নওগাঁর সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পক্ষ থেকে অবৈধভাবে লোক পাঠানোর (পুশইন) চেষ্টায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এতে সীমান্তঘেঁষা গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সীমান্তে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করেছে।
নওগাঁ জেলার সঙ্গে ভারতের নয়টি সীমান্ত এলাকা রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জুন জেলার সাপাহার উপজেলার করমুডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে ১৭ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। বিজিবির কড়া নজরদারিতে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপর থেকেই পোরশা ও ধামইরহাট উপজেলার বিভিন্ন সীমান্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের প্রধান জীবিকা কৃষি ও পশুপালন। কৃষকদের অভিযোগ, জমিতে কাজ করতে গেলে প্রায়ই বিএসএফের হয়রানির শিকার হতে হয়।
সাপাহারের করমুডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল জলিল বলেন, ‘জমিতে কাজ করতে গেলেই বিএসএফ ধাওয়া দেয়। অনেক সময় সীমানা পেরিয়ে এসে ভয় দেখায়।’
একই গ্রামের মতিন জানান, অতীতে তার স্বজনদের বিএসএফ গুলি করে হত্যা করেছে। ফলে জমিতে কাজ করতে গেলে সব সময়ই আতঙ্কে থাকতে হয়।
পোরশা উপজেলার নিতপুর গ্রামের বাসিন্দা রাশেদ জানান, গত রাতে বিএসএফ কিছু মানুষকে বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য সীমান্তে জড়ো করে-এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় প্রায় ২০০ মানুষ লাঠিসোঁটা ও টর্চলাইট নিয়ে রাতভর সীমান্ত পাহারা দেন।
আইনজীবী মহসিন রেজা বলেন, যেকোনো দেশে অবৈধ অধিবাসী থাকতেই পারে। তবে আন্তর্জাতিক আইন না মেনে এভাবে পুশ-ইনের চেষ্টা করা অপরাধ।
নওগাঁ-১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, ‘সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে বিজিবি। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশ-ইনের যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিরোধে বিজিবি দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।’
আপনার মতামত লিখুন