সংবাদ

বেনজীরকে দেশে ফেরাতে দুবাইয়ে যাচ্ছে প্রত্যর্পণ প্রস্তাব


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ১২:১১ পিএম

বেনজীরকে দেশে ফেরাতে দুবাইয়ে যাচ্ছে প্রত্যর্পণ প্রস্তাব

দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। তাকে সংযুক্ত আরব আমিরাত (দুবাই) থেকে ফেরাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণ প্রস্তাব তৈরি অনুমোদন করতে যাচ্ছে।

এরপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে এই প্রস্তাব দুবাইয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। মামলার প্রয়োজনীয় নথিপত্র গ্রেপ্তারি পরোয়ানার দলিলাদি প্রস্তুত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইন্টারপোলের রেড নোটিশের পর দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদ গ্রেপ্তার হওয়ায় এখন এই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আইন অনুযায়ী, কোনো আসামিকে গ্রেপ্তারের দিন থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণ প্রস্তাব বা নথিপত্র পাঠাতে হয়। বাংলাদেশের কাছ থেকে সব নথিপত্র পাওয়ার পর বেনজীর আহমেদকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন আমিরাতের আদালত।

গত রোববার জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন: "আমিরাতের আইন অনুযায়ী কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে বেনজীরকে প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করা হবে। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন। তাকে ফেরত আনতে কূটনৈতিক চ্যানেলে যোগাযোগ করে দ্রুত বাংলাদেশে নিয়ে আসা হবে।"

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০২৫ সালে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের আবেদন পাঠানো হয়েছিল। এরপর ইন্টারপোল তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে এবং আরব আমিরাতকে তাকে গ্রেপ্তারের অনুরোধ জানায়।

পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্র অনুযায়ী, গত এক বছরে বাংলাদেশ অন্তত ২৫ জনের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির আবেদন করেছে। এই তালিকায় ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর পরিবারের সদস্য, সাবেক মন্ত্রী, সাবেক উপদেষ্টা, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামিরা রয়েছেন।

দুদক কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইন্টারপোলের সহযোগিতা নিয়ে বেনজীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই প্রক্রিয়ায় দেশে আনার পর পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া বিচারকাজ শেষ করা হবে। তবে দেশে ফিরিয়ে আনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে দুদকের কাছে হস্তান্তর করা হবে কি না সে বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করেনি সংস্থাটি।

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার এবং র‍্যাবের মহাপরিচালক ছিলেন। উল্লেখ্য, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা পাওয়া র‍্যাবের সাত কর্মকর্তার মধ্যে বেনজীর আহমেদের নামও ছিল।

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


বেনজীরকে দেশে ফেরাতে দুবাইয়ে যাচ্ছে প্রত্যর্পণ প্রস্তাব

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬

featured Image

দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। তাকে সংযুক্ত আরব আমিরাত (দুবাই) থেকে ফেরাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণ প্রস্তাব তৈরি অনুমোদন করতে যাচ্ছে।

এরপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে এই প্রস্তাব দুবাইয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। মামলার প্রয়োজনীয় নথিপত্র গ্রেপ্তারি পরোয়ানার দলিলাদি প্রস্তুত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইন্টারপোলের রেড নোটিশের পর দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদ গ্রেপ্তার হওয়ায় এখন এই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আইন অনুযায়ী, কোনো আসামিকে গ্রেপ্তারের দিন থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণ প্রস্তাব বা নথিপত্র পাঠাতে হয়। বাংলাদেশের কাছ থেকে সব নথিপত্র পাওয়ার পর বেনজীর আহমেদকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন আমিরাতের আদালত।

গত রোববার জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন: "আমিরাতের আইন অনুযায়ী কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে বেনজীরকে প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করা হবে। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন। তাকে ফেরত আনতে কূটনৈতিক চ্যানেলে যোগাযোগ করে দ্রুত বাংলাদেশে নিয়ে আসা হবে।"

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০২৫ সালে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের আবেদন পাঠানো হয়েছিল। এরপর ইন্টারপোল তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে এবং আরব আমিরাতকে তাকে গ্রেপ্তারের অনুরোধ জানায়।

পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্র অনুযায়ী, গত এক বছরে বাংলাদেশ অন্তত ২৫ জনের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির আবেদন করেছে। এই তালিকায় ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর পরিবারের সদস্য, সাবেক মন্ত্রী, সাবেক উপদেষ্টা, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামিরা রয়েছেন।

দুদক কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইন্টারপোলের সহযোগিতা নিয়ে বেনজীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই প্রক্রিয়ায় দেশে আনার পর পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া বিচারকাজ শেষ করা হবে। তবে দেশে ফিরিয়ে আনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে দুদকের কাছে হস্তান্তর করা হবে কি না সে বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করেনি সংস্থাটি।

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার এবং র‍্যাবের মহাপরিচালক ছিলেন। উল্লেখ্য, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা পাওয়া র‍্যাবের সাত কর্মকর্তার মধ্যে বেনজীর আহমেদের নামও ছিল।

 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত