চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে ‘সম্পর্কে’ জড়িয়ে শেষমেশ চাকরি হারালেন পুলিশের অতিরিক্ত এসপি গোলাম সাকলায়েন শিথিল।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘অসদাচরণের প্রমাণিত অভিযোগের’ গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা মোতাবেক তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হলো।
২০২১ সালের ১৪ জুন ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে মামলা করেন পরীমনি। সেই মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তখন ডিবির এডিসি ছিলেন সাকলায়েন।
ঘটনার মাস দুয়েক পর ৪ আগস্ট পরীমনির বনানীর বাসায় অভিযান চালায় র্যাব। সেদিন পরীমনি ও তার সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দীপুকে আটক করা হয়। সেই রাতেই বনানী থেকে আটক করা হয় চলচ্চিত্র প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজ ও তার ব্যবস্থাপক সবুজ আলীকে।
পরদিন তাদের বনানী থানায় হস্তান্তর করে মাদক আইন ও পর্নগ্রাফি আইনে একাধিক মামলা করা হয়।
পরীমনির বাসায় অভিযান নিয়ে তুমুল আলোচনার মধ্যে সংবাদমাধ্যমে বলা হয়, ওই অভিযানের তিন দিন আগে তৎকালীন গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তা গোলাম সাকলায়েনের সরকারি বাসায় ‘প্রায় ১৮ ঘণ্টা সময় কাটান’ পরীমনি।
একই বছরের ১ আগস্ট সকালে পরীমনি নিজের গাড়ি নিয়ে সাকলায়েনের বাসায় যান এবং গভীর রাতে বেরিয়ে আসেন। গাড়ি থেকে নেমে তাদের দুজনের বাসায় ঢোকা এবং মধ্যরাতে ভিন্ন পোশাকে নিচে নেমে আসার সিসিটিভি ভিডিও দেখানো হয় সংবাদ প্রতিবেদনে।
এরপর সাকলায়েনকে ডিবি থেকে পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিওএম) পশ্চিম বিভাগে বদলি করা হয়।
অবসরে পাঠানোর প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সাকলায়েন দায়িত্বে থাকা অবস্থায় পরীমনির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ান। তিনি বিবাহিত ও এক সন্তানের জনক হওয়া সত্ত্বেও পরীমনির সঙ্গে জন্মদিন উদযাপন ও নিজের সরকারি বাসভবনে স্ত্রীর অবর্তমানে সময় কাটানোর ঘটনা ঘটান।
‘এসব ঘটনা বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমে আসায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়।’২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার ৩ (খ) বিধি মোতাবেক ‘অসদাচরণের’ অভিযোগে বিভাগীয় মামলা হয়। তিন মাস পর জবাব দেন সাকলায়েন। একই বছরের ২৩ আগস্ট তার ব্যক্তিগত শুনানি হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সাকলায়েন বর্তমানে পুলিশের ইন সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বুধবার রাষ্ট্রপতি তার চাকরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর’ অনুমোদন করেন।

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬
চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে ‘সম্পর্কে’ জড়িয়ে শেষমেশ চাকরি হারালেন পুলিশের অতিরিক্ত এসপি গোলাম সাকলায়েন শিথিল।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘অসদাচরণের প্রমাণিত অভিযোগের’ গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা মোতাবেক তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হলো।
২০২১ সালের ১৪ জুন ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে মামলা করেন পরীমনি। সেই মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তখন ডিবির এডিসি ছিলেন সাকলায়েন।
ঘটনার মাস দুয়েক পর ৪ আগস্ট পরীমনির বনানীর বাসায় অভিযান চালায় র্যাব। সেদিন পরীমনি ও তার সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দীপুকে আটক করা হয়। সেই রাতেই বনানী থেকে আটক করা হয় চলচ্চিত্র প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজ ও তার ব্যবস্থাপক সবুজ আলীকে।
পরদিন তাদের বনানী থানায় হস্তান্তর করে মাদক আইন ও পর্নগ্রাফি আইনে একাধিক মামলা করা হয়।
পরীমনির বাসায় অভিযান নিয়ে তুমুল আলোচনার মধ্যে সংবাদমাধ্যমে বলা হয়, ওই অভিযানের তিন দিন আগে তৎকালীন গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তা গোলাম সাকলায়েনের সরকারি বাসায় ‘প্রায় ১৮ ঘণ্টা সময় কাটান’ পরীমনি।
একই বছরের ১ আগস্ট সকালে পরীমনি নিজের গাড়ি নিয়ে সাকলায়েনের বাসায় যান এবং গভীর রাতে বেরিয়ে আসেন। গাড়ি থেকে নেমে তাদের দুজনের বাসায় ঢোকা এবং মধ্যরাতে ভিন্ন পোশাকে নিচে নেমে আসার সিসিটিভি ভিডিও দেখানো হয় সংবাদ প্রতিবেদনে।
এরপর সাকলায়েনকে ডিবি থেকে পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিওএম) পশ্চিম বিভাগে বদলি করা হয়।
অবসরে পাঠানোর প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সাকলায়েন দায়িত্বে থাকা অবস্থায় পরীমনির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ান। তিনি বিবাহিত ও এক সন্তানের জনক হওয়া সত্ত্বেও পরীমনির সঙ্গে জন্মদিন উদযাপন ও নিজের সরকারি বাসভবনে স্ত্রীর অবর্তমানে সময় কাটানোর ঘটনা ঘটান।
‘এসব ঘটনা বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমে আসায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়।’২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার ৩ (খ) বিধি মোতাবেক ‘অসদাচরণের’ অভিযোগে বিভাগীয় মামলা হয়। তিন মাস পর জবাব দেন সাকলায়েন। একই বছরের ২৩ আগস্ট তার ব্যক্তিগত শুনানি হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সাকলায়েন বর্তমানে পুলিশের ইন সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বুধবার রাষ্ট্রপতি তার চাকরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর’ অনুমোদন করেন।

আপনার মতামত লিখুন