সংবাদ

৩৩ বিভাগে অধ্যাপক মাত্র দুজন, সংকটে গোবিপ্রবি


প্রতিনিধি, গোবিপ্রবি
প্রতিনিধি, গোবিপ্রবি
প্রকাশ: ৬ জুন ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম

৩৩ বিভাগে অধ্যাপক মাত্র দুজন, সংকটে গোবিপ্রবি
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম। ছবি : সংবাদ

মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগে পর্যাপ্তসংখ্যক অভিজ্ঞ শিক্ষক থাকা প্রয়োজন। তবে এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি)। ৩৩টি বিভাগ নিয়ে পরিচালিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক রয়েছেন মাত্র দুজন। এ ছাড়া ১০টি বিভাগে কোনো সহযোগী অধ্যাপকও নেই।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, কেবল ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে একজন করে অধ্যাপক রয়েছেন। বাকি ৩১টি বিভাগে কোনো অধ্যাপক নেই। ২৩টি বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক থাকলেও ১০টি বিভাগ এখনো জ্যেষ্ঠ শিক্ষকশূন্য। ফলে অধিকাংশ বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষকদের ওপর নির্ভর করে। কোনো কোনো বিভাগে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র একজন।

সহযোগী অধ্যাপকবিহীন বিভাগগুলো হলো-সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্কিটেকচার, পরিবেশবিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, মনোবিজ্ঞান, উদ্ভিদবিজ্ঞান, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স এবং অ্যানিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন। এর মধ্যে ট্যুরিজম এবং অ্যানিমেল সায়েন্স বিভাগে শিক্ষক সংকট সবচেয়ে প্রকট।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের অভাবে গবেষণা, থিসিস তদারকি ও আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী জন রায় বলেন, ‘৩৩টি বিভাগের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক মাত্র দুজন থাকা গভীর প্রাতিষ্ঠানিক সংকটের চিত্র। গবেষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। নিয়মিত নির্দেশনা না পাওয়ায় শিক্ষার্থীরাও একাডেমিক সহায়তা পাচ্ছেন না।’

তিনি আরও জানান, ল্যাব সুবিধা ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে ব্যবহারিক শিক্ষাও ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে বাজেট সংকটের কারণে আপাতত চুক্তিভিত্তিতে অধ্যাপক নিয়োগের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

উপাচার্য হোসেন উদ্দিন শেখর বলেন, ‘বাজেট সীমাবদ্ধতার কারণে এখনই বড় কোনো উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে ৫৭ জন শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ধাপে ধাপে নিয়োগ ও পদোন্নতির মাধ্যমে এই সংকট নিরসনের চেষ্টা করা হবে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬


৩৩ বিভাগে অধ্যাপক মাত্র দুজন, সংকটে গোবিপ্রবি

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুন ২০২৬

featured Image

মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগে পর্যাপ্তসংখ্যক অভিজ্ঞ শিক্ষক থাকা প্রয়োজন। তবে এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি)। ৩৩টি বিভাগ নিয়ে পরিচালিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক রয়েছেন মাত্র দুজন। এ ছাড়া ১০টি বিভাগে কোনো সহযোগী অধ্যাপকও নেই।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, কেবল ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে একজন করে অধ্যাপক রয়েছেন। বাকি ৩১টি বিভাগে কোনো অধ্যাপক নেই। ২৩টি বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক থাকলেও ১০টি বিভাগ এখনো জ্যেষ্ঠ শিক্ষকশূন্য। ফলে অধিকাংশ বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষকদের ওপর নির্ভর করে। কোনো কোনো বিভাগে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র একজন।

সহযোগী অধ্যাপকবিহীন বিভাগগুলো হলো-সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্কিটেকচার, পরিবেশবিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, মনোবিজ্ঞান, উদ্ভিদবিজ্ঞান, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স এবং অ্যানিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন। এর মধ্যে ট্যুরিজম এবং অ্যানিমেল সায়েন্স বিভাগে শিক্ষক সংকট সবচেয়ে প্রকট।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের অভাবে গবেষণা, থিসিস তদারকি ও আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী জন রায় বলেন, ‘৩৩টি বিভাগের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক মাত্র দুজন থাকা গভীর প্রাতিষ্ঠানিক সংকটের চিত্র। গবেষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। নিয়মিত নির্দেশনা না পাওয়ায় শিক্ষার্থীরাও একাডেমিক সহায়তা পাচ্ছেন না।’

তিনি আরও জানান, ল্যাব সুবিধা ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে ব্যবহারিক শিক্ষাও ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে বাজেট সংকটের কারণে আপাতত চুক্তিভিত্তিতে অধ্যাপক নিয়োগের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

উপাচার্য হোসেন উদ্দিন শেখর বলেন, ‘বাজেট সীমাবদ্ধতার কারণে এখনই বড় কোনো উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে ৫৭ জন শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ধাপে ধাপে নিয়োগ ও পদোন্নতির মাধ্যমে এই সংকট নিরসনের চেষ্টা করা হবে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত