সংবাদ

আইসক্রিমের বাক্সে সন্তানদের বড় হওয়ার স্বপ্ন


আফতাব হোসেন, গাইবান্ধা
আফতাব হোসেন, গাইবান্ধা
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম

আইসক্রিমের বাক্সে সন্তানদের বড় হওয়ার স্বপ্ন
গাইবান্ধার নুরে আলম দীর্ঘ ৩০ বছর আইসক্রিম ও ভাঙারি ফেরি করে সন্তানদের উচ্চশিক্ষিত করে এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন।

‘৩০ বছর থাকি গরমের সময় ফেরি করি আইসক্রিম বেচি। শীতের কয় মাস ভাংরির ব্যবসা করি। বাজারোত জিনিসপাতির দাম বাড়ি গ্যাচে। এই ট্যাকা দিয়া সংসার চলাতে অবস্থা কাহিল। তার ওপর ব্যাটা-বেটির লেখাপড়ার খরচ। আইসক্রিম বেচি ব্যাটা-বেটির লেখাপড়ার খরচ কুলব্যার পাচ্ছিনে।’

আঞ্চলিক ভাষায় নিজের জীবনসংগ্রামের কথাগুলো বলছিলেন ৫৮ বছর বয়সী নুরে আলম। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের সাতগিরি হিরোবাজার গ্রামে তার বাড়ি। দীর্ঘ তিন দশক ধরে ফেরি করে আইসক্রিম ও ভাঙারি মালের ব্যবসা করছেন তিনি। নিজের তিল তিল কষ্টের আয়ে বড় করেছেন দুই ছেলে ও এক মেয়েকে। দারিদ্র্যের কষাঘাতের মধ্যেও সন্তানদের শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত করেননি।

নুরে আলমের বড় ছেলে সবুজ মিয়া রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) পাস করেছেন। মেয়ে লুনা আক্তার রংপুরের সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজে বাংলা বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন। আর ছোট ছেলে শিহাব মিয়া স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণির ছাত্র।

নুরে আলমের সম্পদ বলতে শুধু ১৩ শতকের বসতভিটাটুকু। স্ত্রী শাহিনুর বেগমসহ পাঁচ সদস্যের সংসার চালাতে প্রতিদিন হিমশিম খেতে হয় তাকে। ভাঙারি ব্যবসায় দিনে ৩০০-৪০০ টাকা আর আইসক্রিম বিক্রি করে ২০০-৩০০ টাকা আয় হয়। বর্তমান বাজারে এই সামান্য আয়ে সংসার চালানো ও সন্তানদের পড়ার খরচ জোগানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া নুরে আলমের ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি প্রচণ্ড আগ্রহ ছিল। নিজে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়লেও টাকার অভাবে এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারেননি। সেই আক্ষেপ থেকেই প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, নিজে না পারলেও সন্তানদের সর্বোচ্চ শিক্ষিত করবেন।

নুরে আলম বলেন, ‘এখন মানুষের ঘরে ঘরে ফ্রিজ। মুদি দোকানেও আইসক্রিম পাওয়া যায়। তাই ফেরি করে আগের মতো আর বিক্রি হয় না। তারপরও যতদিন শরীরে শক্তি আছে আর সন্তানরা মানুষ না হচ্ছে, আমি এই লড়াই চালিয়ে যাব।’

বড় ছেলে সবুজ মিয়া আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘বাবা আমাদের জন্য যে কষ্ট করছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তার এই ত্যাগের মর্যাদা দিতে আমি এখন একটি চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছি, যাতে বাবার কাঁধ থেকে সংসারের ভারটা একটু হলেও নামাতে পারি।’


আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


আইসক্রিমের বাক্সে সন্তানদের বড় হওয়ার স্বপ্ন

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬

featured Image

‘৩০ বছর থাকি গরমের সময় ফেরি করি আইসক্রিম বেচি। শীতের কয় মাস ভাংরির ব্যবসা করি। বাজারোত জিনিসপাতির দাম বাড়ি গ্যাচে। এই ট্যাকা দিয়া সংসার চলাতে অবস্থা কাহিল। তার ওপর ব্যাটা-বেটির লেখাপড়ার খরচ। আইসক্রিম বেচি ব্যাটা-বেটির লেখাপড়ার খরচ কুলব্যার পাচ্ছিনে।’

আঞ্চলিক ভাষায় নিজের জীবনসংগ্রামের কথাগুলো বলছিলেন ৫৮ বছর বয়সী নুরে আলম। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের সাতগিরি হিরোবাজার গ্রামে তার বাড়ি। দীর্ঘ তিন দশক ধরে ফেরি করে আইসক্রিম ও ভাঙারি মালের ব্যবসা করছেন তিনি। নিজের তিল তিল কষ্টের আয়ে বড় করেছেন দুই ছেলে ও এক মেয়েকে। দারিদ্র্যের কষাঘাতের মধ্যেও সন্তানদের শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত করেননি।

নুরে আলমের বড় ছেলে সবুজ মিয়া রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) পাস করেছেন। মেয়ে লুনা আক্তার রংপুরের সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজে বাংলা বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন। আর ছোট ছেলে শিহাব মিয়া স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণির ছাত্র।

নুরে আলমের সম্পদ বলতে শুধু ১৩ শতকের বসতভিটাটুকু। স্ত্রী শাহিনুর বেগমসহ পাঁচ সদস্যের সংসার চালাতে প্রতিদিন হিমশিম খেতে হয় তাকে। ভাঙারি ব্যবসায় দিনে ৩০০-৪০০ টাকা আর আইসক্রিম বিক্রি করে ২০০-৩০০ টাকা আয় হয়। বর্তমান বাজারে এই সামান্য আয়ে সংসার চালানো ও সন্তানদের পড়ার খরচ জোগানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া নুরে আলমের ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি প্রচণ্ড আগ্রহ ছিল। নিজে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়লেও টাকার অভাবে এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারেননি। সেই আক্ষেপ থেকেই প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, নিজে না পারলেও সন্তানদের সর্বোচ্চ শিক্ষিত করবেন।

নুরে আলম বলেন, ‘এখন মানুষের ঘরে ঘরে ফ্রিজ। মুদি দোকানেও আইসক্রিম পাওয়া যায়। তাই ফেরি করে আগের মতো আর বিক্রি হয় না। তারপরও যতদিন শরীরে শক্তি আছে আর সন্তানরা মানুষ না হচ্ছে, আমি এই লড়াই চালিয়ে যাব।’

বড় ছেলে সবুজ মিয়া আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘বাবা আমাদের জন্য যে কষ্ট করছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তার এই ত্যাগের মর্যাদা দিতে আমি এখন একটি চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছি, যাতে বাবার কাঁধ থেকে সংসারের ভারটা একটু হলেও নামাতে পারি।’



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত