হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার রাজার বাজার উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় জনবলের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সব কটি পদ শূন্য থাকায় একমাত্র মিডওয়াইফ দিয়েই চলছে পুরো কেন্দ্রের কার্যক্রম। এতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজার বাজার উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন মেডিকেল অফিসার, একজন ফার্মাসিস্ট, একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো), একজন এমএলএসএস ও একজন নিরাপত্তা কর্মীর পদ থাকলেও বর্তমানে সবগুলো পদই শূন্য। ফলে পুরো কেন্দ্রের দায়িত্ব একাই পালন করছেন মিডওয়াইফ পলি আক্তার।
সরেজমিনে দেখা যায়, চিকিৎসক না থাকায় রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা, গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ওজন মাপা ও রক্তচাপ পরীক্ষা থেকে শুরু করে যাবতীয় পরামর্শ ও দাপ্তরিক কাজ একাই সামলাচ্ছেন পলি আক্তার। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিভিন্ন কক্ষ জনশূন্য অবস্থায় পড়ে থাকায় অফিসের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও ওষুধের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মিডওয়াইফ পলি আক্তার বলেন, ‘আমি যোগদানের পর থেকে এখানে কোনো মেডিকেল অফিসার পাইনি। একাই প্রতিদিন ৪০-৫০ জন রোগীর চাপ সামলাতে হচ্ছে। গর্ভবতী মায়েদের পরীক্ষা করার সময় অন্য কক্ষগুলো ফাঁকা থাকে, তখন ওষুধ ও কাগজপত্রের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় থাকি। এখানে কোনো নিরাপত্তা কর্মীও নেই। ফার্মাসিস্ট না থাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ওষুধ সংগ্রহ করাও আমার জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে।’
চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘বর্তমানে একজন মিডওয়াইফ সেখানে সেবা দিচ্ছেন। ডাক্তারের পদটি শূন্য। জনবল নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’
হবিগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. রত্নদীপ বিশ্বাস জানান, অনেক চিকিৎসক প্রেষণে অন্য জায়গায় কর্মরত আছেন। সরকার নতুন মেডিকেল অফিসার নিয়োগ দিলে এবং প্রেষণ বাতিল করলে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসক পদায়ন সম্ভব হবে।
দ্রুত জনবল নিয়োগ ও চিকিৎসক পদায়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অন্যথায় এলাকার চিকিৎসাব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
/

শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার রাজার বাজার উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় জনবলের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সব কটি পদ শূন্য থাকায় একমাত্র মিডওয়াইফ দিয়েই চলছে পুরো কেন্দ্রের কার্যক্রম। এতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজার বাজার উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন মেডিকেল অফিসার, একজন ফার্মাসিস্ট, একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো), একজন এমএলএসএস ও একজন নিরাপত্তা কর্মীর পদ থাকলেও বর্তমানে সবগুলো পদই শূন্য। ফলে পুরো কেন্দ্রের দায়িত্ব একাই পালন করছেন মিডওয়াইফ পলি আক্তার।
সরেজমিনে দেখা যায়, চিকিৎসক না থাকায় রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা, গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ওজন মাপা ও রক্তচাপ পরীক্ষা থেকে শুরু করে যাবতীয় পরামর্শ ও দাপ্তরিক কাজ একাই সামলাচ্ছেন পলি আক্তার। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিভিন্ন কক্ষ জনশূন্য অবস্থায় পড়ে থাকায় অফিসের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও ওষুধের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মিডওয়াইফ পলি আক্তার বলেন, ‘আমি যোগদানের পর থেকে এখানে কোনো মেডিকেল অফিসার পাইনি। একাই প্রতিদিন ৪০-৫০ জন রোগীর চাপ সামলাতে হচ্ছে। গর্ভবতী মায়েদের পরীক্ষা করার সময় অন্য কক্ষগুলো ফাঁকা থাকে, তখন ওষুধ ও কাগজপত্রের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় থাকি। এখানে কোনো নিরাপত্তা কর্মীও নেই। ফার্মাসিস্ট না থাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ওষুধ সংগ্রহ করাও আমার জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে।’
চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘বর্তমানে একজন মিডওয়াইফ সেখানে সেবা দিচ্ছেন। ডাক্তারের পদটি শূন্য। জনবল নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’
হবিগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. রত্নদীপ বিশ্বাস জানান, অনেক চিকিৎসক প্রেষণে অন্য জায়গায় কর্মরত আছেন। সরকার নতুন মেডিকেল অফিসার নিয়োগ দিলে এবং প্রেষণ বাতিল করলে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসক পদায়ন সম্ভব হবে।
দ্রুত জনবল নিয়োগ ও চিকিৎসক পদায়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অন্যথায় এলাকার চিকিৎসাব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
/

আপনার মতামত লিখুন