সংবাদ

বালাইনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহার

অধিক লাভের আশায় মাটির অপূরণীয় ক্ষতি


প্রতিনিধি, মধুপুর (টাঙ্গাইল)
প্রতিনিধি, মধুপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৬:৪৮ পিএম

অধিক লাভের আশায় মাটির অপূরণীয় ক্ষতি
ছবি : সংবাদ

টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়ে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ফসল চাষে অধিক লাভের আশায় মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও বালাইনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে বিপন্ন হচ্ছে মাটির স্বাস্থ্য, নষ্ট হচ্ছে উপকারী অণুজীব এবং হ্রাস পাচ্ছে উর্বরতা শক্তি। জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরির পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদন খরচও বেড়ে যাচ্ছে।

কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মধুপুর উপজেলায় প্রায় ৬০ হাজার ৮৪৩টি কৃষি পরিবার রয়েছে। এখানে আনারস, কলাসহ বিভিন্ন অর্থকরী ফসলের ব্যাপক আবাদ হয়। এ এলাকায় ১৪০টির বেশি কোম্পানির কীটনাশক ও বালাইনাশক বিক্রি হয়। বছরে এখানে প্রায় ২০০ কোটি টাকার বেশি কীটনাশক ও রাসায়নিকের বাণিজ্য হয় বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

মহিষমারা এলাকার কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, অধিক মুনাফার আশায় কৃষকেরা জেনেবুঝেই মাটির ক্ষতি করছেন। ঘাস মারার বিষ ও ক্ষতিকর রাসায়নিক স্প্রে করে মাটির স্বাস্থ্য ধ্বংস করা হচ্ছে। এতে জৈব সারের ব্যবহার কমে যাচ্ছে এবং মাটির স্থায়ী ক্ষতি হচ্ছে।

জলছত্র গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান (৬০) জানান, একটি আনারসের চারা রোপণ থেকে ফল পাকা পর্যন্ত ৪-৬ বার রাসায়নিক প্রয়োগ করতে হয়। তিনি বলেন, ‘রাসায়নিক ছাড়া আনারসের রং উজ্জ্বল হয় না, বাজারে নিলে পাইকারেরা দাম দিতে চায় না। একবার রাসায়নিক ছাড়া চাষ করে আমার লক্ষাধিক টাকা লোকসান হয়েছিল।’

মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, একটি আদর্শ ফসলি জমিতে অন্তত ৫ শতাংশ জৈব উপাদান থাকা প্রয়োজন। তবে দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ কৃষিজমিতে এখন জৈব উপাদানের ঘাটতি রয়েছে। মধুপুর গড়ের জমিতেও এর প্রভাব স্পষ্ট। অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে মাটির প্রাকৃতিক গঠন ভেঙে পড়ছে।

মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রকিব আল রানা বলেন, ‘মাটির সুস্বাস্থ্য কৃষির জন্য সবচেয়ে জরুরি। কৃষকদের সচেতন করতে আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছি। সেক্স ফেরোমন ও আঠালো ফাঁদ ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এ ছাড়া যত্রতত্র নিষিদ্ধ বালাইনাশক বিক্রি বন্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


অধিক লাভের আশায় মাটির অপূরণীয় ক্ষতি

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬

featured Image

টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়ে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ফসল চাষে অধিক লাভের আশায় মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও বালাইনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে বিপন্ন হচ্ছে মাটির স্বাস্থ্য, নষ্ট হচ্ছে উপকারী অণুজীব এবং হ্রাস পাচ্ছে উর্বরতা শক্তি। জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরির পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদন খরচও বেড়ে যাচ্ছে।

কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মধুপুর উপজেলায় প্রায় ৬০ হাজার ৮৪৩টি কৃষি পরিবার রয়েছে। এখানে আনারস, কলাসহ বিভিন্ন অর্থকরী ফসলের ব্যাপক আবাদ হয়। এ এলাকায় ১৪০টির বেশি কোম্পানির কীটনাশক ও বালাইনাশক বিক্রি হয়। বছরে এখানে প্রায় ২০০ কোটি টাকার বেশি কীটনাশক ও রাসায়নিকের বাণিজ্য হয় বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

মহিষমারা এলাকার কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, অধিক মুনাফার আশায় কৃষকেরা জেনেবুঝেই মাটির ক্ষতি করছেন। ঘাস মারার বিষ ও ক্ষতিকর রাসায়নিক স্প্রে করে মাটির স্বাস্থ্য ধ্বংস করা হচ্ছে। এতে জৈব সারের ব্যবহার কমে যাচ্ছে এবং মাটির স্থায়ী ক্ষতি হচ্ছে।

জলছত্র গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান (৬০) জানান, একটি আনারসের চারা রোপণ থেকে ফল পাকা পর্যন্ত ৪-৬ বার রাসায়নিক প্রয়োগ করতে হয়। তিনি বলেন, ‘রাসায়নিক ছাড়া আনারসের রং উজ্জ্বল হয় না, বাজারে নিলে পাইকারেরা দাম দিতে চায় না। একবার রাসায়নিক ছাড়া চাষ করে আমার লক্ষাধিক টাকা লোকসান হয়েছিল।’

মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, একটি আদর্শ ফসলি জমিতে অন্তত ৫ শতাংশ জৈব উপাদান থাকা প্রয়োজন। তবে দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ কৃষিজমিতে এখন জৈব উপাদানের ঘাটতি রয়েছে। মধুপুর গড়ের জমিতেও এর প্রভাব স্পষ্ট। অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে মাটির প্রাকৃতিক গঠন ভেঙে পড়ছে।

মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রকিব আল রানা বলেন, ‘মাটির সুস্বাস্থ্য কৃষির জন্য সবচেয়ে জরুরি। কৃষকদের সচেতন করতে আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছি। সেক্স ফেরোমন ও আঠালো ফাঁদ ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এ ছাড়া যত্রতত্র নিষিদ্ধ বালাইনাশক বিক্রি বন্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত