সংবাদ

‘ভবিষ্যৎ আপনাদের, দেশ গড়ার নেতৃত্বও আপনাদের নিতে হবে’: প্রধানমন্ত্রী


ঢাবি প্রতিনিধি
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম

‘ভবিষ্যৎ আপনাদের, দেশ গড়ার নেতৃত্বও আপনাদের নিতে হবে’: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, "বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বর্তমান তরুণ প্রজন্মের হাতে এবং দেশ গড়ার নেতৃত্বও শিক্ষার্থীদেরই নিতে হবে। অতীতের ব্যর্থতা নিয়ে পড়ে না থেকে ভবিষ্যৎ নির্মাণে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।"

মঙ্গলবার (১২ মে ২০২৬) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি যতটা বলতে চাই, তার চেয়ে বেশি আমি শিক্ষার্থীদের কথা শুনতে চাই। ভবিষ্যৎ আপনাদের; দেশকে এগিয়ে নিতে আপনাদেরই নেতৃত্ব দিতে হবে।”

অনুষ্ঠানে প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ও সাদা দলের আহ্বায়ক ড. মোর্শেদ হাসান খান। এছাড়া শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন, শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহাদী আলম, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, কোষাধ্যক্ষ, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক ও সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময়কালে শিক্ষার্থীরা আবাসন সংকট, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ও হলের রিডিং রুমে আসনসংকট, সরকারি চাকরিতে অনিয়ম, গবেষণায় সীমাবদ্ধতা, শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা, ভাষাশিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সংস্কৃতি চর্চাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। প্রধানমন্ত্রী এসব বিষয়ে খোলামেলা উত্তর দেন।

দুর্নীতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অপচয় ও অনিয়ম দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করেছে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, ব্যবহারিক দক্ষতাও অর্জন করতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকার ইন্টার্নশিপ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।"

তিনি জানান, "শিক্ষার্থীরা যেন পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব কর্মপরিবেশ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে, সে জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে।

গবেষণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ গবেষণা ও মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগে ঘাটতি। মেধা ও একাডেমিক যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ এবং গবেষণা সংস্কৃতি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে।"

শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, "সরকার স্কুল পর্যায় থেকেই তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে। ইংরেজির পাশাপাশি চীনা, জাপানি, ফরাসি ও জার্মান ভাষা শিক্ষার সুযোগ তৈরির পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"

তিনি বলেন, “ভবিষ্যৎ কর্মবাজারে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে ভাষা শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই মতবিনিময় “উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

তিনি বলেন, "ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণআন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানসহ দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।"

উপাচার্য আরও বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া অতীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন। তাঁদের ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ আগমন ইতিহাসে একটি অনন্য সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হবে।”

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬


‘ভবিষ্যৎ আপনাদের, দেশ গড়ার নেতৃত্বও আপনাদের নিতে হবে’: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬

featured Image

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, "বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বর্তমান তরুণ প্রজন্মের হাতে এবং দেশ গড়ার নেতৃত্বও শিক্ষার্থীদেরই নিতে হবে। অতীতের ব্যর্থতা নিয়ে পড়ে না থেকে ভবিষ্যৎ নির্মাণে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।"

মঙ্গলবার (১২ মে ২০২৬) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি যতটা বলতে চাই, তার চেয়ে বেশি আমি শিক্ষার্থীদের কথা শুনতে চাই। ভবিষ্যৎ আপনাদের; দেশকে এগিয়ে নিতে আপনাদেরই নেতৃত্ব দিতে হবে।”

অনুষ্ঠানে প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ও সাদা দলের আহ্বায়ক ড. মোর্শেদ হাসান খান। এছাড়া শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন, শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহাদী আলম, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, কোষাধ্যক্ষ, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক ও সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময়কালে শিক্ষার্থীরা আবাসন সংকট, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ও হলের রিডিং রুমে আসনসংকট, সরকারি চাকরিতে অনিয়ম, গবেষণায় সীমাবদ্ধতা, শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা, ভাষাশিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সংস্কৃতি চর্চাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। প্রধানমন্ত্রী এসব বিষয়ে খোলামেলা উত্তর দেন।

দুর্নীতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অপচয় ও অনিয়ম দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করেছে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, ব্যবহারিক দক্ষতাও অর্জন করতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকার ইন্টার্নশিপ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।"

তিনি জানান, "শিক্ষার্থীরা যেন পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব কর্মপরিবেশ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে, সে জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে।

গবেষণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ গবেষণা ও মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগে ঘাটতি। মেধা ও একাডেমিক যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ এবং গবেষণা সংস্কৃতি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে।"

শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, "সরকার স্কুল পর্যায় থেকেই তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে। ইংরেজির পাশাপাশি চীনা, জাপানি, ফরাসি ও জার্মান ভাষা শিক্ষার সুযোগ তৈরির পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"

তিনি বলেন, “ভবিষ্যৎ কর্মবাজারে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে ভাষা শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই মতবিনিময় “উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

তিনি বলেন, "ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণআন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানসহ দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।"

উপাচার্য আরও বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া অতীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন। তাঁদের ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ আগমন ইতিহাসে একটি অনন্য সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হবে।”


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত