ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলোত্তি প্রথম ম্যাচের ড্র নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন নন। যদিও মেনে নিয়েছেন তার দল প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ। দলের দুর্বলতাগুলি চিহ্নিত করেছেন তিনি।
গতকাল ভোরে (বাংলাদেশ সময়) বিশ্বকাপের
‘সি’ গ্রুপের ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। আত্মবিশ্বাসী শুরুর পর, দুর্দান্ত
এক পাল্টা আক্রমণে এগিয়ে গেল মরক্কো। সেই ধাক্কা সামলে নিয়ে পাল্টা জবাব দিতে খুব বেশি
সময় নিলো না ব্রাজিল। অল্প সময়ের ব্যবধানে অসাধারণ দু’টি গোলে রোমাঞ্চকর এক লড়াইয়ের
সম্ভাবনা জাগলো, যদিও সময় গড়ানোর সঙ্গে তা কেবলই আরও ফিকে হলো।
মরক্কোর বিপক্ষে খেলতে নেমে ঘাবড়ে
গিয়েছিলো পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল! মরক্কোর আছে আটকে যাওয়ার এমনই ব্যাখ্যা
দিয়েছেন কোচ কার্লো আনচেলোত্তি।
প্রথম ম্যাচের চাপ সামলাতে পারেননি
মারকুইনহোস, কাসেমিরো, লুকাস পাকুয়েতারা। প্রথম ২০-২৫ মিনিট এলোমেলো ফুটবল খেলেন তারা।
ব্রাজিলকে দেখে সেই সময় ভারসাম্যহীন দল মনে হচ্ছিল। কেন এমন হলো? আনচেলোত্তি বলেছেন,
‘আমরা একদমই ভালো শুরু করতে পারিনি। ফুটবলারেরা একটু ঘাবড়ে গিয়েছিল। আমরা বল দখলে রাখতে
পারছিলাম না। বল দখলের লড়াইয়েও পিছিয়ে ছিলাম। প্রথমার্ধে আমরা খারাপ ফুটবলই খেলেছি।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের খেলায় অনেক উন্নতি হয়েছে। ম্যাচটা কঠিন ছিল। মরক্কো বেশ ভাল
দল। প্রথম দিকে আমাদের ফুটবলারেরা চাপে ছিল। সেই সুযোগ ভালো ভাবে কাজে লাগিয়েছে মরক্কো।
বার বার আক্রমণ করেছে।’
ইতালীয় কোচ প্রথম ম্যাচের ড্র
নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন নন। যদিও মেনে নিয়েছেন তার দল প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ। আনচেলোত্তি
বলেছেন, ‘আমরা একদমই ভালো খেলিনি। কোনো কোনো সময় দলের খেলা দেখে মনে হয়েছে কোনো ভারসাম্য
নেই। বল নিজেদের দখলে রাখতে পারিনি। আমাদের অনেক ভালো খেলতে হবে। এই ফলাফলে আমি হতাশ
নই। আবার সন্তুষ্টও নই। প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্সের উপর ভিত্তি করে বিশ্বকাপে সম্ভাবনা
বিচার করা যায় না।’
দলের দুর্বলতাগুলি চিহ্নিত করেছেন
আনচেলোত্তি। আশা করছেন, দ্বিতীয় ম্যাচে সমস্যা হবে না। ব্রাজিলকে অনেক ভাল দেখাবে।
উত্তাপহীন লড়াইয়ে পয়েন্ট ভাগাভাগি
গতকাল ভোরে নিউজার্সির মেটলাইফ
স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ‘সি’ গ্রুপের ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। ইসমায়েল
সাইবারির গোলে পিছিয়ে পড়ার পর, দারুণ নৈপুণ্যে সমতা টানেন ভিনিসিউস জুনিয়র। দুই দলই
ঘর সামলে আক্রমণের কৌশল নেয়ায় কখনোই তেমন গতিময় ফুটবলের দেখা মেলেনি। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে
ছয় ও সাত নম্বর দলের লড়াইয়ে দ্বিতীয়ার্ধে খেলার গতি কমে যায় আরও। এই অর্ধে গোলে আরও
সাতটি শট নেয় ষষ্ঠ স্থানে থাকা ব্রাজিল, মরক্কো দু’টি; কিন্তু প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের
কেউই তেমন আর পরীক্ষা নিতে পারেনি।
ম্যাচের শুরুর দিকে ব্রাজিল ছিল
এলোমেলো, মরক্কো বেশ গোছানো। প্রথম কয়েক মিনিটে খেলাও চলে ব্রাজিলের অর্ধে। এরপর ধীরে
ধীরে ওপরে উঠতে থাকে তারা। দ্বাদশ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার নিশ্চিত সুযোগও পায় তারা; কিন্তু
ভিনিসিউসের বাড়ানো ক্রস গোলমুখে পেয়ে ঠিকমতো হেড করতে পারেননি ইগোর থিয়াগো।
তাদের ওই হতাশা আরও বড় আকার ধারণ
করে ২১তম মিনিটে, চমৎকার এক প্রতি-আক্রমণে এগিয়ে যায় মরক্কো। মাঝমাঠ থেকে দারুণ এক
থ্রু বল বাড়ান ব্রাহিম দিয়াস, বলের গতি-প্রকৃতি ঠিকমতো বুঝতে না পেরে ডি-বক্সের বাইরে
চলে আসেন আলিসন, আর গতিতে দুই ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে চিপ শটে গোলরক্ষককের ওপর দিয়ে
ঠিকানা খুঁজে নেন সাইবারি।
বিশ্বকাপ অভিষেকেই জালের দেখা
পান পিএসভি আইন্দহোভেনের ২৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
ওই ধাক্কা সামলে ৩২তম মিনিটে
লক্ষ্যে প্রথম শট নিতে পারে ব্রাজিল এবং তা থেকেই দুর্দান্ত একটি গোল করেন ভিনিসিউস।
ব্রুনো গিমারেসের ফিরতি পাস ধরে, বক্সের বাঁ দিকে একজনের বাধা এড়িয়ে জোরাল শটে দূরের
পোস্ট দিয়ে গোলটি করেন রেয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড। জাতীয় দলের হয়ে ৫০ ম্যাচে এটি তার দশম
গোল, বিশ্বকাপে দ্বিতীয়।
দ্বিতীয়ার্ধে সময়ের সঙ্গে দুই
দল যেন আরও বেশি সতর্ক হয়ে পড়ে। কারো খেলাতেই তেমন ধার ছিল না, বারবার ভুল পাসে দুই
পাশেই সম্ভাবনাময় আক্রমণ ব্যর্থ হয়েছে।
ম্যাচের শেষ দিকে প্রতিপক্ষের
একটি শট ঝাঁপিয়ে ধরতে গিয়ে বল হাতে রাখতে পারেননি আলিসন, ছুটে গিয়ে শট নেন আইনাউই,
হাত বাড়িয়ে রুখে দেন লিভারপুল গোলরক্ষক।
এই ম্যাচের দুই গোলদাতা সাইবারি
ও ভিনিসিউস জাতীয় দলের হয়ে যেসব ম্যাচে গোল করেছেন, সেসব ম্যাচে কখনও হারেনি তাদের
দল। সেই ধারা বজায় রইল এখানেও।
আগামী শনিবার সকালে পরের ম্যাচে
হাইতির মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। ওই দিনই ভোরে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে মরক্কো।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬
ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলোত্তি প্রথম ম্যাচের ড্র নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন নন। যদিও মেনে নিয়েছেন তার দল প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ। দলের দুর্বলতাগুলি চিহ্নিত করেছেন তিনি।
গতকাল ভোরে (বাংলাদেশ সময়) বিশ্বকাপের
‘সি’ গ্রুপের ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। আত্মবিশ্বাসী শুরুর পর, দুর্দান্ত
এক পাল্টা আক্রমণে এগিয়ে গেল মরক্কো। সেই ধাক্কা সামলে নিয়ে পাল্টা জবাব দিতে খুব বেশি
সময় নিলো না ব্রাজিল। অল্প সময়ের ব্যবধানে অসাধারণ দু’টি গোলে রোমাঞ্চকর এক লড়াইয়ের
সম্ভাবনা জাগলো, যদিও সময় গড়ানোর সঙ্গে তা কেবলই আরও ফিকে হলো।
মরক্কোর বিপক্ষে খেলতে নেমে ঘাবড়ে
গিয়েছিলো পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল! মরক্কোর আছে আটকে যাওয়ার এমনই ব্যাখ্যা
দিয়েছেন কোচ কার্লো আনচেলোত্তি।
প্রথম ম্যাচের চাপ সামলাতে পারেননি
মারকুইনহোস, কাসেমিরো, লুকাস পাকুয়েতারা। প্রথম ২০-২৫ মিনিট এলোমেলো ফুটবল খেলেন তারা।
ব্রাজিলকে দেখে সেই সময় ভারসাম্যহীন দল মনে হচ্ছিল। কেন এমন হলো? আনচেলোত্তি বলেছেন,
‘আমরা একদমই ভালো শুরু করতে পারিনি। ফুটবলারেরা একটু ঘাবড়ে গিয়েছিল। আমরা বল দখলে রাখতে
পারছিলাম না। বল দখলের লড়াইয়েও পিছিয়ে ছিলাম। প্রথমার্ধে আমরা খারাপ ফুটবলই খেলেছি।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের খেলায় অনেক উন্নতি হয়েছে। ম্যাচটা কঠিন ছিল। মরক্কো বেশ ভাল
দল। প্রথম দিকে আমাদের ফুটবলারেরা চাপে ছিল। সেই সুযোগ ভালো ভাবে কাজে লাগিয়েছে মরক্কো।
বার বার আক্রমণ করেছে।’
ইতালীয় কোচ প্রথম ম্যাচের ড্র
নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন নন। যদিও মেনে নিয়েছেন তার দল প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ। আনচেলোত্তি
বলেছেন, ‘আমরা একদমই ভালো খেলিনি। কোনো কোনো সময় দলের খেলা দেখে মনে হয়েছে কোনো ভারসাম্য
নেই। বল নিজেদের দখলে রাখতে পারিনি। আমাদের অনেক ভালো খেলতে হবে। এই ফলাফলে আমি হতাশ
নই। আবার সন্তুষ্টও নই। প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্সের উপর ভিত্তি করে বিশ্বকাপে সম্ভাবনা
বিচার করা যায় না।’
দলের দুর্বলতাগুলি চিহ্নিত করেছেন
আনচেলোত্তি। আশা করছেন, দ্বিতীয় ম্যাচে সমস্যা হবে না। ব্রাজিলকে অনেক ভাল দেখাবে।
উত্তাপহীন লড়াইয়ে পয়েন্ট ভাগাভাগি
গতকাল ভোরে নিউজার্সির মেটলাইফ
স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ‘সি’ গ্রুপের ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। ইসমায়েল
সাইবারির গোলে পিছিয়ে পড়ার পর, দারুণ নৈপুণ্যে সমতা টানেন ভিনিসিউস জুনিয়র। দুই দলই
ঘর সামলে আক্রমণের কৌশল নেয়ায় কখনোই তেমন গতিময় ফুটবলের দেখা মেলেনি। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে
ছয় ও সাত নম্বর দলের লড়াইয়ে দ্বিতীয়ার্ধে খেলার গতি কমে যায় আরও। এই অর্ধে গোলে আরও
সাতটি শট নেয় ষষ্ঠ স্থানে থাকা ব্রাজিল, মরক্কো দু’টি; কিন্তু প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের
কেউই তেমন আর পরীক্ষা নিতে পারেনি।
ম্যাচের শুরুর দিকে ব্রাজিল ছিল
এলোমেলো, মরক্কো বেশ গোছানো। প্রথম কয়েক মিনিটে খেলাও চলে ব্রাজিলের অর্ধে। এরপর ধীরে
ধীরে ওপরে উঠতে থাকে তারা। দ্বাদশ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার নিশ্চিত সুযোগও পায় তারা; কিন্তু
ভিনিসিউসের বাড়ানো ক্রস গোলমুখে পেয়ে ঠিকমতো হেড করতে পারেননি ইগোর থিয়াগো।
তাদের ওই হতাশা আরও বড় আকার ধারণ
করে ২১তম মিনিটে, চমৎকার এক প্রতি-আক্রমণে এগিয়ে যায় মরক্কো। মাঝমাঠ থেকে দারুণ এক
থ্রু বল বাড়ান ব্রাহিম দিয়াস, বলের গতি-প্রকৃতি ঠিকমতো বুঝতে না পেরে ডি-বক্সের বাইরে
চলে আসেন আলিসন, আর গতিতে দুই ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে চিপ শটে গোলরক্ষককের ওপর দিয়ে
ঠিকানা খুঁজে নেন সাইবারি।
বিশ্বকাপ অভিষেকেই জালের দেখা
পান পিএসভি আইন্দহোভেনের ২৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
ওই ধাক্কা সামলে ৩২তম মিনিটে
লক্ষ্যে প্রথম শট নিতে পারে ব্রাজিল এবং তা থেকেই দুর্দান্ত একটি গোল করেন ভিনিসিউস।
ব্রুনো গিমারেসের ফিরতি পাস ধরে, বক্সের বাঁ দিকে একজনের বাধা এড়িয়ে জোরাল শটে দূরের
পোস্ট দিয়ে গোলটি করেন রেয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড। জাতীয় দলের হয়ে ৫০ ম্যাচে এটি তার দশম
গোল, বিশ্বকাপে দ্বিতীয়।
দ্বিতীয়ার্ধে সময়ের সঙ্গে দুই
দল যেন আরও বেশি সতর্ক হয়ে পড়ে। কারো খেলাতেই তেমন ধার ছিল না, বারবার ভুল পাসে দুই
পাশেই সম্ভাবনাময় আক্রমণ ব্যর্থ হয়েছে।
ম্যাচের শেষ দিকে প্রতিপক্ষের
একটি শট ঝাঁপিয়ে ধরতে গিয়ে বল হাতে রাখতে পারেননি আলিসন, ছুটে গিয়ে শট নেন আইনাউই,
হাত বাড়িয়ে রুখে দেন লিভারপুল গোলরক্ষক।
এই ম্যাচের দুই গোলদাতা সাইবারি
ও ভিনিসিউস জাতীয় দলের হয়ে যেসব ম্যাচে গোল করেছেন, সেসব ম্যাচে কখনও হারেনি তাদের
দল। সেই ধারা বজায় রইল এখানেও।
আগামী শনিবার সকালে পরের ম্যাচে
হাইতির মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। ওই দিনই ভোরে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে মরক্কো।

আপনার মতামত লিখুন