে তেল চুরির সময় চালক এনায়েত হোসেন বাবলুকে হাতেনাতে আটক করা হয়। কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুর নির্দেশে ঘটনাস্থল থেকে চুরির তেলভর্তি ক্যান জব্দ করা হয় এবং ওই চালককে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
তদন্ত কমিটিকে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হলেও ২ মাসেও কাজ শেষ হয়নি। বর্তমান তদন্ত কমিটির প্রধান ড. পেরু গোপাল বিশ্বাস বলেন, ‘নথিপত্র পেয়েছি। শিগগিরই তদন্ত শুরু হবে। কোনো ধরনের চাপ বা অন্যায্য আবদার প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।’
এদিকে কমিটি গঠন নিয়ে নতুন বিতর্ক দেখা দিয়েছে। প্রথম দফার কমিটিতে থাকা এস্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দীনকে নিয়ে আপত্তি ওঠায় প্রশাসকের নির্দেশে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সর্বশেষ কমিটিতে তাকে আবারও অন্তর্ভুক্ত করায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, হাতেনাতে আটকের পর চালক বাবলু ও তার সহকারী সুরুজ মিলে অভিযোগকারী সুপারভাইজার নুরুজ্জামান সুমনের ওপর হামলা চালান এবং আলামত নষ্টের চেষ্টা করেন। এর আগেও সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনির আমলে তেল চুরির ঘটনায় তদন্ত কমিটি হলেও সেই প্রতিবেদন কখনো প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বর্তমান তদন্তের ভবিষ্যৎ নিয়েও জনমনে সংশয় দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুন ২০২৬
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) যানবাহন থেকে জ্বালানি তেল চুরির তদন্ত কার্যক্রম ২ মাসেও আলোর মুখ দেখেনি। এ ঘটনায় ৪ দফায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। বরং বারবার কমিটি পুনর্গঠন, সদস্য পরিবর্তন এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে নগর ভবনে নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
সর্বশেষ গত ২৪ মে কেসিসির সচিব রেজা রশীদ ৩ সদস্যের একটি নতুন তদন্ত কমিটি অনুমোদন করেছেন। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে কেসিসির ভেটেরিনারি অফিসার ড. পেরু গোপাল বিশ্বাসকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন উপসহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মোহাম্মদ সেলিমুল আজাদ ও এস্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দীন।
এর আগে গত ৪ মে তৃতীয় দফায় গঠিত কমিটিতে নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মোহাম্মদ আনিচুজ্জামানকে আহ্বায়ক করা হলেও সেই কমিটি পরে বাতিল করা হয়। দ্বিতীয় দফার কমিটির এক সদস্য ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করায় সেটিও কার্যকর হয়নি।
কেসিসি সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ মার্চ দুপুরে খালিশপুর বি-অঞ্চলের সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে (এসটিএস) একটি ব্যাক হুইল লোডারের জ্বালানি ট্যাংক থেকে তেল চুরির সময় চালক এনায়েত হোসেন বাবলুকে হাতেনাতে আটক করা হয়। কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুর নির্দেশে ঘটনাস্থল থেকে চুরির তেলভর্তি ক্যান জব্দ করা হয় এবং ওই চালককে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
তদন্ত কমিটিকে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হলেও ২ মাসেও কাজ শেষ হয়নি। বর্তমান তদন্ত কমিটির প্রধান ড. পেরু গোপাল বিশ্বাস বলেন, ‘নথিপত্র পেয়েছি। শিগগিরই তদন্ত শুরু হবে। কোনো ধরনের চাপ বা অন্যায্য আবদার প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।’
এদিকে কমিটি গঠন নিয়ে নতুন বিতর্ক দেখা দিয়েছে। প্রথম দফার কমিটিতে থাকা এস্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দীনকে নিয়ে আপত্তি ওঠায় প্রশাসকের নির্দেশে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সর্বশেষ কমিটিতে তাকে আবারও অন্তর্ভুক্ত করায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, হাতেনাতে আটকের পর চালক বাবলু ও তার সহকারী সুরুজ মিলে অভিযোগকারী সুপারভাইজার নুরুজ্জামান সুমনের ওপর হামলা চালান এবং আলামত নষ্টের চেষ্টা করেন। এর আগেও সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনির আমলে তেল চুরির ঘটনায় তদন্ত কমিটি হলেও সেই প্রতিবেদন কখনো প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বর্তমান তদন্তের ভবিষ্যৎ নিয়েও জনমনে সংশয় দেখা দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন