নরসিংদীর মনোহরদী এবং গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলাকে বিভক্ত করে রেখেছে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের শাখা। দুই জেলার সংযোগস্থলে একটি স্থায়ী সেতুর দাবি দীর্ঘদিনের। কারিগরি যাচাই ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হলেও রহস্যজনক কারণে প্রকল্পটি এখনো আলোর মুখ দেখেনি। ফলে দুই তীরের হাজারো মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এখন একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মনোহরদীর দৌলতপুর ইউনিয়নের রথখোলা বাজার এবং কাপাসিয়ার সনমানিয়া ইউনিয়নের মির্জানগর বাজারের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে এই নদ। প্রতিদিন দুই তীরের শিক্ষার্থী, কৃষক ও ব্যবসায়ীসহ কয়েক হাজার মানুষ প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করেন। বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। সেতু না থাকায় কৃষিপণ্য পরিবহনে বাড়তি খরচ ও সময় ব্যয় হওয়ায় লোকসান গুনছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, সেতুর গুরুত্ব বিবেচনায় কয়েক বছর আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রাথমিক সম্ভাব্যতা যাচাই ও মাটি পরীক্ষা (সয়েল টেস্ট) সম্পন্ন করে। ২০১৯ সালে বিষয়টি আলোচনায় এলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একটি প্রতিনিধিদল সরেজমিনে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চালায়। কিন্তু এরপর প্রকল্পের আর কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
মির্জানগর বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল কাদির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘শুনলাম সয়েল টেস্ট হলো, মাপজোখ হলো, কিন্তু সেতু তো হলো না। আমাদের ভাগ্য কি চিরকাল এই বাঁশের সাঁকোতেই ঝুলে থাকবে?’
এলাকাবাসীর দাবি, সেতুটি নির্মিত হলে নরসিংদী ও গাজীপুরের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের পাশাপাশি এলাকার আর্থসামাজিক অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।
মনোহরদী উপজেলা প্রকৌশলী হরষিত কুমার সাহা বলেন, ‘৩৮৫ দশমিক ৪ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পেলেই দ্রুত কাজ শুরু হবে।’
আপনার মতামত লিখুন