সংবাদ

শেবাচিম ঘিরে দালালদের দৌরাত্ম্য ও ক্লিনিক বাণিজ্য


প্রতিনিধি, বরিশাল
প্রতিনিধি, বরিশাল
প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম

শেবাচিম ঘিরে দালালদের দৌরাত্ম্য ও ক্লিনিক বাণিজ্য
ছবি : সংবাদ

বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম) ঘিরে দীর্ঘদিনের দালাল চক্র, রোগী বাণিজ্য এবং হাসপাতালের সামনে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি পুলিশের অভিযানে ৯ জন দালাল গ্রেপ্তার এবং প্রায় ২০০ অনিবন্ধিত কর্মচারীকে ছাঁটাইয়ের পর সামনে এসেছে একটি শক্তিশালী স্বার্থসংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কের চিত্র।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সরকারি হাসপাতালের ৩০০ মিটারের মধ্যে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা ক্লিনিক স্থাপনের সুযোগ নেই। তবে শেবাচিম হাসপাতালের প্রধান ফটকের উল্টো পাশেই সিটি করপোরেশনের মার্কেটে বছরের পর বছর ধরে পরিচালিত হচ্ছে একাধিক বেসরকারি ক্লিনিক, ফার্মেসি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এমনকি হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের মাত্র ৫০ মিটারের মধ্যেই গড়ে উঠেছে সিটি স্ক্যানসহ নানা পরীক্ষাকেন্দ্র। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর ভিত্তি করেই হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য বাড়ে।

শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মশিউল মুনীর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই হাসপাতালকে দালালমুক্ত করতে অভিযান চালাচ্ছেন। তিনি একাধিকবার বলেছেন, অসাধু দালাল চক্র সরকারি হাসপাতালের রোগীদের বিভ্রান্ত করে বাইরের বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠায়। এতে রোগীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং হাসপাতালের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়। হাসপাতালের এত কাছে এসব প্রতিষ্ঠান কীভাবে অনুমোদন পায়, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. লোকমান হাকিম জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের বিধান অনুযায়ী সরকারি হাসপাতালের অন্তত এক হাজার ফুট বা ৩০০ মিটারের মধ্যে বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার থাকার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, ‘১৯৮২ সালের এই নীতিমালাটি বর্তমান বাস্তবতায় হালনাগাদ করা প্রয়োজন। তবে মন্ত্রণালয় থেকে শক্তিশালী নির্দেশনা ও কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।’

সচেতন নাগরিকদের মতে, হাসপাতালের সামনেই বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র থাকায় কমিশনভিত্তিক ‘রেফারেল’ বাণিজ্য ও দালাল চক্র সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পায়। এক হাজার শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে তিন হাজারের বেশি রোগী ভর্তি থাকেন। দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় দুই কোটি মানুষের এই প্রধান ভরসাস্থলকে ঘিরে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট ভাঙতে শুধু দালাল গ্রেপ্তার নয়, বরং নীতিমালার কঠোর প্রয়োগ ও অবৈধ ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে জোরালো পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬


শেবাচিম ঘিরে দালালদের দৌরাত্ম্য ও ক্লিনিক বাণিজ্য

প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬

featured Image

বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম) ঘিরে দীর্ঘদিনের দালাল চক্র, রোগী বাণিজ্য এবং হাসপাতালের সামনে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি পুলিশের অভিযানে ৯ জন দালাল গ্রেপ্তার এবং প্রায় ২০০ অনিবন্ধিত কর্মচারীকে ছাঁটাইয়ের পর সামনে এসেছে একটি শক্তিশালী স্বার্থসংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কের চিত্র।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সরকারি হাসপাতালের ৩০০ মিটারের মধ্যে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা ক্লিনিক স্থাপনের সুযোগ নেই। তবে শেবাচিম হাসপাতালের প্রধান ফটকের উল্টো পাশেই সিটি করপোরেশনের মার্কেটে বছরের পর বছর ধরে পরিচালিত হচ্ছে একাধিক বেসরকারি ক্লিনিক, ফার্মেসি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এমনকি হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের মাত্র ৫০ মিটারের মধ্যেই গড়ে উঠেছে সিটি স্ক্যানসহ নানা পরীক্ষাকেন্দ্র। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর ভিত্তি করেই হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য বাড়ে।

শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মশিউল মুনীর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই হাসপাতালকে দালালমুক্ত করতে অভিযান চালাচ্ছেন। তিনি একাধিকবার বলেছেন, অসাধু দালাল চক্র সরকারি হাসপাতালের রোগীদের বিভ্রান্ত করে বাইরের বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠায়। এতে রোগীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং হাসপাতালের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়। হাসপাতালের এত কাছে এসব প্রতিষ্ঠান কীভাবে অনুমোদন পায়, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. লোকমান হাকিম জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের বিধান অনুযায়ী সরকারি হাসপাতালের অন্তত এক হাজার ফুট বা ৩০০ মিটারের মধ্যে বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার থাকার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, ‘১৯৮২ সালের এই নীতিমালাটি বর্তমান বাস্তবতায় হালনাগাদ করা প্রয়োজন। তবে মন্ত্রণালয় থেকে শক্তিশালী নির্দেশনা ও কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।’

সচেতন নাগরিকদের মতে, হাসপাতালের সামনেই বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র থাকায় কমিশনভিত্তিক ‘রেফারেল’ বাণিজ্য ও দালাল চক্র সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পায়। এক হাজার শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে তিন হাজারের বেশি রোগী ভর্তি থাকেন। দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় দুই কোটি মানুষের এই প্রধান ভরসাস্থলকে ঘিরে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট ভাঙতে শুধু দালাল গ্রেপ্তার নয়, বরং নীতিমালার কঠোর প্রয়োগ ও অবৈধ ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে জোরালো পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত