গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) উপাচার্যের বাসভবন ও কফি হাউসের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত লেকটি এখন অযত্ন আর অবহেলার প্রতিচ্ছবিতে পরিণত হয়েছে। একসময় ক্যাম্পাসের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত এই লেকটি বর্তমানে কচুরিপানা, জলজ আগাছা আর আবর্জনায় সয়লাব। এতে ক্যাম্পাসের নান্দনিক সৌন্দর্য যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি মশা ও সাপের উপদ্রব নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, একসময়ের স্বচ্ছ পানির সেই লেকটি এখন কচুরিপানার দখলে। কোথাও কোথাও প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য জমে আছে। অস্বাস্থ্যকর এই পরিবেশের কারণে লেকের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ার পাশাপাশি আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী শামীমা বলেন, ‘সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে একটু শ্বাস নেওয়ার জায়গা ছিল এই লেকপাড়। বর্তমানে এটি সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। কচুরিপানার কারণে এখন আর পানি দেখা যায় না। প্রশাসনের উচিত দ্রুত এটি পরিষ্কার করে সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা।’
একই ক্ষোভ প্রকাশ করেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাবরুল শেখ। তিনি বলেন, ‘এখানে বসে আমরা মানসিক প্রশান্তি খুঁজতাম। কিন্তু দীর্ঘদিনের অযত্নে লেকটি এখন মশা আর সাপের প্রজননকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট দপ্তর সূত্রে জানা যায়, সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নানা সীমাবদ্ধতায় তা থমকে আছে। এস্টেট দপ্তরের সহকারী রেজিস্ট্রার নিজামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘কিছুদিন আগে লেকপাড়ের চারপাশের ময়লা পরিষ্কার করা হয়েছে। তবে ভেতরের অংশে পদ্মফুল থাকায় এবং পানি অত্যন্ত নোংরা হওয়ায় মালিরা নামতে চাইছেন না।’
তিনি আরও জানান, লেকটি পূর্ণাঙ্গভাবে পরিষ্কারের জন্য উপাচার্যের কাছে বাজেট চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। বাজেট পাওয়া গেলে বাইরে থেকে শ্রমিক এনে দ্রুত লেকটি পরিষ্কার করা হবে।
ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য রক্ষায় ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত এই লেকটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
আপনার মতামত লিখুন