সংবাদ

অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে থাইগ্লাস ‘চুরি’


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম

অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে থাইগ্লাস ‘চুরি’
ছবি : সংগৃহীত

গভীর রাতে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের জানালার থাইগ্লাস খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা এটি চুরির ঘটনা হলেও অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল সন্দেহ করছেন, এটি সাধারণ কোনো চুরি নয়; বরং এর পেছনে 'নাশকতার' উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

শুক্রবার (১২ জুন)  দুপুরে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ও পুলিশ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি চলছে।

কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন টনার বর্ণনা দিয়ে জানান, 'রাত আনুমানিক সোয়া ১টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত ভবনের নিচতলা ও দোতলার লিফটের সামনের জানালার দুটি থাই গ্লাসের পার্ট খুলে ফেলে। সন্দেহজনক শব্দ শুনে ওই সময় দায়িত্বরত নিরাপত্তারক্ষী ফজলুল হক ও মিঠুন বাড়ৈ এবং কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাদের ধাওয়া করেন।'

নিরাপত্তারক্ষী ও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুর্বৃত্তরা ভবনের পেছন দিক দিয়ে পালিয়ে যায়। তারা জানালার একটি থাইগ্লাস নিয়ে যেতে সক্ষম হলেও অন্যটি ফেলে যায়। তবে দুর্বৃত্তরা কার্যালয়ের ভেতরে পুরোপুরি প্রবেশ করতে না পারায় কোনো নথিপত্র বা মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া যায়নি।'

সকাল ৮টার দিকে নিরাপত্তারক্ষীরা বিষয়টি প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে জানালে, তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলকে অবহিত করেন।

ঘটনাটি সম্পর্কে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল  বলেন, "আমার বিশ্বাস, এটি সাধারণ চুরির ঘটনা নয়; বরং নাশকতার চেষ্টা হতে পারে। আমার কার্যালয়কে টার্গেট করা হয়েছিল।"

নাশকতার সন্দেহের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, "বিগত কয়েকদিন ধরে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসকে ঘিরে চাকরিচ্যুত ও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত কতিপয় ব্যক্তি অনলাইনে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। আমার ধারণা, এই ঘটনাটি উসকে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের কোনো না কোনো ভূমিকা বা ইন্ধন থাকতে পারে।"

বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে জড়িত ও ইন্ধনদাতাদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে পুলিশের সুপ্রিম কোর্ট এলাকার উপ-কমিশনার (ডিসি) নুরুল আলমের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল। একইসঙ্গে প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে দ্রুত থানায় অভিযোগ দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহাদাত হোসাইন। তিনি জানান, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকের সীমানার কাঁটাতার কেটে দুর্বৃত্তরা ভেতরে প্রবেশ করেছিল।

এটি চুরি নাকি চুরির চেষ্টা- এমন প্রশ্নের জবাবে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, "যেহেতু জানালার দুটি থাইগ্লাস কেটে একটি নিয়ে গেছে, তাই এটিকে চুরিই বলা যায়। তবে বিকেল পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়নি।"

এদিকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন দুপুরে এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, অ্যাটর্নি জেনারেলের নির্দেশনা অনুযায়ী থানায় জিডি করার প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনকেও বিষয়টি তদন্ত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬


অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে থাইগ্লাস ‘চুরি’

প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬

featured Image

গভীর রাতে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের জানালার থাইগ্লাস খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা এটি চুরির ঘটনা হলেও অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল সন্দেহ করছেন, এটি সাধারণ কোনো চুরি নয়; বরং এর পেছনে 'নাশকতার' উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

শুক্রবার (১২ জুন)  দুপুরে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ও পুলিশ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি চলছে।

কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন টনার বর্ণনা দিয়ে জানান, 'রাত আনুমানিক সোয়া ১টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত ভবনের নিচতলা ও দোতলার লিফটের সামনের জানালার দুটি থাই গ্লাসের পার্ট খুলে ফেলে। সন্দেহজনক শব্দ শুনে ওই সময় দায়িত্বরত নিরাপত্তারক্ষী ফজলুল হক ও মিঠুন বাড়ৈ এবং কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাদের ধাওয়া করেন।'

নিরাপত্তারক্ষী ও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুর্বৃত্তরা ভবনের পেছন দিক দিয়ে পালিয়ে যায়। তারা জানালার একটি থাইগ্লাস নিয়ে যেতে সক্ষম হলেও অন্যটি ফেলে যায়। তবে দুর্বৃত্তরা কার্যালয়ের ভেতরে পুরোপুরি প্রবেশ করতে না পারায় কোনো নথিপত্র বা মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া যায়নি।'

সকাল ৮টার দিকে নিরাপত্তারক্ষীরা বিষয়টি প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে জানালে, তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলকে অবহিত করেন।

ঘটনাটি সম্পর্কে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল  বলেন, "আমার বিশ্বাস, এটি সাধারণ চুরির ঘটনা নয়; বরং নাশকতার চেষ্টা হতে পারে। আমার কার্যালয়কে টার্গেট করা হয়েছিল।"

নাশকতার সন্দেহের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, "বিগত কয়েকদিন ধরে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসকে ঘিরে চাকরিচ্যুত ও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত কতিপয় ব্যক্তি অনলাইনে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। আমার ধারণা, এই ঘটনাটি উসকে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের কোনো না কোনো ভূমিকা বা ইন্ধন থাকতে পারে।"

বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে জড়িত ও ইন্ধনদাতাদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে পুলিশের সুপ্রিম কোর্ট এলাকার উপ-কমিশনার (ডিসি) নুরুল আলমের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল। একইসঙ্গে প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে দ্রুত থানায় অভিযোগ দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহাদাত হোসাইন। তিনি জানান, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকের সীমানার কাঁটাতার কেটে দুর্বৃত্তরা ভেতরে প্রবেশ করেছিল।

এটি চুরি নাকি চুরির চেষ্টা- এমন প্রশ্নের জবাবে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, "যেহেতু জানালার দুটি থাইগ্লাস কেটে একটি নিয়ে গেছে, তাই এটিকে চুরিই বলা যায়। তবে বিকেল পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়নি।"

এদিকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন দুপুরে এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, অ্যাটর্নি জেনারেলের নির্দেশনা অনুযায়ী থানায় জিডি করার প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনকেও বিষয়টি তদন্ত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত