সংবাদ

ঋণনির্ভর, বাস্তবায়ন অযোগ্য, লুটপাটের বাজেট: জামায়াত


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম

ঋণনির্ভর, বাস্তবায়ন অযোগ্য, লুটপাটের বাজেট: জামায়াত
প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে জামায়াতর প্রতিক্রিয়া জানাতে সংবাদ সম্মেলন।

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে ‘ঋণনির্ভর, বাস্তবায়ন অযোগ্য ও লুটপাটের বাজেট’ আখ্যা দিয়েছে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামী।

শুক্রবার (১২ জুন) দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিক্রিয়া জানান সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটের আর্থিক সংস্থান করতে গিয়ে ৬ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয়ের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু সেই রাজস্ব কীভাবে আদায় করা হবে তা স্পষ্ট নয়। বাজেটের ঘাটতি ২ লাখ ৩৬ হাজার ২৫০ কোটি টাকা কোথা থেকে পূরণ করা হবে- সেটিও অস্পষ্ট।’

তিনি দাবি করেন, এই ঘাটতি ব্যাংক ঋণ থেকে পূরণ করা হবে, যা বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ স্থবির করে দেবে এবং কর্মসংস্থান কমিয়ে দেবে।

জামায়াত নেতা বলেন, ‘আইএমএফসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৫ শতাংশের নিচে রেখেছে, অথচ সরকার ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এটি একটি ফাঁপানো ও উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য।’

গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, ‘জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নের প্রতিফলন এ বাজেটে নেই। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার বাড়িয়ে ৩ লাখ কোটি টাকা করা হলেও পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা ও জাবাবদিহিতা নিশ্চিত না করায় দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি হবে।’

তিনি বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্তকে ‘অপরিণামদর্শী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘এসব সিদ্ধান্ত পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের নীতির কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।’

জামায়াত নেতা বলেন, ‘ন্যূনতম ব্যক্তিগত করের হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।’

তিনি এই বাজেটকে ‘গণবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘হঠকারিতার ভিত্তিতে প্রণীত এই বাজেট জনগণ মেনে নেবে না। অবাস্তবায়নযোগ্য, উচ্চাভিলাষী ও লুটপাটের সহায়ক এই বাজেট সংশোধন করে বিনিয়োগবান্ধব ও জনকল্যাণমূলক বাজেট প্রণয়নের দাবি জানাই।’

জামায়াতের ছায়া বাজেটের সঙ্গে সরকারি বাজেটের তুলনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমাদের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ছিল ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা, ঘাটতি ছিল ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা (জিডিপির ২.৪৩ শতাংশ)। সেখানে সরকারের ঘাটতি ৩.৫ শতাংশ। আমাদের ছায়া বাজেট জনকল্যাণমুখী ও সংস্কারভিত্তিক, সরকারের তুলনায় বেশি বাস্তবসম্মত ও কম ঝুঁকিপূর্ণ।’

তিনি অর্থবছর জানুয়ারি-ডিসেম্বর করার প্রস্তাবও পুনর্ব্যক্ত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম ও ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, ড. রেজাউল করিম, মু. আতাউর রহমান সরকার ও আব্দুস সাত্তার সুমন উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬


ঋণনির্ভর, বাস্তবায়ন অযোগ্য, লুটপাটের বাজেট: জামায়াত

প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬

featured Image

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে ‘ঋণনির্ভর, বাস্তবায়ন অযোগ্য ও লুটপাটের বাজেট’ আখ্যা দিয়েছে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামী।

শুক্রবার (১২ জুন) দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিক্রিয়া জানান সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটের আর্থিক সংস্থান করতে গিয়ে ৬ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয়ের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু সেই রাজস্ব কীভাবে আদায় করা হবে তা স্পষ্ট নয়। বাজেটের ঘাটতি ২ লাখ ৩৬ হাজার ২৫০ কোটি টাকা কোথা থেকে পূরণ করা হবে- সেটিও অস্পষ্ট।’

তিনি দাবি করেন, এই ঘাটতি ব্যাংক ঋণ থেকে পূরণ করা হবে, যা বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ স্থবির করে দেবে এবং কর্মসংস্থান কমিয়ে দেবে।

জামায়াত নেতা বলেন, ‘আইএমএফসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৫ শতাংশের নিচে রেখেছে, অথচ সরকার ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এটি একটি ফাঁপানো ও উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য।’

গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, ‘জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নের প্রতিফলন এ বাজেটে নেই। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার বাড়িয়ে ৩ লাখ কোটি টাকা করা হলেও পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা ও জাবাবদিহিতা নিশ্চিত না করায় দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি হবে।’

তিনি বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্তকে ‘অপরিণামদর্শী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘এসব সিদ্ধান্ত পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের নীতির কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।’

জামায়াত নেতা বলেন, ‘ন্যূনতম ব্যক্তিগত করের হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।’

তিনি এই বাজেটকে ‘গণবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘হঠকারিতার ভিত্তিতে প্রণীত এই বাজেট জনগণ মেনে নেবে না। অবাস্তবায়নযোগ্য, উচ্চাভিলাষী ও লুটপাটের সহায়ক এই বাজেট সংশোধন করে বিনিয়োগবান্ধব ও জনকল্যাণমূলক বাজেট প্রণয়নের দাবি জানাই।’

জামায়াতের ছায়া বাজেটের সঙ্গে সরকারি বাজেটের তুলনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমাদের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ছিল ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা, ঘাটতি ছিল ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা (জিডিপির ২.৪৩ শতাংশ)। সেখানে সরকারের ঘাটতি ৩.৫ শতাংশ। আমাদের ছায়া বাজেট জনকল্যাণমুখী ও সংস্কারভিত্তিক, সরকারের তুলনায় বেশি বাস্তবসম্মত ও কম ঝুঁকিপূর্ণ।’

তিনি অর্থবছর জানুয়ারি-ডিসেম্বর করার প্রস্তাবও পুনর্ব্যক্ত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম ও ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, ড. রেজাউল করিম, মু. আতাউর রহমান সরকার ও আব্দুস সাত্তার সুমন উপস্থিত ছিলেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত