লালমনিরহাট, পঞ্চগড় ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের একাধিক সীমান্ত পয়েন্টে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশ-ইন চেষ্টা ঠেকিয়ে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। নারী-শিশুসহ অন্তত ৭১ জনকে বাংলাদেশের ভেতরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালালেও তারা সফল হয়নি।
শুক্রবার (৫ জুন) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত তিন জেলার বিভিন্ন সীমান্তে এসব ঘটনা ঘটে। এখনও সীমান্তের শূন্যরেখার কাছাকাছি অপেক্ষা করছে ওই সব নারী-পুরুষ ও শিশুরা।
লালমনিরহাট: জেলার বড়খাতা, পয়ষট্টিবাড়ি, দুর্গাপুর ও দিঘলটারী বিওপি এলাকায় ভোর ৫টার দিকে বিএসএফ ৩৩ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ঈমাম জানান, ‘পুশ-ইন করা নারী-পুরুষদের সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে দেওয়া হয়েছে। সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’
৬১ বিজিবি তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধীনে থাকা বড়খাতা বিওপি এলাকায় ১১ জন এবং পয়ষট্টিবাড়ি বিওপি এলাকায় ১০ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ।
অন্যদিকে, ১৫ বিজিবির অধীন দুর্গাপুর ও দিঘলটারী বিওপিতে আরও ১২ জনের উপস্থিতি লক্ষ্য করে টহল দল। বিজিবি সদস্যরা মাইকে সতর্ক করলে তারা ভারতীয় সীমান্ত অতিক্রম করতে পারেনি।
পঞ্চগড়: সদর উপজেলার বড়বাড়ি-প্রধানপাড়া সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ।
নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, বিএসএফ তাদের বাংলাদেশের নাগরিক বলে দাবি করলেও পরিচয় যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
শূন্যরেখায় পাঁচ পুরুষ, দুই নারী ও তিন শিশু অপেক্ষা করছে। এ ঘটনায় সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তে বিএসএফের পুশ-ইন চেষ্টার পর ২৮ জন বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে সীমান্তের শূন্যরেখার কাছাকাছি অবস্থান করছেন।
নওগাঁ ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ২০৩/৬ এস নম্বর পিলার এলাকা দিয়ে ২৮ জনকে (১২ পুরুষ, ১০ নারী, ৬ শিশু) পুশ-ইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিজিবির বাধায় তারা শূন্যরেখায় অবস্থান নেয়।
বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার কোম্পানি ও ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়। বৈঠকের শুরুতে বিএসএফ পুশ-ইনের বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে তা স্বীকার করে নেয়।
বিজিবি জানায়, তারা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবে বলে জানিয়েছে বিএসএফ। তবে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত কোনো নতুন সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। বর্তমানে ওই ২৮ জন ভারতের অভ্যন্তরে, শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে অবস্থান করছেন।

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬
লালমনিরহাট, পঞ্চগড় ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের একাধিক সীমান্ত পয়েন্টে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশ-ইন চেষ্টা ঠেকিয়ে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। নারী-শিশুসহ অন্তত ৭১ জনকে বাংলাদেশের ভেতরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালালেও তারা সফল হয়নি।
শুক্রবার (৫ জুন) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত তিন জেলার বিভিন্ন সীমান্তে এসব ঘটনা ঘটে। এখনও সীমান্তের শূন্যরেখার কাছাকাছি অপেক্ষা করছে ওই সব নারী-পুরুষ ও শিশুরা।
লালমনিরহাট: জেলার বড়খাতা, পয়ষট্টিবাড়ি, দুর্গাপুর ও দিঘলটারী বিওপি এলাকায় ভোর ৫টার দিকে বিএসএফ ৩৩ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ঈমাম জানান, ‘পুশ-ইন করা নারী-পুরুষদের সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে দেওয়া হয়েছে। সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’
৬১ বিজিবি তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধীনে থাকা বড়খাতা বিওপি এলাকায় ১১ জন এবং পয়ষট্টিবাড়ি বিওপি এলাকায় ১০ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ।
অন্যদিকে, ১৫ বিজিবির অধীন দুর্গাপুর ও দিঘলটারী বিওপিতে আরও ১২ জনের উপস্থিতি লক্ষ্য করে টহল দল। বিজিবি সদস্যরা মাইকে সতর্ক করলে তারা ভারতীয় সীমান্ত অতিক্রম করতে পারেনি।
পঞ্চগড়: সদর উপজেলার বড়বাড়ি-প্রধানপাড়া সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ।
নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, বিএসএফ তাদের বাংলাদেশের নাগরিক বলে দাবি করলেও পরিচয় যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
শূন্যরেখায় পাঁচ পুরুষ, দুই নারী ও তিন শিশু অপেক্ষা করছে। এ ঘটনায় সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তে বিএসএফের পুশ-ইন চেষ্টার পর ২৮ জন বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে সীমান্তের শূন্যরেখার কাছাকাছি অবস্থান করছেন।
নওগাঁ ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ২০৩/৬ এস নম্বর পিলার এলাকা দিয়ে ২৮ জনকে (১২ পুরুষ, ১০ নারী, ৬ শিশু) পুশ-ইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিজিবির বাধায় তারা শূন্যরেখায় অবস্থান নেয়।
বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার কোম্পানি ও ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়। বৈঠকের শুরুতে বিএসএফ পুশ-ইনের বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে তা স্বীকার করে নেয়।
বিজিবি জানায়, তারা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবে বলে জানিয়েছে বিএসএফ। তবে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত কোনো নতুন সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। বর্তমানে ওই ২৮ জন ভারতের অভ্যন্তরে, শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে অবস্থান করছেন।

আপনার মতামত লিখুন