সংবাদ

তারেক রহমানের মধ্যে জিয়াউর রহমানের প্রতিচ্ছবি: মির্জা ফখরুল


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ৪ জুন ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম

তারেক রহমানের মধ্যে জিয়াউর রহমানের প্রতিচ্ছবি: মির্জা ফখরুল
বিএনপি উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী: মির্জা ফখরুল

বিএনপি উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব করে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে (পিআইবি) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পিআইবি মিলনায়তনে ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের স্বাধীন নির্জোট কূটনীতি’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।  অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচনের আগে বুদ্ধিজীবীরা পত্রপত্রিকায় ‘হাইপ’ উঠিয়ে দিয়েছিলেন যে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় চলে আসছে এবং তারা নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে জয়লাভ করবে। তবে মানুষ ভুল না করে তাদের বাদ দিয়ে বিএনপিকেই বেছে নিয়েছে, যার মূল কারণ হলো বিএনপি উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। 

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘বিএনপি ইজ এ পার্টি অব লিবারেল ডেমোক্রেসি’ এবং তারা এই উদার গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান, অন্য কোনো বিভাজন সৃষ্টি করতে চান না।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণা করে মির্জা ফখরুল বলেন, একাত্তরে গোটা দেশের মানুষ যখন নেতাদের কাছ থেকে ঘোষণার প্রত্যাশা করেছিল এবং তা আসেনি, তখন আওয়ামী লীগের কাছে ‘অখ্যাত মেজর’ হিসেবে বিদ্রুপের শিকার হওয়া জিয়াউর রহমানই হঠাৎ চট্টগ্রাম থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও যুদ্ধ ঘোষণা করেন। 

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের সবচেয়ে বড় কাজ ছিল এই ভূখণ্ডের মানুষগুলোকে একটি স্বকীয়তা ও আলাদা পরিচিতি (আইডেন্টিটি) দেওয়া। 

জিয়াউর রহমানের জানাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণের কথা স্মরণ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সেদিনের মোনাজাতে যখন লালবাগের হুজুর ‘আল্লাহ বাংলাদেশকে হেফাজত কর’ বলেছিলেন, তখন মানুষ ডুকরে কেঁদে উঠেছিল। কারণ, জিয়াউর রহমান এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের অস্তিত্ব তখন একাকার হয়ে গিয়েছিল। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ দেশকে হেফাজত করতে চব্বিশের মতো বারবার উঠে দাঁড়িয়েছে এবং নতুন করে গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশ যে কারণে সৃষ্টি হয়েছিল, তাকেই প্রতিষ্ঠিত করতে চান তারা। এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিয়েছেন, ঠিক যেমন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’ গানটি বেছে নিয়েছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিভিন্ন কর্মসূচি ও কাজের মধ্যে জিয়াউর রহমানের প্রতিচ্ছবি দেখা যাচ্ছে এবং তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ সেদিকে এগিয়ে যাবে। 

আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতিবিদ মুশতাক খান। আলোচক হিসেবে অংশ নেন বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নালের সম্পাদক আবু রূশদ এবং ব্রেইনের নির্বাহী পরিচালক শফিকুর রহমান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬


তারেক রহমানের মধ্যে জিয়াউর রহমানের প্রতিচ্ছবি: মির্জা ফখরুল

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুন ২০২৬

featured Image

বিএনপি উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব করে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে (পিআইবি) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পিআইবি মিলনায়তনে ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের স্বাধীন নির্জোট কূটনীতি’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।  অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচনের আগে বুদ্ধিজীবীরা পত্রপত্রিকায় ‘হাইপ’ উঠিয়ে দিয়েছিলেন যে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় চলে আসছে এবং তারা নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে জয়লাভ করবে। তবে মানুষ ভুল না করে তাদের বাদ দিয়ে বিএনপিকেই বেছে নিয়েছে, যার মূল কারণ হলো বিএনপি উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। 

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘বিএনপি ইজ এ পার্টি অব লিবারেল ডেমোক্রেসি’ এবং তারা এই উদার গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান, অন্য কোনো বিভাজন সৃষ্টি করতে চান না।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণা করে মির্জা ফখরুল বলেন, একাত্তরে গোটা দেশের মানুষ যখন নেতাদের কাছ থেকে ঘোষণার প্রত্যাশা করেছিল এবং তা আসেনি, তখন আওয়ামী লীগের কাছে ‘অখ্যাত মেজর’ হিসেবে বিদ্রুপের শিকার হওয়া জিয়াউর রহমানই হঠাৎ চট্টগ্রাম থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও যুদ্ধ ঘোষণা করেন। 

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের সবচেয়ে বড় কাজ ছিল এই ভূখণ্ডের মানুষগুলোকে একটি স্বকীয়তা ও আলাদা পরিচিতি (আইডেন্টিটি) দেওয়া। 

জিয়াউর রহমানের জানাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণের কথা স্মরণ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সেদিনের মোনাজাতে যখন লালবাগের হুজুর ‘আল্লাহ বাংলাদেশকে হেফাজত কর’ বলেছিলেন, তখন মানুষ ডুকরে কেঁদে উঠেছিল। কারণ, জিয়াউর রহমান এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের অস্তিত্ব তখন একাকার হয়ে গিয়েছিল। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ দেশকে হেফাজত করতে চব্বিশের মতো বারবার উঠে দাঁড়িয়েছে এবং নতুন করে গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশ যে কারণে সৃষ্টি হয়েছিল, তাকেই প্রতিষ্ঠিত করতে চান তারা। এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিয়েছেন, ঠিক যেমন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’ গানটি বেছে নিয়েছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিভিন্ন কর্মসূচি ও কাজের মধ্যে জিয়াউর রহমানের প্রতিচ্ছবি দেখা যাচ্ছে এবং তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ সেদিকে এগিয়ে যাবে। 

আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতিবিদ মুশতাক খান। আলোচক হিসেবে অংশ নেন বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নালের সম্পাদক আবু রূশদ এবং ব্রেইনের নির্বাহী পরিচালক শফিকুর রহমান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত